যে কারণে ম্যান অফ দা টুর্নামেন্ট হননি সাকিব 
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=119703 LIMIT 1

ঢাকা, রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৬ ১৪২৭,   ০২ সফর ১৪৪২

যে কারণে ম্যান অফ দা টুর্নামেন্ট হননি সাকিব 

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৮ ১৫ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৯:৩৬ ২০ জুন ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিটি বিশ্বকাপে ম্যান অফ দা টুর্নামেন্ট পুরস্কারের উপর থাকে সকলের আলাদা আকর্ষন। এবারের বিশ্বকাপে টুর্নামেন্ট সেরা হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল সাকিব আল হাসানের নাম। নিজের দুর্দান্ত অল-রাউন্ড নৈপূণ্যে দারুণভাবে তিনি চমকে দিয়েছেন ক্রিকেটবিশ্বকে। টাইগারপ্রেমিরাও সাকিবকে নিয়ে আশায় মেতেছিলেন।

কিন্তু গতকাল ফাইনাল শেষে ম্যান অফ দা টুর্নামেন্টের পুরষ্কার পেয়েছেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। সাকিবকে এই পুরস্কার না দেওয়ার কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা প্রকাশ করেছেন নিজেদের ক্ষোভ।

কিন্তু কেন উইলিয়ামসনকে ম্যান অফ দা টুর্নামেন্টের পুরস্কার দেওয়া হলো?

এর প্রধান কারণ ছিল উইলিয়ামসনের ব্যাটিং। টুর্নামেন্টের সেরা রান সংগ্রাহকদের তালিকার দিকে তাকালে মনে হতে পারে উইলিয়ামসনের রান খুব বেশি নয়। তবে তার এই রানেই নিউজিল্যান্ড বেশ কয়েকবার ম্যাচ বাঁচিয়েছে। 

নিউজিল্যান্ড প্রথম তিন ম্যাচ জিতে দুর্দান্তভাবে শুরু করে এই টুর্নামেন্ট। প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে ১০ উইকেটে জয় ছাড়া নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি বাকি টুর্নামেন্টে ছিল ফ্লপ। 

ছবি: সংগৃহীত

বলা যায় বারবার ব্যাট হাতে নিউজিল্যান্ডের ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন কেন উইলিয়ামসন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭৯ ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০৬ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৪৮ রান তোলেন নিউজিল্যান্ডের এই অধিনায়ক। মূলত প্রথম পাঁচ ম্যাচের জয়ই নিউজিল্যান্ডকে সেমিফাইনালে উঠতে সাহায্য করে।

সেমিফাইনালেও ভারতের বিপক্ষে ৬৭ রানের একটি ইনিংস খেলেন, যা পরবর্তীতে ম্যাচ জেতাতে বড় ভূমিকা পালন করে। ফাইনাল ম্যাচে অবশ্য ৩০ রানের বেশি করতে পারেননি কেন উইলিয়ামসন।

দুর্দান্ত অধিনায়কত্ব ছিল কেন উইলিয়ামসনের এই স্বীকৃতি প্রাপ্তির আরেক বড় কারণ। তার অধিনায়কত্বের প্রশংসা হয়েছে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৮০ রানে ৪ উইকেট গেলে দলের হাল ধরেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৭ রানে ২ উইকেট হারালে সেদিনও উইলিয়ামসন এসে ইনিংস মেরামতের কাজ করেন। ব্যাট হাতে নেতৃত্বের পাশাপাশি দলকে অন দা ফিল্ডেও ভালোভাবেই নেতৃত্ব দেন উইলিয়ামসন। 

সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ফিফটি করার পর ২৪০ রানের পুঁজি ডিফেন্ড করতে দারুণভাবে দলকে উজ্জীবিত করেন কেন। রবীন্দ্র জাদেজা ও মাহেন্দ্র সিং ধোনির জুটি জয়ের দিকে এগুচ্ছিল যখন মিচেল স্যান্টনারকে দারুণভাবে ব্যবহার করেন উইলিয়ামসন। 

মার্টিন ক্রোর পর নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই পুরষ্কার পেলেন কেন উইলিয়ামসন। 

যে কারণে পাননি সাকিব 
সাকিব আল হাসান এই বিশ্বকাপ তো বটেই, বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাকিব আল হাসানের দল বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট শেষ করে আট নম্বরে থেকে। মূলত এটাই তার অপ্রাপ্তির প্রধান কারণ বলা যেতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত

ম্যান অফ দা টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রে দেখা হয় ব্যক্তির সাফল্য দলের সাফল্যে কতটা প্রভাব পড়েছে। দলের ব্যর্থতাই সাকিবকে পিছিয়ে দিয়েছে সবকিছু থেকে। 

আরেকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ম্যান অফ দা টুর্নামেন্ট দেয়া হচ্ছে ১৯৯২ সাল থেকে। এ পর্যন্ত যত বিশ্বকাপ হয়েছে সেখানে অন্তত সেমিফাইনাল যারা খেলেছে তাদের মধ্য থেকেই বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন।

এর আগে যারা ম্যান অফ দা টুর্নামেন্ট হয়েছেন 
বিশ্বকাপে ম্যান অফ দা টুর্নামেন্ট দেয়া হচ্ছে ১৯৯২ সাল থেকে। সেবার টুর্নামেন্ট সেরার পুরষ্কার জিতেছিলেন মার্টিন ক্রো, ৪৫৬ রান করেছিলেন তিনি। তার দল খেলেছিল সেমিফাইনাল। 

১৯৯৬ সালে টুর্নামেন্ট সেরা হন সনৎ জয়সুরিয়া। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয় শ্রীলংকা। ব্যাট হাতে ২২১ রানের সঙ্গে নেন ৭ উইকেট। 

১৯৯৯ সালে ম্যান অফ দা টুর্নামেন্ট হন ল্যান্স ক্লুজনার। সেমিফাইনালে নাটকীয়ভাবে হেরে যায় তার দল, দক্ষিণ আফ্রিকা। সেবার ২৮১ রানের পাশাপাশি বল হাতে ক্লুজনার নিয়েছিলেন ১৭ উইকেট।

২০০৩ সালে ব্যাটিং ইতিহাসে বিশ্বকাপের সেরা একটি পারফরম্যান্স দেখান শচীন টেন্ডুলকার। ব্যাট হাতে এখনো পর্যন্ত এক বিশ্বকাপের রেকর্ড ৬৭৩ রান নিয়েছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারত হারলেও ম্যান অফ দা টুর্নামেন্ট পুরস্কার ওঠে তার হাতেই। 

২০০৭ সালে চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলার গ্লেন ম্যাকগ্রা ২৬ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট সেরার পুরষ্কার পান।

২০১১ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হন যুবরাজ সিং। ব্যাট হাতে ৩৬২ রান ও বল হাতে ১৫ উইকেট নেন তিনি। সাকিব আল হাসানের এবারের পারফরম্যান্সের আগে যুবরাজ সিংয়ের এই পরিসংখ্যান ছিল বিশ্বকাপের সেরা অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। 
২০১৫ সালে আবারো চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া। সেবার ২২ উইকেট নিয়ে মিচেল স্টার্ক পান সেরা ক্রিকেটারের পুরষ্কার।

ছবি: সংগৃহীত

এই বিশ্বকাপে কেমন ছিল সাকিবের সাফল্য
২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে সাকিব ব্যাট হাতে মাঠে নামেন মোট আটটি ম্যাচে। ৮৬.৫৭ গড়ে করেছেন ৬০৬ রান। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গড় সাকিবের। বল হাতে সাকিব ৮ ম্যাচে নিয়েছেন ১১ উইকেট। বল ও ব্যাট উভয় মাধ্যমেই দলের তিনটি জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন সাকিব। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ইতিহাসে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ৬০০ এর ওপর রান ও ১০ এর বেশি উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান।

তবে এতকিছুর পরেও দলীয় সাফল্যে এবারের বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পান কেন উইলিয়ানসনই। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল/সালি