যুবকদের নতুন স্বপ্ন কুচিয়া চাষ

ঢাকা, বুধবার   ২২ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪২৬,   ১৭ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

যুবকদের নতুন স্বপ্ন কুচিয়া চাষ

মেহেরপুর প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১২:১২ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১২:১৬ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কুচিয়ার ব্যাপক চাহিদা কাজে লাগিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যে মেহেরপুরে শুরু হয়েছে কুচিয়া চাষ।

এতে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বেকার যুবক এবং দরিদ্র কৃষক। যার সফলতা পেতে শুরু করেছেন মেহেরপুরের একদল বেকার যুবক।

বাংলাদেশ পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক সহায়তায় মেহেরপুরের গাংনীর পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে প্রথম পর্যায়ে সাহারবাটি গ্রামের ১১ জন বেকার যুবককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

ওই যুবককের দলটি এক বিঘা পতিত জমিতে ১২ টি হাউজ খনন করে। হাউজে ছাড়া হয়েছে স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা কুচিয়া। হাউজগুলো এখন কুচিয়াতে পরিপূর্ণ। কয়েকদিন পরেই শুরু হবে বিক্রি।

সাহারবাটি গ্রামের কুচিয়া চাষি উদ্যোক্তা যুবক রিপন হোসেন বলেন, হাউজ তৈরি ও সরঞ্জাম সহায়তা পাওয়ায় আমাদের তেমন কোন বিনিয়োগ করতে হয়নি। শুধুমাত্র ৫ কেজি কুচিয়া কেনা হয়। স্থানীয়ভাবে জমি লিজ নিয়ে সেখানে চাষ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, কুচিয়ার প্রধান খাবার হচ্ছে মাছ ও মাছের পোনা। দেশীয় তেলাপিয়া, মনোসেক্স, শিং ও মাগুর জাতীয় মাছ হাউজগুলোতে দেয়া হয়েছে। এসব মাছের বাচ্চা কুচিয়ার প্রধান খাবার।

কুচিয়া চাষি কয়েকজন বলেন, চাষের খরচ একেবারেই কম। আমরা যে কুচিয়া প্রথমে দিয়েছিলাম তাতে অনেক বাচ্চা দিয়েছে। ওই বাচ্চাগুলো দিয়ে হাউজের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পোনা বিক্রিও করা হচ্ছে। আর কয়েকদিন পরেই পূর্ণবয়স্ক কুচিয়া বিক্রি করা হবে। শীত মৌসূমে প্রতি কেজি কুচিয়া ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি দরে পাইকারী বিক্রি হয়।

পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, বাড়ির আঙ্গিনায়ও যে কেউ লিফট হাউজ পদ্ধতিতে কুচিয়া চাষ করতে পারেন। ফলে সহজেই একটি দরিদ্র পরিবার কুচিয়া থেকে আয় করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। সে লক্ষ্যে পিকেএসএফ’র সহায়তায় এ উপজেলার ৮০টি পরিবার ও বেকার যুবকদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কুচিয়া চাষ করানো হচ্ছে।

জেলা মৎস্য অধিদফতরের খামার ব্যবস্থাপক ড. আসাদুজ্জামান মানিক বলেন, কুচিয়া জলজ প্রাণী হলেও একটি সু-স্বাদু ও উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ মাছ। যা চীন, জাপান, মঙ্গোলিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের ১৫টি দেশে রপ্তানি হয়। এর মধ্য দিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হচ্ছে।

গাংনী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রোকসানা খাইরুন নেছা বলেন, কুচিয়া চাষের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এ দিকে আমাদের নজর রয়েছে। খুবই অল্প জায়গা ও স্বল্প বিনিয়োগে যে কেউ কুচিয়া চাষ করতে পারেন। কুচিয়া চাষ সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে অর্থনীতি সম্মৃদ্ধ করতে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। 

ডেইল বাংলাদেশ/এমকে

Best Electronics