Alexa যেভাবে অপমৃত্যু হয় অ্যাম্বুলেন্সটির

ঢাকা, সোমবার   ২২ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৭ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০

যেভাবে অপমৃত্যু হয় অ্যাম্বুলেন্সটির

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৫৪ ২৫ জুন ২০১৯  

ধ্বংস হয়ে যাওয় উপজেলার একমাত্র সি-অ্যাম্বুলেন্সটি  ছবি: সংগৃহীত

ধ্বংস হয়ে যাওয় উপজেলার একমাত্র সি-অ্যাম্বুলেন্সটি ছবি: সংগৃহীত

নষ্ট হয়ে গেছে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরাঞ্চলের অসহায় দুস্থ মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত সরকারি বরাদ্দের একমাত্র সি-অ্যাম্বুলেন্সটি। এজন্য আক্ষেপ করেছেন এর উপকারভোগী চরশালেপুর গ্রামের বাসিন্দারা।

জানা যায়, গত ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, কেন্দ্রীয় ঔষাধাগার হতে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স /ওয়ান বেড স্যালাইন বোট দেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সটি পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও অর্থ বরাদ্দসহ দিক নির্দেশনা চেয়ে ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর ও পরের বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক বরাবর দুটি চিঠি প্রেরণ করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় গত ২০১৪ সালের ২০ এপ্রিল চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্সটি চর হরিরামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কে. এম. ওবায়দুল বারী দিপুর দায়িত্বে দেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে চিঠি দেওয়া হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গত ২০১৪ সালের ১২ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুসারে হরিরামপুরের ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট অ্যাম্বুলেন্সটি হস্তান্তর করেন।

জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে বরাদ্দ পাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি প্রথমে এক বছর উপজেলার গোপালপুর ঘাটে পরেছিল। পরে সরিয়ে সদর ইউনিয়নের জাকেরের শুরা ব্রিজের নিচে খালের ভেতর প্রায় ৫ বছর কাদা মাটিতে ফেলে রাখা হয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন সি-অ্যাম্বুলেন্সটি বছরের পর বছর অযত্নে কাদামটিতে পড়ে থেকে এখন নষ্ট হয়ে গেছে। সরজমিনে ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্সটির ইঞ্জিনসহ প্রয়োজনীয় প্রায় সকল সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে।

জানতে চাইলে হরিরামপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান কে. এম. ওবায়দুল বারী দিপু বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে বোটটি আমার তত্বাবধানে দেওয়া হলেও কোনো চালক দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি এর ইঞ্জিন খুবই দুর্বল হওয়ায় নদী পথে রোগী আনা-নেওয়া সম্ভব হয় নাই।

পরবর্তীতে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সটির বিষয়ে কোনো খোঁজখবর রাখেননি বলে জানান সাবেক ওই চেয়ারম্যান।

চরহরিরামপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আমির হোসেন খান বলেন, আমি চেয়ারম্যান হবার পর চরাঞ্চলের রোগী আনা-নেওয়া করার জন্য অ্যাম্বুলেন্সটি সচল করতে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এজিএম বাদল আমিনকে অবগত করেও সুফল পাইনি।

চরশালেপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তারা অ্যাম্বুলেন্সটির কথা জানতেন না। আক্ষেপ করে বলেন, চরে কোনো মানুষ অসুস্থ হলে তাকে ভ্যান অথবা তক্তা ও বাঁস দিয়ে মাচা বানিয়ে ট্রলারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। 

ট্রলারে নদী পার হতে দীর্ঘ সময় লাগে। অনেক সময় গর্ভবতী মায়ের সন্তান নৌকাতে প্রসব হয়। সঠিক সময় হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে গুরুতর অসুস্থ রোগী মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আবুল কালাম আজাদ বলেন, অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের নির্ধারিত এলাকার বাইরে থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখেনি। তাছাড়া হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট বিভাগ সবকিছু তদারকি করে থাকে। এখন যেহেতু এটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে তাই এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পরামর্শ চেয়ে লিখিত আবেদন করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএস