যে কারণগুলোতে জুমা বিশেষ অর্থবহ দিন

ঢাকা, সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৭,   ১০ সফর ১৪৪২

যে কারণগুলোতে জুমা বিশেষ অর্থবহ দিন

গাজী মো. রুম্মান ওয়াহেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৩০ ৭ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১১:২৭ ৭ আগস্ট ২০২০

‘নিশ্চয়ই আমি (আল্লাহ) স্বয়ং এবং আমার ফেরেস্তাগণ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পাঠ পূর্বক সালাম প্রেরণ করিয়া থাকি; হে মুমিনগণ তোমরাও তাঁহার ওপর দরুদ পাঠ কর এবং সালাম প্রেরণ কর।’ (সূরা: আহযাব, আয়াত: ৫৬)।

‘নিশ্চয়ই আমি (আল্লাহ) স্বয়ং এবং আমার ফেরেস্তাগণ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পাঠ পূর্বক সালাম প্রেরণ করিয়া থাকি; হে মুমিনগণ তোমরাও তাঁহার ওপর দরুদ পাঠ কর এবং সালাম প্রেরণ কর।’ (সূরা: আহযাব, আয়াত: ৫৬)।

সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম দিন হলো জুমার দিন। অন্য মাসের তুলনায় রমজান মাসের দানের সওয়াব যেমন বেশি তেমনি জুমার দিনের দান খয়রাত অন্য দিনের তুলনায় বেশি।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা এ দিন আমাদেরকে সালাতুল জুমা বা জুমার নামাজ আদায়ের জন্য আহ্বান করেছেন।

মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

‘হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের আহ্বান জানানো হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে (মসজিদে) এগিয়ে যাও এবং বেচা-কেনা (দুনিয়াবি যাবতীয় কাজকর্ম) ছেড়ে দাও। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর; যদি তোমরা জানতে।’ (সূরা: জুমা, আয়াত: ০৯)।

মুসলিম উম্মাহর জন্য জুমার দিন তথা শুক্রবার একটি বিশেষ অর্থবহ দিন। কিন্তু কি এর কারণ? কেনই বা শুক্রবারের গুরুত্ব এতো, তা হয়তো অনেকেই জানি না। আসুন জেনে নিই যে কারণগুলোতে এটি বিশেষ অর্থবহ দিন এবং আরো জানার চেষ্টা করি জুমার দিনের ফজিলত সম্পর্কে।

(১) শুক্রবার দিনে প্রথম মানুষ হজরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়েছে।

(২) এই দিনে হজরত আদম (আ.) বেহেশতে স্থান দেয়া হয়েছে।

(৩) এই দিনেই হজরত আদম (আ.) পৃথিবীতে অবতরণ করেন।

(৪) সপ্তাহের সাতটি দিনের মাঝে শুক্রবারই সে দিন, যেদিন হজরত আদম (আ.) মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

(৫) শুক্রবার দোয়া কবুলেরও দিন, তবে দোয়ায় নিষিদ্ধ/হারাম কিছু চাওয়া যাবে না।

(৬) এই দিনেই হবে কেয়ামত।

(৭) দিনের ছোট পাপ সমূহ ক্ষমা করে দেবেন। (মুসলিম)

(৮) নামাজে এসে একটা পাথর স্পর্শ করাও অনর্থক কাজ বিবেচিত হবে। (মুসলিম) সন্মুখে জায়গা না থাকলে দুজনের মাঝে ফাঁক করে সামনে না যাওয়া। (বুখারি)।

(৯) জুমার দিনে গোসল করা সুন্নত। (বুখারি, মুসলিম)।

(১০) সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত। (বুখারি)।

(১১) প্রথম ঘণ্টায় জুমায় গেলে উট কোরবানির সওয়াব, দ্বিতীয় ঘণ্টায় গরু কোরবানির সওয়াব, তৃতীয় ঘণ্টায় ছাগল বা ভেড়ার সওয়াব, চতুর্থ ঘণ্টায় মুরগির সওয়াব, পঞ্চম ঘণ্টায় একটি ডিমের সওয়াব পাওয়া যাবে। (বুখারি, মুসলিম)।

(১২) এদিনে এমন এক সময় রয়েছে সে সময়ে আল্লাহ তাযালা বান্দার দোয়া কবুল করেন। (বুখারি, মুসলিম)।

(১৩) প্রিয়নবী রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠানো, রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের দরুদ তাঁর সন্মুখে পেশ করিয়ে থাকেন। (আবূ দাউদ)। একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা বান্দার ওপর দশবার রহমত প্রেরণ করেন। (মুসলিম)।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন,

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

‘নিশ্চয়ই আমি (আল্লাহ) স্বয়ং এবং আমার ফেরেস্তাগণ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পাঠ পূর্বক সালাম প্রেরণ করিয়া থাকি; হে মুমিনগণ তোমরাও তাঁহার ওপর দরুদ পাঠ কর এবং সালাম প্রেরণ কর।’ (সূরা: আহযাব, আয়াত: ৫৬)।

দরুদে ইব্রাহিমের আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ-

اَللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدُ، اَللّهُمَّ بَارِكْ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ।

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউঅআলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা স্বাল্লাইতা আলা ইবরা-হীমা অ আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকাহামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউঅ আলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা বা-রাকতা আলা ইবরা-হীমা অ আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি হজরত মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরের উপর রহমত বর্ষণ কর, যেমন তুমি হজরত ইব্রাহিম ও তাঁর বংশধরের উপর রহমত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত গৌরবান্বিত।

হে আল্লাহ! তুমি হজরত মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরের উপর বরকত বর্ষণ কর, যেমন তুমি হজরত ইব্রাহিম ও তার বংশধরের উপর বরকত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত গৌরবান্বিত। (বুখারি, মিশকাত ৯১৯)।

(১৪) সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করা, বিনিময়ে আল্লাহ দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূর দ্বারা আলোকিত করবেন। (নাসাঈ, বাইহাক্বী)

(১৫) উত্তম কাপড় পরিধান করা সুন্নত। (বুখারি, মুসলিম, আহমাদ)।

(১৬) মিসওয়াক করা, পরিচ্ছন্ন হওয়া সুন্নত। (আহমাদ)।

জুমা এমন একটি দিন যেদিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের সগিরা (ছোট) গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়ে থাকেন, শুধুমাত্র ওই দিনেরই নয় বরং পুরো সপ্তাহের এবং সঙ্গে অতিরিক্ত আরো তিন দিনের।

আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যদি কেউ যথাযথভাবে ওজু (পবিত্রতা অর্জন) করল, এরপর জুমার নামাজে আসলো, মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শুনলো এবং নীরবতা পালন করে, তার ওই শুক্রবার এবং পরবর্তী শুক্রবারের মধ্যবর্তী সব ছোটো-খাটো গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে, সঙ্গে অতিরিক্ত আরো তিনটি দিনেরও।’ (মুসলিম)।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে/টিআরএইচ