যে ভাষায় কথা বলেন শুধুই তিনজন

ঢাকা, রোববার   ২৯ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৫ ১৪২৬,   ০৪ শা'বান ১৪৪১

Akash

যে ভাষায় কথা বলেন শুধুই তিনজন

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৩৭ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

ধরুন, আপনি যে ভাষায় কথা বলেন তা বুঝতে পারেন শুধু মাত্র দুজন। তামাম দুনিয়া খুঁজলেও আর কাউকে পাওয়া যাবে না। উদাহরণটা অবাক করার মতো হলেও, এমনটা বাস্তবে ঘটছে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের বরফাচ্ছাদিত দুর্গম পার্বত্য এলাকায়। ‘বাদেশি’ নামের একটি ভাষায় কথা বলেন এমন তিনজনই বর্তমানে জীবিত রয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে তাদের মৃত্যুর পর পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে এ ভাষা।

রহিম গুল, সাইদ গুল ও আলী শের—এ তিনজন হলেন ‘বাদেশি’র শেষ ভাষাভাষি। বিশিগ্রাম ভ্যালিতে তিনজন বয়স্ক ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া গেছে। ওই এলাকায় এখন তরওয়ালি ভাষার দাপট বেশি। অথচ এক সময় সেখানে ‘বাদেশি’ এই ভাষা একসময় ব্যাপক চর্চা হতো। সাইদ গুল (৫২) বলেন, অমাদের গ্রাম খুবই সুন্দর। শুরুতে ৯ থেকে ১০ টি পরিবার এ ভাষায় কথা বলতো। কিন্তু অন্যান্য এলাকা থেকে আমাদের অঞ্চলে ভিন্ন ভাষী লোক আসার করণে এ ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

রহিম গুলের বয়স এখন ৭২। অসুস্থ হয়ে বিছানায়। তিনি বলেন, আমাদের গ্রামের পুরুষরা যখন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বিয়ে করা শুরু করলো, তখনই ভাষা পরিবর্তন হতে শুরু করে। ওই নারীদের বেশিরভাগের ভাষা ছিল তরওয়ালি। দেখা যেত, মায়ের ভাষায় কথা বলা শুরু করে তার ছেলেমেয়েরা। এখন আমাদের মুখের ভাষার প্রচলন একেবারেই নেই।

বিশিগ্রাম ভ্যালি

পাকিস্তানের ভাষা বিশেষজ্ঞ সাগর জামান বলেন, আমি যতবার বিশিগ্রামে গেছি বাদেশি ভাষ তিনজন ছাড়া অন্য কারো মুখে শুনিনি। সেখানে তরওয়ালি ও পশতু ভাষায় কথা বলা ব্যক্তিরা বাদেশি ভাষার লোকজনকে অবজ্ঞার চোখে দেখে। এ কারণে বাদেশি ভাষাভাষীর লোকজন এ ভাষায় কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন।

এরকম হারিয়ে যেতে বসা ভাষার তালিকায় থাকা আরেকটি ভাষা হলো এনজেরেপ। একসময় আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে প্রচলিত ছিল এ ভাষা। এখন এ ভাষায় কথা বলার মানুষ টিকে আছে মাত্র চার জন। নাইজেরিয়ার সেই চারজনের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়স যার, তিনি ষাট বসন্ত পার করেছেন। এ চারজনের মৃত্যুতে যে এনজেরেপ ভাষাটিও মৃত্যুবরণ করবে তা বলাই যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে