Alexa যেভাবে বিসিএস প্রস্তুতি

ঢাকা, শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

যেভাবে বিসিএস প্রস্তুতি

 প্রকাশিত: ০৮:৫০ ৩১ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ০৮:৫০ ৩১ আগস্ট ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিসিএস মানেই কঠিন এক প্রতিযোগিতামূলোক মেধার লড়াই। কারণ, বিসিএস পরীক্ষার্থীরাই হলেন সময়ের সবচেয়ে মেধাবী তরুণ জনগোষ্ঠী (বিশেষ করে চাকরিপ্রত্যাশী)।

কিছুদিন হলো ৩৮তম বিসিএসের সার্কুলার হয়েছে, আবেদনও শেষ, এবার মূল লড়াই। বিসিএস-এর ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বেশি প্রার্থী প্রতিযোগিতা করবেন। আমার এ লেখা তাদের জন্য, যারা প্রার্থীর সংখ্যা দেখে ভয় পান বা নিজেকে দূর্বল ভাবেন। বিসিএসে এ সাফল্যের শর্তগুলো হলো -

১.Confidence (আত্মবিশ্বাস)
২. Discipline (নিয়মানুবর্তিতা)
৩. Long term preparation (দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি)
৪. Techniques (কলাকৌশল)

১. আত্মবিশ্বাস: আপনি বিসিএস পরীক্ষা দিচ্ছেন এটাই সবচেয়ে বড় আত্মবিশ্বাস। আপনি অনার্স পাস করছেন, আপনি কি কম মেধাবী? অমুক এত পারে, তমুক এত বছর ধরে পড়াশোনা করে, আপনার কিছুই পড়া হয় নি- এসব চিন্তা মাথা থেকে একদম ঝেড়ে ফেলুন। কারণ, আপনি তো আর পরীক্ষায় ২০০ নম্বরে ২০০ পেতে চান না!

আপনার টার্গেট হোক প্রিলিমিনারি পাস করা। এখানে যে সবচেয়ে বেশি মার্ক পেয়ে পাস করবে সেও পাস, আর যে সবচেয়ে কম মার্কস্ পেয়ে পাস করবে সেও পাস। প্রিলিমিনারির মার্কস পরবর্তী ধাপে আর কোনো কাজে লাগে না।

আপনার যেসব বিষয়ে দখল বেশি সে সব বিষয়ে জোর দিন। কারণ, ইংরেজি প্রশ্নেও যে ১ মার্ক, সাধারণ জ্ঞানেও সেই ১ মার্ক আবার অংকেও ১ মার্কই। দূর্বল বিষয়ে সময় নিয়ে বুঝে পড়ুন। আপনারা দ্বারা সব সম্ভব - এই বিশ্বাস রাখুন।

২. নিয়মানুবর্তিতা: বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখে নিন। কোন ধরনের প্রশ্ন করা হয়, কোন টপিক গুরুত্বপূর্ণ তা জানতে বিগত বছরের প্রশ্ন সবথেকে সহায়ক।

আর একটা কথা, আপনি বিগত বছরের প্রশ্ন পারেন না, আপনার দ্বারা কিছু হবে না - এসব ফালতু ভাবনা ভাবা যাবে না। বিগত বছরের প্রশ্নে চোখ বুলানো মানে প্রশ্নের ধরণ জানা। প্রথমেই সব প্রশ্ন সমাধান করা যাবে না। প্রথমেই অতিরিক্ত না পড়ে আস্তে আস্তে লোড নিন। একদিন ১৬ ঘন্টা পড়ে দুইদিন অসুস্থ হলেন গড় হল ৫ ঘন্টা ২০ মিনিট। তার থেকে দিনে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা পড়ুন। কয়েক মাস পরে দেখুন আপনার ভাণ্ডার কত সমৃদ্ধ। প্রয়োজনে রুটিন করে পড়তে পারেন।

বাজারের সকল বই আপনার সংগ্রহে আছে, কিন্তু এক সেট বই পড়ে তারপর অন্য সেট ধরুন। তাহলে কোনটি ভুল কোনটি ঠিক - আপনি নিজেই ধরতে পারবেন। কারণ, কমবেশি ভুল বাজারের সব বইতেই আছে।

এক মাস না পড়েই মডেল টেস্ট নিয়ে গবেষণা করা ঠিক না। মডেল টেস্ট দেয়া হয় সময় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। এটা পরীক্ষার আগে প্রাকটিস করলেই ভালো। প্রশ্ন লিখে বা ফেসবুকে আপলোড দিয়ে যে সময় নষ্ট করবেন তার থেকে আর ৫টা বিষয় পড়ুন কাজে লাগবে। কারণ সব প্রশ্নের মান এক।

কঠিন জিনিস নিয়ে ঘাঁটাঘাটি বাদ দিয়ে সিলেবাস দেখে পড়ুন। গ্রুপ করে কয়েকজন মিলে আলোচনা করে পড়ুন, কাজে লাগবে। যে বিষয়ে আপনার দুর্বলতা আছে সে বিষয়ে অন্যর সাথে শেয়ার করুন। মনে রাখবে্‌ আপনার জুনিয়রও আপনার থেকে অনেক বেশি জানতে পারে। জ্ঞান অর্জন করতে সবার কাছে যাওয়া যায়। কারণ, চাকরিটা আপনাকে পেতে হবে। কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাববেন না। ফেসবুককে যতটা সম্ভব দূরে রাখুন।

৩. দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি: বিসিএস কয়েক মাসের চেষ্টার ফসল নয়। কাজেই ঠাণ্ডা মাথায় ধীরে সুস্থে, বুঝে পড়ুন। মনে রাখবেন, কারো ৩ ঘণ্টা পড়া = কারো ১ ঘন্টা পড়া।

পৃথিবীতে সব মানুষ সমান নয়। প্রতিদিন ১০ ঘন্টা নিয়ম মেনে কয়েক মাস পড়ুন। আর আপনি কত্ত জানেন কয়েক মাস পর নিজের কাছেই প্রশ্ন করুন। সকল বিষয়ে কম-বেশি জ্ঞান রাখতে হবে। তাই বলে অতিরিক্ত চাপ নিবেন না।

৪. কলাকৌশল: বিসিএসে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কৌশল। কারণ, আপনি কতটুকু জানেন এটা ব্যাপার না। ব্যাপার হলো আপনি পরিবেশকে কতটা কাজে লাগালেন। বিসিএসে তো সারা বিশ্বের সব কিছুই সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত। সাধারণ জ্ঞান, বিজ্ঞান, বাংলা, ইংরেজি,অংক - এর বাইরে এ বিশ্বে কিছু আছে বলুন? যেমন বাংলা ব্যাকরণের সিলেবাস হল - ধ্বনি,বর্ণ,শব্দ ও বাক্য। চার শব্দেই শেষ। কতটুকু সিলেবাস! বলুন এর বাইরে বাংলা ব্যাকরণে আর কোনো সিলেবাস আছে?

আপনাকে নিজেই নিজের সাজেশন তৈরি করতে হবে। মনে রাখবেন, বিসিএস পরীক্ষায় যতটা বেশি জানা গুরুত্বপূর্ণ ঠিক তেমনি অবাঞ্ছিত বিষয় বাদ দেওয়া তার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অবসর সময়ে অন্যের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করুন। কোনো বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত চাপাচাপি না করাই ভালো।

পড়তে থাকুন নিয়ম মেনে। আত্মবিশ্বাস রাখুন। আপনি কেন সাফল্যের পেছনে ছুটবেন? সাফল্যই আপনার পেছনে দৌড়াবে।

লেখক: 
গবেষণা কর্মকর্তা (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইং)
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর
শিক্ষা মন্ত্রণালয়

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ