যোগ্যদের বেছে নেয়া হবে সম্মেলনে

ঢাকা, শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২১ ১৪২৬,   ১০ শা'বান ১৪৪১

Akash

সাক্ষাৎকারে হানিফ

যোগ্যদের বেছে নেয়া হবে সম্মেলনে

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:২৪ ১২ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৫:৩০ ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ

মাহাবুব উল আলম হানিফ এমপি, পেশায় ব্যবসায়ী হয়েও রাজনীতির মাঠে বেশ সরব। নিষ্ঠার সঙ্গে তিন তিনবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি ছিলেন তিনি। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি নির্বাচিত হন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আ.রহিম সড়ক কোর্ট পাড়া এলাকায় পৈতৃক বাড়িতে ১৯৫৯ সালের ২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় এবং আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন নিয়ে মাহাবুব উল আলম হানিফ ডেইলি বাংলাদেশ- এর সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাফর আহমেদ-
 
আপনার সাংগঠনিক বিভাগ ও জেলার রাজনৈতিক অবস্থা কেমন? এ প্রশ্নের উত্তরে মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, চট্টগ্রামের সাংগঠনিক অবস্থা সবসময় একটু জটিল। এ মহানগরে রাজনীতির একটা মেরুকরুণ হয়েছে। কুমিল্লা ও নোয়াখালীতেও সমস্যা ছিল। চেষ্টা করেছি সমাধানের। কিছুটা সমাধানও হয়েছে। যেসব জায়গায় জটিলতা ছিল তা সমাধানের জন্য কাজ করেছি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিভাজন সমস্যা ছিল। মাঝে একটা কর্মী সভায় মঞ্চে বসা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সম্মেলন চলার সময় অনেকেই মঞ্চে ওঠেন। তাদের নামতে বলা হয়, কাউকে নির্দিষ্টভাবে বা কারো নাম উল্লেখ করে বলা হয়নি। পরে শুনেছি প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী মঞ্চে ছিলেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি বলি বিষয়টা খারাপ হয়েছে। ভুল বোঝাবুঝির অবসান করতে বলা হয়েছিল। তবে এখন তার সমাধান হয়েছে।

গত মেয়র নির্বাচনে আপনার সাংগঠনিক এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী পরাজিত হয়েছিল, সেখানে সাংগঠনিক কাঠামো কিছুটা দুর্বল কি-না? জবাবে মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন, সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল- এটা ঠিক না। কিন্তু সিলেটে মেয়র নির্বাচনের সময় অভ্যন্তরীণ কোন্দলটা প্রকোট ছিল। যে কারণে আমাদের সমর্থিত মেয়র প্রার্থী নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। সরকার এবার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। এর ধারাবাহিকতায় সাবেক অর্থমন্ত্রী সিলেটেও প্রচুর অর্থ বরাদ্দ দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান মেয়র আরিফ সেই উন্নয়ন নিজেই করেছেন বলে প্রচার চালান। তার নিজের অর্থে করেছে বলে প্রচার করেন। এ কারণে সাধারণ মানুষ মনে করেছে এলাকার উন্নয়ন আরিফ সাহেব করেছেন। সে উন্নয়নের কারণে সেখানকার জনগণ উন্নয়নের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।

দুর্নীতির কারণে সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতি ও সুনামের ক্ষতি হয় কি না? জবাবে হানিফ বলেন, একজন  রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে সবসময় বলি দুর্নীতিকে কঠোরভাবে দমন করা হোক। দুর্নীতির কারণে দেশের সব উন্নয়নের সুফল দেখা যায় না। যদি দুর্নীতি বন্ধ করা যায় তাহলে সরকারের উন্নয়নের সুফল দেশের জনগণ ভোগ করতে পারবে। সরকারের যে সুনাম আছে তা বজায় থাকবে।  

আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নিষ্ক্রিয়দের অবস্থান কোথায়? এ বিষয়ে হানিফ বলেন, প্রতিটা সম্মেলনে যারা দল চালানোর জন্য যোগ্য তাদের বেছে নেয়া হবে। দলের মধ্যে যারা নিষ্ক্রিয় ও দল চালাতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের ঝড়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে কি না? এ ব্যাপারে হানিফ বলেন, কাউন্সিলের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। কাউন্সিলে মঞ্চ ও সাজসজ্জা, ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র , সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং রিপোর্ট পেশসহ অনেকগুলো পর্যায়ে রয়েছে। এসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দুই-একটা বাকি আছে তাও শেষ পর্যায়ে। সম্মেলনে ৬-৭ হাজার কাউন্সিলার এবং ২৫-৩০ হাজারের মতো ডেলিগেট থাকবে।

সম্মেলনে বিদেশি কোনো অতিথি থাকবে কি না এবং মুজিববর্ষকে ঘিরে আওয়ামী লীগের কর্মপরিকল্পনা কি? 

হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে বিদেশি কোনো অতিথি থাকবেন না। বিদেশি অতিথি থাকবেন মুজিববর্ষে। তবে মুজিববর্ষে আমরা যারা অংশ গ্রহণ করতে পারবো- তাদের জন্য এটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাটা জীবন দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। বঙ্গবন্ধু না এলে এই স্বাধীনতা পেতাম না।

তিনি বলেন, বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ করা হয়েছে। এরইমধ্যে জাতিসংঘ, ইউনেস্কো থেকেও সাড়া পাওয়া গেছে। এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জাআ/এমআরকে