যেমন ছিল সিন্ধু উপত্যকা

ঢাকা, সোমবার   ২০ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪২৬,   ১৪ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

যেমন ছিল সিন্ধু উপত্যকা

স্বরলিপি

 প্রকাশিত: ১১:০০ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৩:২০ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

সিন্ধু সভ্যতার বৃহত্তম দুই নগর হলো মহেনজোদারো ও হরপ্পা। দুটি শহর অখণ্ড রাজনৈতিক ইউনিটের নয়, এই দুটি শহর পৃথক ইউনিটের দুই রাজধানী ছিল বলে পণ্ডিতরা মত দেন। যদিও শাসন পদ্ধতির ধরন কেমন ছিল তার উত্তর এখনো মেলেনি।

মহেনজোদারো শহরটি আনুমানিক আড়াই বর্গকিলোমিটারে বিস্তৃত ছিল। জনসংখ্যা ছিল ৩৫ হাজারের মতো। হরপ্পা নগরে-দুর্গের সীমানায় শোভাযাত্রা চালনার উপযোগী রাজপথ ছিল। রাজপথ ধরে সৈন্যবাহিনী কুচকাওয়াজে যেত।

জলাধার থেকে পানি তুলে ফসলের জমিতে দেয়া হতো। গম মাড়াই করা হতো মঞ্চে। গমের শীষ নদীপথে নৌকা করে এনে মজুত করা হতো গোলায়। তিনতলা বাড়ি পর্যন্ত ছিল।বাড়িতে জানলা বলে কিছু ছিল না। দেয়ালে ছোট ছোট ফোকর ছিল।

প্রায় প্রতিটি বাড়িতে কুয়ো ছিল। শহরটি বাণিজ্য কেন্দ্রই ছিল না, বন্দরও ছিল এটি। শহরটি ঘেরা ছিল পাথরের পাঁচিল দিয়ে। নগর বসতির পূর্বদিকে ছিল জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের কারখানা।

অনুসন্ধান করে দেখা সম্ভব হয়নিমহেনজোদারোর সর্বনিম্ন স্তরটিও । কারণ, মাটির নিচে বহতা জলের স্রোত। বেলুচিস্তান ও সিন্ধু প্রদেশে প্রাক হরপ্পার শেষ যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত স্তর-(হরপ্পা সভ্যতা, প্রাক হরপ্পা ও আদি হরপ্পা)পরম্পরার একটি বিন্যাসের চিত্র গড়ে তুলেছে। ।

গ্রামীণ ধরণের সংস্কৃতিগুলি নগর-সভ্যতার পাশাপাশি অস্তিত্ব বজায় রেখেছিল। লিপিখোদিত পঞ্জা, বর্ণলিপি ও লেখার মৃৎপাত্রে মৌল ধরণের অলঙ্করণ) পরিণত হরপ্পা সভ্যতার জন্ম। আর এই নিদর্শনগুলো রয়েছে, আফগানিস্তান, বেলুচিস্তান ও সিদ্ধু প্রদেশে। পরে গঙ্গা ও যমুনা নদীর ওপর অঞ্চলেও নদীতীর-বরাবর অনেকগুলি হরপ্পা-যুগের বসতি আবিস্কৃত হয়েছে।

হরপ্পা জনগোষ্ঠী দেশের দক্ষিণ ও পূর্ব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল। ব্যাপকহারে স্থানান্তরে গমন করে তারা বেড়িয়ে পড়েছিল উপযুক্ত জমি বন্দরের খোঁজে । বিপুলায়তন সভ্যতায় বেশকিছু নৃগোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং হরপ্পা সভ্যতার প্রতিষ্ঠাতারা যে সমস্ত অঞ্চলে আবির্ভুত হয়েছিল, তা স্থানীয় বিকাশের অসমান স্তরেরই প্রতিফলনমাত্র।

মেসোপটেমিয়া ও ভারতের মধ্যে ঘনিষ্ঠতম সম্পরর্কের সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব চব্বিশ থেকে আঠারো শতকের মধ্যেই নির্দিষ্ট করা যেতে পারে। সিন্ধু-উপত্যকার প্রধান নগর কেন্দ্রগুলির অবলুপ্তির পরেও হরপ্পা যুগের সংস্কৃতি কিছুটা পরিবর্তিত চেহারায় বজায় ছিল।

একটুকরো সূতি কাপড় পাওয় যায়। জমি চাষ করা হতো মইয়ের মতো কাঁটা দিয়ে। তামা আর ব্রোঞ্জ-য়ের ব্যবহার ছিল অত্যাধিক।সিন্ধু-সভ্যতার যুগের মণিকাররা রুপার এবং সোনার অলঙ্কার বানাতেন। হাড়ের ওপর , ধাতুর ওপর খোদাইয়ের কাজ এবং মাটির পাত্র তৈরির শিল্প প্রচলিত ছিল। এটা হতে পারে যে হরপ্পা যুগের শহরগুলিতে রাষ্ট্রশাসনের প্রকৃতি ছিল ক্ষমতাসম্পন্ন অল্পসংখ্যক ব্যক্তি পরিচালিত প্রজাতন্ত্রী রাজ্য। মৃত্যুর পর কবর দেওয়ার রীতি ছিল।

সামাজিক সম্প্রদায়গুলো- পুরোহিত, বণিক, কারুশিল্পী, মুচলেকাবন্ধ মজুর, সামরিক গোষ্ঠী।

সামাজিকক স্তরবিন্যাসের অস্তিত্ব দেখে কিছু কিছু পণ্ডিত হরপ্পা সভ্যতার আমলেই ভ্রূণাকারে পরবর্তী বর্ণাশ্রয়ী সমাজ কাঠামোর অস্তিত্ব ছিল বলে মনে করছেন।

উল্লেথ্য, নিন্মতর প্রত্মপ্রস্তর যুগ থেকেই ভারতে সভ্যতার বিকাশ শুরু হয়। ভারতীয় সংস্কৃতি সোন নদীর তীর বরাবর; উত্তরে সোন নদীতীরবর্তী সংস্কৃতি আর দক্ষিণে মাদ্রাজি সংস্কৃতি বিকাশ লাভ করে। প্রথম আবিস্কৃত সংস্কৃতি মাদ্রাজি সংস্কৃতি। এটি আবিস্কৃত হয ১৮৬৩ সালে। এরপর, উচ্চতর- ভূ স্তরের প্রত্নপ্রস্তর যুগে হোমোস্যাপিআন্স বা নৃগোষ্ঠীদের উদ্ভব ঘটে।

প্রত্নতত্ত্ববিদরা মনে করে যে, উচ্চতর প্রত্নপ্রস্তর যুগে ভারতে নিগ্রো-গোত্রীয় জনগোষ্ঠী ও পরে মধ্যপ্রস্তর যুগে পশ্চিম ভারতে ককেশীয় ও পূর্ব ভারতে মঙ্গোলীয় গোত্রেরর নৃগোষ্ঠী আবির্ভূত হয়।

এই উপমহাদেশে পশু পালন, মৃৎশিল্পের উদ্ভব ও ক্রমশ কৃষি শিল্প বিকাশ লাভ করে।

তথ্য সহায়তা : ভারতবর্ষের ইতিহাস/কোকো আন্তোনভা, গ্রিগোরি বোনগার্দ-লেভিন, গ্রিগোরি কতোভস্কি।

Best Electronics