যুক্তরাষ্ট্রে যে কারণে প্রতিবাদ সহিংসতায় রূপ নেয়

ঢাকা, শুক্রবার   ১০ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৬ ১৪২৭,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

যুক্তরাষ্ট্রে যে কারণে প্রতিবাদ সহিংসতায় রূপ নেয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:২১ ১ জুন ২০২০  

পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ (ছবি: সংগৃহীত)

পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ (ছবি: সংগৃহীত)

সম্প্রতি আফ্রিকান আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর জের ধরে গড়ে ওঠা প্রতিবাদ সহিংসতায় রূপ নেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। অধিকাংশ জায়গাতেই প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলো শুরু হয়েছিল শান্তিপূর্ণভাবেই এবং কয়েকটা জায়গায় শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণই ছিল।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিক্ষোভকারীরা শেষ পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে, পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে, ভাংচুর করেছে ও দোকানপাট লুটের ঘটনাও ঘটেছে। এসবের জের ধরে দেশটির ১৫টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের পাঁচ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা অনেকেই এর সঙ্গে ২০১১ সালে ইংল্যান্ড দাঙ্গার মিল খুঁজে পান- যেখানে পুলিশের গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হবার প্রতিবাদে দাঙ্গার মধ্যে ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল।

কিলি ইউনিভার্সিটির ক্রাউড বিহ্যাভিয়ার অ্যান্ড পাবলিক অর্ডার পোলিশিং বিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ক্লিফর্ড স্টট বলছেন, ফ্লয়েডের মৃত্যুর মতো ঘটনা মুহূর্তটি তৈরি করেছে, কারণ পুলিশ ও কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে যে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সেটিই এখানে প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে।

তিনি বলছিলেন, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য আছে সেখানে সংঘাত অনেকটাই অবশ্যম্ভাবী।

এর মানে হলো, পুলিশ যখনই উৎসাহী হয়ে উঠেছে বলে মনে হয়েছে সেটি দাঙ্গাকারীদেরও বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে শক্তি যুগিয়েছে।

দিনের বেলায় প্রতিবাদগুলো শান্তিপূর্ণই ছিল

পুলিশী পদক্ষেপ যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ালো

বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে সহিংস প্রতিবাদ কমই হতো- তবে প্রতিবাদের ক্ষেত্রে পুলিশ কেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এখানে সেটি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রফেসর স্টট বলছেন, দাঙ্গা হলো দুই পক্ষের মিথষ্ক্রিয়ার ফল-বিশেষত পুলিশ যেভাবে জনতাকে সামলেছে। যেমন ধরুন, বড় প্রতিবাদের ক্ষেত্রে উত্তেজনার শুরু হয় কয়েকজনের পুলিশের সঙ্গে ঠেলাঠেলির মধ্য দিয়ে।

ইউসিএলএ'র ডিন ডারনেল হান্ট মনে করেন, সপ্তাহজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ তাদের আগ্রাসী ভূমিকা দেখিয়েছে। ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন, রাবার বুলেট, টিয়ার শেল, মরিচের গুড়ো- এগুলো দিয়েই পুলিশ জবাব দিয়েছে যেখানে আগে থেকেই পরিস্থিতি উত্তেজনাকর ছিল। একই প্যাটার্ন বিশ্বজুড়ে নানা প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে দেখা যায়। যেমন হংকং।

প্রফেসর স্টট মনে করেন, প্রতিবাদে সহিংসতাকে এড়ানোর জন্য ধৈর্য্য ধারণের প্রশিক্ষণ পুলিশকে দেয়া হয়। ক্যামডেন, নিউ জার্সিসহ কয়েকটি জায়গায় যেমন পুলিশ নিজেও স্থানীয়দের সঙ্গে বর্ণবাদ বিরোধী র‍্যালিতে অংশ নিয়েছে।

রাইস ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মারলুন মুজিমান বলছেন, নৈতিক ও মনোজাগতিক বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করলেই সহিংসতার কারণ উপলব্ধি করা যায়। কোনো কিছু যখন আমরা অনৈতিক মনে করি তখন তা আমাদের মধ্যে একটি শক্ত অনুভূতির জন্ম দেয়। কারণ আমরা মনে করে করি আমাদের নৈতিক অবস্থান সুরক্ষিত থাকা দরকার।

অ্যাপল স্টোরে লুটপাট

যে কারণে লুটপাট ও ভাংচুর বেশি টার্গেট হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রে শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়েছে এবং বড় ধরণের লুটপাট হয়েছে লস এঞ্জেলস ও মিনেয়াপোলিসে।

প্রফেসর স্টট বলছেন, কিছু ক্ষেত্রে লুট করাটা ক্ষমতা দেখানোর অংশ- কৃষ্ণাঙ্গরা পুলিশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে হয়তো সহজ নয়, কিন্তু দাঙ্গার ক্ষেত্রে দাঙ্গাকারীরা একটা সময় পুলিশের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে পড়ে।

প্রতিবাদের একটি দৃশ্য

কিভাবে সহিংসতা ঠেকানো যেতো?

পাবলিক অর্ডার বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশের জন্য প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে আলোচনাটা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রফেসর স্টট বলেন, ভালো পুলিশিং হলো ‘আমরা’ ও ‘তারা’ মানসিকতা পরিহার করা।

এদিকে প্রফেসর হান্ট যুক্তরাষ্ট্রের এবারের দাঙ্গা ১৯৬৮ সালে মার্টিন লুথার কিংয়ের মৃত্যু পরবর্তী সহিংসতার চেয়ে বেশি মারাত্মক বলে ধারণা করছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ