Alexa যে কারণে নারীবাদে জড়ায় পুরুষরাও

ঢাকা, শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ১০ ১৪২৬,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

যে কারণে নারীবাদে জড়ায় পুরুষরাও

 প্রকাশিত: ২১:১৫ ২৬ এপ্রিল ২০১৮   আপডেট: ২১:৪৪ ২৬ এপ্রিল ২০১৮

নারীর অধিকার, নারীর জাগরণ, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী-পুরুষের সমতা চারদিক থেকে এ কথাগুলো শুনতে শুনতে আমাদের শ্রবণশক্তিতে হ্রাস পড়ে। তিক্ত হয়ে যায় আমাদের হৃদয়। যার কারণে নারীর প্রতি আমাদের এক ধরণের অনুভবতা কাজ করে। আর ওই শব্দগুলোকে কেন্দ্র করে বহু প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন গড়ে উঠেছে। যার প্রেক্ষিতে নারীবাদী নামে একটি শ্রেণির নামকরণও করা হয়েছে।

নারীরা সবাই তো অবশ্যই নারীবাদী, কিন্তু পুরুষরাও পুরুষবাদী নয়, তাদের অধিকাংশই নারীবাদী সমিতির সদস্য। আইন-আদালতও নারীর পক্ষে। এতকিছু সত্বেও সবসময় সমাজে নারীদের শূন্যতাই বিরাজ করে। এ শূন্যতার জন্যও দায়ী নারী ও নারীবাদীরা। কারণ তারা কখনও স্পষ্ট করে করে বলে না তারা কি চায়। সমাজ ও রাষ্ট্রে কিভাবে দেখতে চায় নারীকে।

স্বাভাবিকভাবে সমাজে আমরা দেখি সকল ক্ষেত্রে নারীরা অগ্রাধিকারই পায়। এরপরও অসন্তুষ্ট নারীবাদীরা। একজন নারী ও একজন পুরুষ উভয়ের সম্মতিতে যখন অবৈধ মেলামেশায় লিপ্ত হয় তখন নারীর চেয়ে পুরুষটির শাস্তির পরিমাণ অনেক কঠোর ও কঠিন হয়, সে মুহূর্তে পুরুষটির প্রতি অন্যায় হয়েছে বলে কেউ প্রতিবাদ করে না, নারীবাদীরাও নয়। সকলেই নীরব ভূমিকা পালন করে সে ক্ষণে। চুরি, কাজে অনিয়মসহ যে কোনো অপরাধের ক্ষেত্রেও আমরা একই চিত্র দেখতে পাই।

গণপরিবহনে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন থাকা সত্বেও কোনো নারী কে দাড়িয়ে ভ্রমণ করতে দেখলে অধিকাংশ সময়ই পুরুষরা আত্মত্যাগের মাধ্যমের নারীদের বসার সুযোগ করে দেয়। পৃথিবীতে নারীদের জন্য আলাদা যতগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে পুরুষদের জন্য ততগুলো নেই। জনপ্রতিনিধিত্ব, চাকরিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও নারীদের জন্য রয়েছে সংরক্ষিত আসন।

শুধুমাত্র ধর্ষণকে নারীরা তাদের জন্য জীবনাচরণের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে মনে করে। চারদিকে কলোরব পড়ে যায় ধর্ষণ ধর্ষণ করে। এটিতো সামান্য একটি দুর্ঘটনা মাত্র। এ ধরনের আরো বেশি ও ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা পুরুষদের জীবনেও ওঁৎ পেতে থাকে।

পুরুষরাও এ ধরনের সহস্র দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অথবা তা মোকাবিলা করে বেঁচে থাকে। ধর্ষণের দুর্ঘটনাটি পুরুষ দ্বারাই সংঘটিত হয়। তাই বলে ধর্ষক সবাই পুরুষ হলেও পুরুষ সবাই ধর্ষক নয়। ধর্ষণের জন্য তো সমাজ ও রাষ্ট্রে অবাধ বিচার ব্যবস্থা ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। পক্ষান্তরে পুরুষদের জীবনে এমন কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে যার কোনো সমাধানই নেই। পারিবারিকভাবেও নারীরা পুরুষকে যে পরিমাণ মানসিক যন্ত্রণা দেয় তা সবার অক্ষির অগোচরেই থেকে যায়। এর জন্য কোনো আইন-আদালতও নেই। নারীর যন্ত্রণায় পুরুষের আত্মহত্যার ঘটনা আমাদের সমাজে নতুন বা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

আর সমান অধিকারের কথা যদি বলা হয় তাহলে পুরুষের চেয়ে নারীদের অবস্থা হবে আরো ভয়াবহ। কারণ বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিলে কয়েক’শ ফুট বিদ্যুতের খুটির উপরে উঠে সে সমস্যার সমাধান করে। সমান অধিকার চাইলে সে কাজটি নারীদেরও করতে হতে পারে। শূন্যে ঝুলন্ত অবস্থায় আরোহণ করে করতে হতে পারে নির্মাণ শ্রমিকের কাজও। সুতারাং সমান অধিকার নয়, নারীদের প্রয়োজন ন্যায্য অধিকার।

উদাহরণ হিসেবে, একজন ব্যক্তির হাতে যদি দু’লক্ষ টাকা নগদ আছে, অপর একজন ব্যক্তির কাছে দু’লক্ষ টাকার সম্পত্তি আছে। কাঠামো ও অবস্থান গত ভাবে এখানে দু’জন ভিন্ন হলেও সমৃদ্ধির পরিমাণে দু’জনই সমান।

অতএব নারী-পুরুষ কাঠামোগত ও জীবনাচরণের ক্ষেত্রে নারী পুরুষের অবস্থান ভিন্ন হলেও সমৃদ্ধি ও অধিকারের ক্ষেত্রে দু’জনই সমান।

অধিকাংশ নারীর ক্ষেত্রেই পুরুষের প্রিয় হতে ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তীতে তারা নারীবাদী নেত্রী হয়ে উঠে। অনেক ক্ষেত্রে আইনগত সুযোগ লাভের লোভে এবং নারীর প্রতি সমাজিক অতিরিক্ত অনুকম্পা অর্জনের লালসায় নারীরাই পুরুষদের ধর্ষণের জন্য লালায়িত করে। ব্যপারটি খুবই পরোক্ষ, পুরুষরা এসব উচ্চারণ করারও কোনো রাস্তা থাকে না। সে ক্ষেত্রে পুরুষরা একদম বেকায়দায় থাকে।

আর পুরুষদের অতিরিক্ত নারীপ্রীতির বেশির ভাগই নারীদের অপব্যবহার করার জন্য, না হয় নারীদের অধিকার হরণের সুযোগের আশায়। সুতারাং আমাদের সমাজে নারীবাদ ও নারী অধিকার আন্দোলনের সবই ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

লেখক: মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদার, কবি, সাংবাদিক ও উপস্থাপক

[এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। এর দায়ভার পুরোপুরি লেখকের। ডেইলি বাংলাদেশ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।]

ডেইলি বাংলোদেশ/এসআই

Best Electronics
Best Electronics