Alexa যেভাবে হাজার বাধা পেরিয়ে আজকের ‘গুটিপা’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ৯ ১৪২৬,   ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

যেভাবে হাজার বাধা পেরিয়ে আজকের ‘গুটিপা’

কানিছ সুলতানা কেয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৬ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

জীবনে চলতে পথে অনেক বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়। তবে তাতে ভেঙ্গে না পড়ে উঠে দাঁড়ানোই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। কোনো একটি কাজে সফলতা না পেলেন তার মানে এই নয় যে, আর কোনো কিছুতেই সাফল্য আপনাকে ধরা দেবে না। নিজের ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ়তাই আপনাকে সাফল্য এনে দেবে।

পরিবারের অমতে নারী উদ্যোক্তা হওয়ার শুরু দিকে গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে যেমন বাধা পেতে হয়েছে তাকে। তেমনি ব্যাংক লোনের ক্ষেত্রে কিংবা নিজ কর্মীদের মধ্যেও তাকে নিয়ে ছিল সংশয়। নারী বলে কারখানার কর্মীরাও তার নির্দেশ শুনতে ইতস্তত করত। আর এ জায়গাটা ভাঙতে তার অনেকটা সময় লেগেছে।

বলছিলাম গুটিপার উদ্যোক্তা তাসলিমা মিজির কথা। ২০১৬ সালে ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমে নিজের বাসা থেকেই তিনি ব্যবসা শুরু করেন। তবে ২০০৮ সালে সাংবাদিকতা ছেড়ে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের ব্যবসা দিয়ে শুরু করেন। প্রথমে একটি ফ্যাক্টরিতে কিছু ব্যাগ বানান। এরপর মোবাইলে সেগুলোর ছবি তুলে তার ফেইসবুক পেইজে আপলোড করেন। বন্ধুদের কাছ থেকেই খুব ভালো সাড়া পান তিনি। এরপর আরো বড় পরিসরে করার জন্য কাজ শুরু করেন।

যখন তিনি গুটিপা শুরু করেন তখনো তার আগের ব্যবসাটি ছিল। কিন্তু কম্পিউটারের দোকানটি ভালো যাচ্ছিল না। পরিবার থেকে কোনো সাহায্য বা সমর্থন কিছুই পাননি। বরং তারা বলেছিল এই মেয়ে তো রসাতলে গেছে। ওকে আর কোনো কিছু বলে আমাদের লাভ নেই। এছাড়াও তাকে নতুন চাকরি খুঁজে নিতে পরামর্শও দিয়েছিল অনেকে। আবার অনেক বাধারও সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে।

তাসলিমা মিজিবর্তমানে তাসলিমার কারখানায় ৩০ জনেরও বেশি কর্মী রয়েছে। তার পরিবারও তাকে সহযোগিতা ও সমর্থন করছে। এমনকি তার বাবা তাকে ফ্যাক্টরি বানানোর জন্য জায়গাও দিতে চেয়েছেন। তিনি চান এতে গ্রামের মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হোক।

নারী উদ্যোক্তা হওয়ায় প্রথমে ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে বাধা পেতে হয়েছে তাসলিমাকে। একই পণ্য একই দামে তিনি দিচ্ছেন তারপরও তারা ভরসা পাচ্ছেন না। ভাবছেন এতে যে প্রযুক্তি বা সামর্থ্য প্রয়োজন তা হয়তো তিনি নারী হয়ে দিতে পারবেন না। এমনকি কর্মীরাও তার আদেশ মানতে চাইতো না।

কিন্তু আদেশ না মানা মনস্তাত্ত্বিক বিষয় বলেও মনে করেন তিনি। তিনি তার এক পুরনো কর্মচারীর কথাও বলেন, যিনি একজন নারী বসের কথা শুনে কাজ করতে হবে এটা মেনে নিতে না পেরে কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন।

তাসলিমা যখন কাজ করতে আসেন তখন তার কারিগরি কোনো জ্ঞান ছিল না। তবে আগে থেকেই জুতা এবং ব্যাগের প্রতি তার একটা দূর্বলতা ছিল। অনলাইনে বিভিন্ন বড় বড় ব্র্যান্ডগুলোকে দেখতেন। তারা কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে একটা ডিজাইনকে মানুষ চিন্তা থেকে প্রোডাক্টে রূপান্তর করে। এসব উপায় নিয়ে ভাবতেন তিনি। দেশে বিক্রির পাশাপাশি এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে তার তৈরি ব্যাগগুলো।

তিনি মূলত কর্মজীবী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় ও ফ্যাশনেবল ব্যাগ তৈরি করে থাকেন। বর্তমানে তিনি হল্যান্ডের একটা ডিজাইনার ব্র্যান্ডকে ব্যাগ সাপ্লাই দিচ্ছেন। গুটিপা নিয়ে তার স্বপ্ন এটিকে দেশিয় একটি ব্র্যান্ড তৈরি করা। এটি দেশিয় কাঁচামালে পণ্য তৈরি করবে বিশ্বমানের ব্যাগ। এটি দেশে এবং বিদেশেও ব্যবহার হবে।

অন্যের অধীনে কাজ করার থেকে নিজের উদ্ভাবনী মেধাকে কাজে লাগিয়ে হতে পারেন একজন উদ্যোক্তা। স্বাক্ষর রাখতে পারেন দেশের উন্নয়নে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ