যেখানে হাবিপ্রবিই প্রথম

ঢাকা, সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৪ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪১

Akash

যেখানে হাবিপ্রবিই প্রথম

মিরাজুল মিশকাত, হাবিপ্রবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৬ ৭ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৯:২২ ৭ মার্চ ২০২০

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক

১৯৯৯ সালে ১২৫ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। কয়েক বছরে বেশ কিছু কর্মকাণ্ডে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়কে ছাড়িয়ে গেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। 

বিদেশি শিক্ষার্থী

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আছেন ১৫৪ বিদেশি শিক্ষার্থী।

সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা হয়। তবে কয়েক বছরে এসব শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও হাবিপ্রবির অবস্থান এখনো শীর্ষেই। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আছেন ১৫৪ বিদেশি শিক্ষার্থী। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল হলে ১২৮ জন ছাত্র ও ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে ২৬ জন ছাত্রী আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আবাসিক হল হবে। এছাড়াও কয়েক বছর ধরে দেশি শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে স্থান সংকুলান এখনো হয়নি। তাই বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারে আগ্রহ কম আমাদের।

ক্যারিয়ার এডভাইজারি সার্ভিস (ক্যাডস)

ক্যারিয়ার এডভাইজারি সার্ভিস (ক্যাডস)

মুজিববর্ষে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাত্র কেন্দ্রে (টিএসসি) ক্যারিয়ার এডভাইজারি সার্ভিস (ক্যাডস) শিগগিরই উদ্বোধন করবেন ভিসি। পৃথিবীর যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির চাকরির  সুযোগ সুবিধা, যে কোনো চাকরির আবেদনের যোগ্যতা ও আবেদনের শেষ তারিখসহ  বিভিন্ন তথ্যসেবা দেয়া হবে এই অফিস থেকে। 

এ বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. মু. আবুল কাসেম বলেন, মুজিববর্ষে হাবিপ্রবির সব বিভাগের শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপহার হবে এটি। সবকিছু ঠিক থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ক্যাডসের যাত্রা শুরু হচ্ছে হাবিপ্রবি থেকেই।

ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ক্লিনিক 

ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ক্লিনিকের যাত্রা শুরু করেন হাবিপ্রবি ভিসি।

মানুষ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু পশু-পাখিরা অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স নেই। তাই নেয়া হয় না তাদের কোনো চিকিৎসা কেন্দ্রে। তবে এসব পশু-পাখিদের জন্য ব্যতিক্রমী এক ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ক্লিনিকের যাত্রা শুরু করেন হাবিপ্রবি ভিসি। 

গত ১২ ফেব্রুয়ারি তিনটি গরুর অস্ত্রপাচারের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে এই বিশেষায়িত ক্লিনিকটি। পশু-পাখি অসুস্থ হলে মোবাইলে ফোন করে ঠিকানা দিলে সেখানে পৌঁছে যাবে এই ক্লিনিক। আর সেখানে হবে চিকিৎসা। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. ফজলুল হক বলেন, উপাচার্য মহোদয়ের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হল। শিক্ষার্থীরা পুস্তুকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সময় ফুরিয়ে এসেছে। এখন থেকে তারা সরাসরি হাতে কলমে জটিল জটিল অস্ত্রপাচার দেখে নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে পারবে।

কৃষক সেবা কেন্দ্র

মুজিববর্ষে দেশের প্রথম ‘কৃষক সেবা কেন্দ্রের’ উদ্বোধন হয় হাবিপ্রবিতে

মুজিববর্ষে দেশের প্রথম ‘কৃষক সেবা কেন্দ্রের’ উদ্বোধন হয় হাবিপ্রবিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম ৯ জানুয়ারি উদ্বোধন করেন সেবাকেন্দ্রটির। 

এরইমধ্যে কৃষক সেবা কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন স্থানীয় কৃষকরা নানা সমস্যার সমাধান পেতে শুরু করেছেন। এতে স্থানীয় কৃষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সেতুবন্ধন হয়েছে। 

দিনাজপুরের কৃষির মানোন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে সেবাকেন্দ্রটি। পাশাপাশি এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঠ পর্যায়ে গবেষণার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে সেবা প্রদান করছেন স্থানীয় কৃষকদের। পরে জনবল বৃদ্ধির ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

ভিসি অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম বলেন, এটি আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল, অবশেষে মুজিববর্ষের শুরুতে তা পূর্ণতা পেল। কোনো প্রান্তিক কৃষক তাদের যেকোনো সমস্যা নিয়ে এখানে আসলে আমরা সে অনুযায়ী কাজ করবো। প্রয়োজনে কৃষকদের সঙ্গে তাদের মাঠে যাবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম/এমএইচ