যেভাবে পরিচালিত হতো সেলিমের ক্যাসিনো
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=135853 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৮ ১৪২৭,   ০৫ সফর ১৪৪২

যেভাবে পরিচালিত হতো সেলিমের ক্যাসিনো

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫৩ ১ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অনলাইনে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার মূলহোতা সেলিম প্রধানকে আটকের পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। অনলাইন ক্যাসিনো থেকে অর্জিত আয় বিশেষ পন্থায় সংগ্রহ করে পাচার করা হতো বাইরে।

র‍্যাবের কাছে দেয়া তথ্যানুযায়ী, উত্তর কোরিয়ান নাগরিক মি. দো এর সঙ্গে ৫০-৫০ পার্টনারশিপে পি-২৪ এবং টি-২১ নামে দুইটি অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনা করতেন সেলিম প্রধান। যা তার মালিকানাধীন প্রধান গ্রুপের ওয়েবসাইটেও স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।

অনলাইনে ক্যাসিনো খেলতে চাইলে প্রথমে যেকোনো একটি গেমিং সফটওয়্যার মোবাইলে ইনস্টল করতে হতো। এরপর সেসব সফটওয়্যারে প্রবেশ করলে বিভিন্ন ধরনের গেমস দেখা যেত। ওই গেমসগুলোতে পুরোপুরি বাংলায় নির্দেশনা দেয়া রয়েছে যাতে করে কোনো খেলোয়ারের বুঝতে সমস্যা না হয়।

ওই গেমে প্রবেশ করতে গ্রাহককে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যকাউন্ট বা ক্রেডিট কার্ডের প্রয়োজন হয়। নির্ধারিত গেমের জন্য নির্ধারিত টাকা থাকতে হতো অ্যাকাউন্টে। খেলা শুরুর পর নির্ধারিত ওই টাকা তিনটি অনলাইন ‘গেটওয়ে’তে জমা হতো। গ্রাহক খেলায় জিতলে টাকা অ্যাকাউন্টে ফেরত যেত, অন্যথায় গেটওয়েতে থেকে যেত।

এরপর প্রতি সপ্তাহে সেলিম প্রধানের সহকারী আক্তারুজ্জামান সেসব গেটওয়ে থেকে টাকাগুলো তিনটি অ্যাকাউন্টে জমা করতেন। এরপর সেসব টাকা হুন্ডি অথবা ব্যক্তির মাধ্যমে লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশে পাচার হয়ে যেত।

মঙ্গলবার বিকেলে সেলিম প্রধানের বাসা ও অফিসে অভিযান শেষে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম।

তিনি বলেন, র‍্যাবের সাইবার মনিটরিং সেল ধারাবাহিক তদন্তে জানতে পারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অনলাইনে ক্যাসিনো পরিচালনা করে আসছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব অপারেশনের প্ল্যান করে। এর মধ্যেই খবর পাই অনলাইন ক্যাসিনোর মূলহোতা সেলিম প্রধান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। তাৎক্ষণিক ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইট থেকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হই। 

এরপর সোমবার সন্ধ্যায় সেলিম প্রধানের বাসা ও অফিসে অবস্থান নিই। পুরো প্রক্রিয়াটিকে তদন্ত করে বের করতে অনেক সময় লেগেছে।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, এ অভিযানে তার বাসা ও অফিস থেকে ৪৮টি বিদেশি মদের বোতল, ২৯ লাখ টাকা, ২৩টি দেশের মোট ৭৭ লাখ সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা, ১২টি পাসপোর্ট, ২টি হরিণের চামড়া, ২৩টি ব্যাংকের ৩২টি চেক, চারটি ল্যাপটপ এবং অনলাইন গেমিং পরিচালনার একটি বড় সার্ভার জব্দ করা হয়েছে।

আটক সেলিম প্রধানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে রাজধানী ঢাকায় জন্ম সেলিমের, ১৯৮৮ সালে ভাইয়ের সহযোগিতায় জাপান যান তিনি। এরপর সেখানে গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন সেলিম। একপর্যায়ে জাপান থেকে থাইল্যান্ডে এসে শিপ ব্রেকিংয়ের ব্যবসা করেন। এরপর অনলাইন ক্যাসিনোর কিং হন তিনি। সেখানে উত্তর কোরিয়ান নাগরিক মি. দো-এর সঙ্গে পরিচয় হয় সেলিমের। মি. দো বাংলাদেশে সেলিমের মাধ্যমে বিনিয়োগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং অনলাইনে ক্যাসিনো ব্যবসার পরামর্শ দেন। তার ব্যবসায়িক সব নথি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে। সেখানে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, মি. দো এবং সেলিমের ফিফটি-ফিফটি পার্টনারশিপ রয়েছে।

গত ১ বছর ধরে অনলাইনে ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল সেলিম প্রধান। এই সময়টাতে কি পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছেন এবং বিদেশে পাচার করেছে তা তদন্ত করে পরে জানানো হবে বলেও জানান র‍্যাব-১ অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম।

আটক সেলিম প্রধান ও তার সহযোগী আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইন, ফরেন কারেন্সি আইন, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন ও মাদক আইনে অভিযোগ আনা হবে বলেও জানান এ র‌্যাব কর্মকর্তা।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এমআরকে