Alexa যে কারণে চিৎকার দিয়ে ওঠেন মিন্নি!

ঢাকা, বুধবার   ১৬ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ১ ১৪২৬,   ১৬ সফর ১৪৪১

Akash

যে কারণে চিৎকার দিয়ে ওঠেন মিন্নি!

বরগুনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৭ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৬:৩৯ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

মঙ্গলবার বরগুনা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। সেখান থেকে বাবা মোজাম্মেল হক কিশোরের সঙ্গে বাসায় যান তিনি। এর আগে ৪৮ দিন কারাভোগ করেন তিনি। 

এরপর বিকেল থেকে আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষিদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। পরে রাতে যখন মিন্নি খেতে যান তখন চিৎকার করে কেঁদে ওঠেন তিনি। স্বামী রিফাত শরীফের কথা মনে হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানান মিন্নির বাবা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মিন্নির বাবা বলেন, জামিনের কপি বরগুনার আদালতে পৌঁছেছে শুনে মিন্নির মা মেয়ের প্রিয় খাবার (কবুতরের বাচ্চা) রান্না করে রেখেছিল। কিন্তু ও (মিন্নি) একটু মুখে দিতেই তা খেতে পারেনি।

মিন্নির বাবা আরো বলেন, গতকাল বাসায় আসার পর সারা রাত একটুও ঘুমাতে পারেনি মিন্নি। রিফাত শরীফের কথা মনে করে শুধুই কান্নাকাটি করেছে।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট মিন্নিকে দুই শর্ত দিয়ে অন্তর্বর্তী স্থায়ী জামিন দেন হাইকোর্ট। সেই অন্তর্বর্তী জামিন আদেশের স্বাক্ষরিত কপি মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এসে পৌঁছায়। এরপর বিকেলে মুক্তি পায় মিন্নি।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর বলেন, পুলিশ মিন্নির ওপর যে নির্যাতন করেছে তার কারণে তার শরীরের ব্যথা এখনো কমেনি। রাতে ঘুমাতে পারেনি ব্যথায়। ওষুধ খাওয়ার পরেও ব্যথা কমেনি।

তিনি বলেন, কান্নাকাটি করে মিন্নির চোখ-মুখ শুকিয়ে গেছে। তাকানো যায় না ওর দিকে। আমি দু -এক দিনের মধ্যেই ওকে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রওনা হব।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে দুর্বৃত্তরা মিন্নির স্বামী রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। ওইদিন বিকেলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিন্নির স্বামী।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। 

ওই মামলায় প্রথমে মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করা হলেও পরে এক আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের পর মিন্নিকে গত ১৬ জুলাই আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। ১৭ জুলাই তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পরে গত ৫ আগস্ট মিন্নির বাবা হাইকোর্টে মিন্নির জামিন চেয়ে আবেদন করেন। হাইকোর্ট গত ২০ আগস্ট মিন্নির জামিন প্রশ্নে রুল জারি করে ২৮ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে সিডিসহ হাজির হতে বলেন। সে অনুযায়ী ২৮ আগস্ট শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ২৯ আগস্ট মিন্নির জামিন মঞ্জুর করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএস