Alexa যেভাবে তিনি মোহিত চৌহান

ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৮ সফর ১৪৪১

Akash

যেভাবে তিনি মোহিত চৌহান

সৈয়দা সাদিয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৮ ১২ মার্চ ২০১৯  

মোহিত চৌহান

মোহিত চৌহান

সময়টা ২০০৯ সালের। আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগের কথা। সে সময় অভিষেক বচ্চন ও সোনম কাপুর অভিনীত ‘দিল্লী সিক্স’ ছবিতে এ আর রহমানের সঙ্গীত পরিচালনায় ‘মাসাক্কালি’ গানটি গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন একজন সংগীতশিল্পী। এর আগে যিনি ছিলেন হিমাচল প্রদেশের একজন বেকার বাসিন্দা। তিনিই একটি গান গেয়ে সে সময় মুগ্ধতার ছাপ ছড়িয়েছিলেন সর্বত্র। নাম তার মোহিত চৌহান।

যিনি ওই সময়কার অনেক হিট গানকে ছাপিয়ে ফ্লপ সিনেমার গানটি গেয়ে হয়েছিলেন বছরের শীর্ষ জনপ্রিয় গায়ক। এছাড়াও সে সময় বাংলাদেশেতো এই নামের পোশাকে বাজার ছেয়ে গিয়েছিল। যারা সংগীতের তাল-লয় সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা রাখেন তারা শুনে এক কথায় একমত হবেন যে, গানটি গাওয়া বেশ কঠিন। সে কঠিন গানকে সহজাত প্রতিভায় কন্ঠে ধারণ করে শ্রোতাদের মোহিত করেছিলেন বিমুগ্ধ। 

গায়ক হওয়ার আগে তিনি এমনটাই বলেছিলেন, ‘গায়ক না হলে হয়তো রাখাল হয়ে হিমাচলের ভেড়ার পাল নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম’। নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত হতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছিল তার। পড়াশোনা শেষ করার পর বন্ধুর অফার দেয়া চাকরিকে পেছনে ফেলে বেছে নিয়েছিলেন গান-বাজনাকে।

পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থেকেও শুধুমাত্র ভালোবাসার টানে গানের ভুবনকে আপন করে নিয়েছিলেন এই সংগীতশিল্পী মোহিত। মুম্বাইয়ে এসে গড়ে তোলেন ব্যান্ড দল ‘সিল্ক রুট’। এছাড়াও প্রথম অ্যালব্যামের ‘ডুবা ডুবা’ গানটি ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়, পুরস্কারও জিতেছিল। কিন্তু পরে আর সেভাবে ব্যান্ডটিকে পাওয়া যায়নি। একটা সময় পর ব্যান্ড দলটা ভেঙেই যায়।

এরপর প্রীতমের সুরে ‘জাব উই মেট’ এর একটি অ্যালব্যাম সুপারহিট হয়েছিল তার। এই সিনেমার ‘তুম সে হি’ গানটাও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। প্লেব্যাকে এই গান দিয়েই পরিচিতি পেতে থাকেন মোহিত। তবে তার আগে আমির খানের কালজয়ী ছবি ‘রং দে বাসন্তী’তে গান গেয়েছেন এই সংগীতশিল্পী।

তবে, মোহিতের প্রথম প্লেব্যাক ২০০২ সালের ‘রোড’ ছবিতে। ‘তুম সে হি’ গানটির পর নিয়মিত প্লেব্যাক করতে থাকেন তিনি। তবে রীতিমতো তুমুল আলোচনায় চলে আসেন দিল্লি সিক্স সিনেমা ‘মাসাক্কালি’ গানের দারুণ জনপ্রিয়তার পর। সংগীত প্রেমীদের মাঝে প্রিয় গায়ক হিসেবে স্থান করে নেন। প্রায় একই সময়ে কামিনে সিনেমায় ‘প্যাহেলি বার মহাব্বত’, লাভ আজকালের ‘ইয়ে দুরিয়া’, ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন মুম্বাই-এর ‘পি লু’, আনজানা আনজানির ‘তুঝে ভুলা দিয়া’ গানগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

এদিকে, ২০১১ সালে এ আর রহমানের সুরে ইমতিয়াজ আলীর ‘রকস্টার’ সিনেমায় গান করে নিজেকে আরো অনন্য করে তোলেন সংগীতশিল্পী মোহিত। নিঃসন্দেহে এটাই বলিউডে এই দশকের অন্যতম সেরা অ্যালব্যাম। সঙ্গীতপিপাসুরা তার কণ্ঠে ‘জো ভি হো’, ‘শাহের মে, ‘হাওয়া হাওয়া’, ‘তুম হো পাস’, ‘নাদান পারিন্দে’ গানগুলো শুনে বিমুগ্ধ হয়েছিল। 

অভিনেতা রনবীর কাপুরের দুর্দান্তে অভিনয়ের সাথে তার কন্ঠের দ্যূতি পুরো ভারত একাত্ব হয়ে উঠেছিল। এখনো এই ছবির গানগুলো সমানভাবে পুরো বিশ্বে সমাদৃত। রকস্টারের পর অনেকেই ভেবেছিলেন মৌহিত চৌহান বলিউডে রাজত্ব করবেন। তবে সেভাবে আর সমুজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারেননি। অবশ্য ততদিনে তিনি তারুণ্যের বয়স ছাড়িয়ে গেছেন। এর মাঝে বারফি সিনেমার ‘আলা বারফি’, এক থা টাইগারের ‘সাঁইয়ারা’, হিরোপান্তির ‘রাব্বা’গানসহ বেশকিছু গান শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। 

তবে এখনো প্লেব্যাক করেন মোহিত কিন্তু আগের মত তেমন জনপ্রিয়তা নেই তার। গত বছর প্যাডম্যান, লায়লা মজনু ছবিগুলোতেও গান করেছেন। এই বছর মুক্তি প্রতিক্ষীত কলঙ্ক, হাম চার, সুপার ৩০ ছবিতেও প্লেব্যাক করেছেন, প্রত্যাশা সকলের দ্যূতি ছড়াবেন। বাকিটা সময়ে বলে দেবে।

তবে একটি দুঃসংবাদ, মাসাক্কালি বা রকস্টারের গানগুলোর জন্যই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেতে পারতেন মোহিত কিন্তু ব্যাটে বলে তা হয়নি। তবে দুটোর জন্যই ফিল্মফেয়ার পেয়েছেন এই শিল্পী। জনপ্রিয়তার দিক থেকে তিনি কতটুকু এগিয়ে থাকবেন জানি না, তবে কণ্ঠের দ্যূতিতে যে অনেক এগিয়ে আছেন সেটা নিশ্চিতভাবে বুঝা যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ