Alexa যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ৯ ১৪২৬,   ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৮ ১১ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:১৬ ১১ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত বেড়েই চলেছে। আর এ কারণে নড়েচড়ে বসেছে পুরো বিশ্ব। বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব দেশেই নাক গলাতে আসে। ফলে সেসব দেশের সঙ্গে সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়ে। মেক্সিকো থেকে শুরু করে ইরান পর্যন্ত বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে দেশটি। তারই ধারাবাহিক বিবরণ তুলে ধরা হলো-

মেক্সিকোর সঙ্গে যুদ্ধ

১৮৪৬ থেকে ১৮৪৮ সালে মেক্সিকোর সঙ্গেই প্রথম যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেমস কে পোলকের চাপিয়ে দেয়া একটি যুদ্ধ ছিল এটি। এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় টেক্সাসকে কেন্দ্র করে। যা মেক্সিকোর কাছ থেকে এক দশক পূর্বে স্বাধীনতা লাভ করেছিল। যুদ্ধের দুই বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার খরচ করে। এই যুদ্ধে চূড়ান্তভাবে জয়ী হয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর মেক্সিকোর ভূখণ্ডের ৩ ভাগের এক ভাগ যুক্তরাষ্ট্রে দখলে চলে যায়। মেক্সিকো যুদ্ধে ১৩ হাজার ২৮৩ মার্কিন সেনা নিহত হয়।

স্পেন

স্পেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষণস্থায়ী যুদ্ধ ঘটে ১৮৯৮ সালে। ইতিহাসের প্রথম ‘গণমাধ্যম যুদ্ধ’ বলে আখ্যা দেয়া হয় এই যুদ্ধকে। মার্কিন কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে এ যুদ্ধ ঘোষণা করে মনরো মতবাদের প্রেক্ষাপটে। চার মাস স্থায়ী সেই যুদ্ধে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সদস্য মারা যায়। বিপরীতে প্রায় ১৬ হাজার  স্প্যানিশ সৈন্য প্রাণ হারায়। এ যুদ্ধের ব্যয় ধরা হয় ১০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ যুদ্ধের পর ঊনবিংশ শতকের শেষভাগে বৈশ্বিক শক্তিসম্পন্ন এক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র।

জার্মানি

১৯১৪ সালে ইউরোপে যুদ্ধ শুরু হয়। একে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বলা হয়। এ যুদ্ধের প্রথম তিন বছর যুক্তরাষ্ট্র নিরপেক্ষ ছিল। ১৯১৭ সালের ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয়। তার ১৯ মাস পর বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়। এ যুদ্ধে এক লাখ ১৬ হাজার ৫১৬ জন মার্কিন সেনা মারা যায়। এতে ৩৮১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউরোপ

১৯৪১ সালের ৮ ডিসেম্বর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মিত্রজোটে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর আগের দিন পার্ল হারবারে জাপানিদের বোমা বর্ষণ ঘটে। জার্মানি ও ইতালি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার তিন দিন পরই যুক্তরাষ্ট্রও দেশ দু’টির বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেয়। ১৯৪৫ সালের মে মাসে ইউরোপীয় যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। আগস্টে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা ফেলার নির্দেশ দেন। যার আঘাতে বিধ্বস্ত হয়ে সে বছরই আত্মসমর্পণ করে জাপান।

কোরিয়ান

কোরিয়ান যুদ্ধ শুরু হয় ১৯৫০ সালে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুমান উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীকে দক্ষিণ থেকে উৎখাত করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের সমর্থন নেয়। তৎকালীন মার্কিন জেনারেল ডগলাস ম্যাক আর্থারের কাজকে যুদ্ধ হিসেবে ব্যাখ্যা করে সংঘর্ষে জড়ায় চীন। ডুইট আইজেনহোয়ার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এ যুদ্ধ শেষ হয়। যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮৯ দশমিক ৮১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়। এতে প্রায় ৩৬ হাজার মার্কিন সেনা মারা যায়।

ভিয়েতনাম

মার্কিন ইতিহাসের এক ব্যর্থ যুদ্ধ। ভিয়েতনামিরা ফরাসিদের পরাজিত করে উপনিবেশবাদ যুগের অবসান ঘটায় ১৯৫৪ সালে। পরবর্তীতে আঞ্চলিক একটি সংঘাত থেকে ভিয়েতনাম যুদ্ধ রূপ নেয় ১৯৫৫ সালে। ১৯৬৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর দিয়েমকে হত্যা করা হয়। নতুন সামরিক নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ ভিয়েতনামি সরকার ভিয়েতনামিদের সমর্থন হারাতে শুরু করে। ১৯৬০ এর দশকের শেষদিকে যুদ্ধের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জনসাধারণের সমর্থন হারাতে শুরু করে। ১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয় আমেরিকা। ১৯৭৫ সালে দক্ষিণ ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট উত্তর ভিয়েতনামের কাছে পরাজিত হয়। এ যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৮৪৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। যুদ্ধে ৫৮ হাজার সেনা নিহত হয়।

আফগানিস্তান

২০০১ সালে শুরু হওয়া আফগান যুদ্ধ এখনো চলমান। ২০০১ সালে ওসামা বিন লাদেনের কর্তৃক আল-কায়েদা হামলা চালিয়েছে এমন অভিযোগে আফগান সরকারের কাছে লাদেনকে হস্তান্তর করার আহ্বান জানায়। তালেবানরা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ২০০১ সালের হামলার পর থেকে আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক জোট বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৩ হাজার সৈন্য মারা যায়। এরইমধ্যে ২ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রের। এ সংঘাতে ৩২ হাজারেরও বেশি বেসামরিক লোক মারা যায়। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলে এখনো তালেবান-মার্কিন শান্তি আলোচনা চলছে।

ইরাক

প্রচলিত আছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে ইরাকে হামলা চালায়। ইরাকের এ সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় এক ট্রিলিয়নের বেশি মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হয়। সাদ্দামের কাছে ব্যাপক অস্ত্র রয়েছে বলে মার্কিন সেনারা ২০০৩ সালে ইরাকে আক্রমণ করে। এখন পর্যন্ত সাদ্দাম হোসেনের সেই বিধ্বংসী অস্ত্রের সন্ধান দিতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। সাত বছর পাঁচ মাসব্যাপী এ যুদ্ধে প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনা মারা যায়।

ইরান

নতুন বছরে পদার্পন করেই বিশ্ব দেখল আরেক সংঘাত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হয়। এরপর থেকেই বিশ্ব পরিস্থিতি উত্তেজনাকর। সোলেইমানিকে দাফনের একটু আগেই ইরানের স্থানীয় সময় ৮ জানুয়ারি রাত দেড়টার দিকে ইরাকে মিসাইল হামলা শুরু হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়েছে, সোলেইমানিকে ড্রোন হামলায় হত্যার জবাব হিসেবে এ হামলা করা হয়েছে। তারা এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন শহীদ সোলেইমানি’।

সূত্র: গেটিসবার্গফ্লাগ

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস