যেভাবে রুশ জাহাজে করে লেবাননে এলো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১০ ১৪২৭,   ০৭ সফর ১৪৪২

যেভাবে রুশ জাহাজে করে লেবাননে এলো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:৫৬ ৫ আগস্ট ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

লেবাননের বন্দরনগরী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন প্রায় চার হাজার মানুষ। বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন পুরো শহর। এ ঘটনার পরই স্থানীয় বাসিন্দারা জানতে পেরেছে যে, ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট জমা ছিলো ওই স্থানে। কৃষিক্ষেত্রে সার এবং বোমায় ব্যবহার করা হয় এই অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। তবে ওখানে নাইট্রেট জমার পিছনে রয়েছে ভিন্ন এক ইতিহাস।

অনলাইনে প্রকাশিত সরকারি তথ্য ও রেকর্ড থেকে জানা যায় যে, ৬-৭ বছর আগে থেকেই লেবাননের কর্মকর্তারা জানতেন বৈরুতের বন্দরের ১২ নম্বর হ্যাঙ্গারে নাইট্রেট মজুদ রয়েছে। এর ভয়াবহতা সম্পর্কেও ভালোভাবে সতর্ক ছিলেন তারা।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার মালিকানাধীন মালদোভার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজে করে লেবাননে পৌঁছায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের ওই চালান। শিপ ট্র্যাকিং সাইট ফ্লেটমোনের তথ্য অনুযায়ী জাহাজটি জর্জিয়া থেকে মোজাম্বিক যাচ্ছিলো। কারিগরি ত্রুটির কারণে বৈরুতের ডেকে ভিড়তে বাধ্য হয় জাহাজটি। জাহাজের ক্রুদের নিয়োগ করা আইনজীবী এ তথ্য জানিয়েছেন। পরবর্তীতে জাহাজটিকে বন্দর ত্যাগ করতে দেয়নি লেবাবন কর্তৃপক্ষ। ফ্লেটমোন জানায়, পরে ধীরে ধীরে জাহাজ রেখেই মালিক ক্রু সদস্যরা চলে যায় সেখান থেকে।

এরপরে জাহাজ থেকে নাইট্রেটগুলো নামিয়ে বৈরুত বন্দরের ১২ নম্বরে হ্যাঙ্গারে রাখা হয়। মহাসড়কের পাশে রাজধানীর প্রধান প্রবেশ মুখে অবস্থিত ওই হ্যাঙ্গারটি। এর কয়েক মাস পরে ২০১৪ সালে ২৭ জুন লেবানন কাস্টমসের পরিচালক শাফিক মেরহি দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য একটি চিঠি পাঠান। অনলাইনে প্রকাশিত তথ্যে চিঠি পাঠানোর ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি।

বিষয়টি সমাধান করার জন্য দেশটির কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ৩ বছরে আরো ৫টি চিঠি পাঠায়। চিঠিগুলো পাঠানো হয় যথাক্রমে ২০১৪ সালের ৫ ডিসেম্বর, ২০১৫ সালের ৬ মে, ২০১৬ সালের ২০ মে, ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর ও ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর। চিঠিগুলোতে সমাধানের জন্য তিনটি প্রস্তাব দেয়া হয়। ১. নাইট্রেট সরিয়ে নেয়া, ২. লেবাননের সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা ও ৩. লেবাননের বেসরকারি বিস্ফোরক কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়া।

পূর্বের আহ্বানগুলোতে সাড়া দেয়া হয়নি বলে ২০১৬ সালের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে আরো বলা হয়, অনিরাপদ হ্যাঙ্গারে পণ্যগুলো রাখার কারণে তৈরি ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো অতিদ্রুত সরিয়ে নিয়ে বন্দরের নিরাপত্তা রক্ষার অনুরোধ জানাচ্ছি। অথবা বিক্রির ইচ্ছে থাকলে লেবাননের বিস্ফোরক কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হোক। তখনও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে।

এক বছর পর লেবানন কাস্টমসের নতুন প্রশাসনিক প্রধান দাহের একজন বিচারকের কাছে বিষয়টি জানিয়ে একটি চিঠি পাঠান। ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবরের ওই চিঠিতে দাহের বিচারককে অনুরোধ জানান যে, ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটগুলো সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হোক। অথবা সেগুলোকে যথাযথভাবে ব্যবহারে উদ্যোগ নেয়া হোক। এর তিন বছর পরও নাইট্রেটগুলো সেই হ্যাঙ্গারেই মজুদ ছিলো।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেলে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে  ভয়াবহ এ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের এই ঘটনায় ‘ভয়াবহ জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব। ভয়াবহতার জন্য যারা দায়ী তাদের চড়ামূল্য দিতে হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

এদিকে, নাইট্রেটগুলো ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতাকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন। এ ঘটনায় জড়িতদের কঠিন শাস্তি পেতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এরইমধ্যে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে ৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সময়ে বেঁধে দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ