Alexa যেসব শারীরিক সমস্যা রোগীকে কোমায় নিয়ে যায়

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১০ ১৪২৬,   ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

যেসব শারীরিক সমস্যা রোগীকে কোমায় নিয়ে যায়

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০৬ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:২৮ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বেঁচে থেকেও সে মৃত। ঘুমন্ত অবস্থাতেই পার হয় তার দিন-রাত্রি। কোমায় থাকা একজন রোগী এভাবেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েন। মস্তিষ্কে কোনো আঘাত লাগার কারণে কোমা হয়। মস্তিষ্কের এই আঘাত বর্ধিত চাপ, রক্তক্ষরণ, অক্সিজেন ঘাটতি অথবা টক্সিনের মজুতের কারণে হতে পারে। 

এই আঘাত যেমন অস্থায়ী ও পরিবর্তনযোগ্য (রিভারসিবল) হতে পারে, তেমনি স্থায়ী হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়। ৫০ শতাংশ এরও বেশি কোমা মাথায় আঘাত বা মস্তিস্কের সংবহনতন্ত্রের বিশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পর্কিত। যেসব সমস্যা থেকে কোমা হতে পারে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

ট্রমা: মাথার আঘাত থেকে মস্তিস্কে স্ফীতি বা রক্তপাত হওয়ার জন্য (রেটিকুলার অ্যাক্টিভেটিং সিস্টেম) বা আর এ এস-এর ক্ষতি হতে পারে। মস্তিস্কের এই অংশটি উদ্দীপনা এবং সচেতনতা ঘটায়।

স্ফীতি: আঘাত লাগা ছাড়াও মস্তিষ্কের টিস্যুর স্ফীতি হতে পারে। অনেক সময় অক্সিজেনের অভাব, ইলেকট্রোলাইটিক অসাম্য কিংবা হরমোন অসঙ্গতিতে এই স্ফীতি ঘটে।

রক্তক্ষরণ: মস্তিষ্কের স্তরে রক্তক্ষরণের জন্য স্ফীতি ও আঘাতপ্রাপ্ত অংশে সঙ্কোচনের কারণে কোমা হতে পারে। সঙ্কোচনের জন্য মস্তিস্ক সরে গিয়ে ব্রেইনস্টেম ও আর এ এস-এর ক্ষতি করে। উচ্চ রক্তচাপ, সেরিব্রাল অ্যানিরিউজিম এবং টিউমার আঘাত লাগা ছাড়াও মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের কারণ হতে পারে।

স্ট্রোক: যখন মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় তখন কোমা হতে পারে।

ব্লাড সুগার: ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের রক্তে সুগারের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে কোমা ঘটতে পারে। একে হাইপারগ্লাইসিমিয়া বলে। আবার রক্তে সুগারের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলেও কোমা ঘটতে পারে।

অক্সিজেনের ঘাটতি: মস্তিষ্কের কার্যকারিতার জন্য অক্সিজেন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ঘটলে মস্তিস্কে রক্তপ্রবাহ ও অক্সিজেনের সরাবরাহ হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। একে হাইপক্সিয়া বা অ্যানোক্সিয়া বলে। কার্ডিওপালমোনারি রিসারেকশন (সি পি আর) করার পরে অনেক সময় কোমায় চলে যান। পানিতে ডুবে বা শ্বাস নেয়ার ক্ষেত্রে বাধাপ্রাপ্ত হলেও অক্সিজেন ঘাটতি হতে পারে।

সংক্রমণ: মেনিঞ্জাইটিস বা এনসেফ্যালাইটিসের মতো কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে সংক্রমণজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষটি কোমায় চলে যেতে পারেন।

টক্সিন: শরীরের বিষকারক পদার্থ বাইরে বেরিয়ে যেতে না পেরে সম্মিলিত হলে কোমা ঘটতে পারে। যেমন- লিভারের রোগে অ্যামোনিয়া, মারাত্মক অ্যাজমায় কার্বন ডাই অক্সাইড অথবা কিডনি ফেলিওরে শরীরে ইউরিয়া জমে যেতে পারে। বেশি মাত্রার ড্রাগ ও অ্যালকোহল মস্তিষ্কের নিউরনের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটায়।

সূত্র: ওয়েবএমডি

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস