.ঢাকা, রোববার   ২৪ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ১০ ১৪২৫,   ১৭ রজব ১৪৪০

নদীগর্ভে কাঞ্চনপুর খেয়াঘাট, যাত্রীদের দুর্ভোগ

নড়াইল প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১২:৩৬ ১০ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১২:৩৬ ১০ নভেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নড়াইলের কালিয়া পৌরসভার কাঞ্চনপুর খেয়াঘাট ভেঙে যাওয়ায় যাত্রীদের পারাপারে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একমাস আগে নবগঙ্গা নদীতে স্রোতের কারণে ঘাটটি ভেঙে নদীগর্ভে ভেসে যায়।

কালিয়া উপজেলাবাসীর নড়াইল জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় চলাচলের জন্য নবগঙ্গা নদীর কাঞ্চনপুর খেয়াঘাট পার হয়ে যেতে হয়। প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে হাজার হাজার মানুষ পারাপার হয়ে থাকে।

এছাড়া ভ্যান, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেলসহ ছোট যানবাহন এবং বিভিন্ন ধরণের পণ্য সামগ্রী এই ঘাট দিয়ে পারাপার হয়। স্রোতের কারণে ঘাটটি ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ।

কাঞ্চনপুর খেয়াঘাটের নৌকার মাঝি আকাশ বলেন, খেয়াঘাটটি গত মাসে স্রোতের বেগ বেশি থাকায় ভেঙে যায়। কয়েক দিনের মধ্যে ২০-৩০ হাত এলাকা ভেঙে নদীতে চলে যায়। ভাঙনের কারণে পাকা রাস্তার কিছু অংশ নদীতে চলে যায়। ভাঙনের আগে খেয়াঘাটটি সমান থাকায় যাত্রীসহ মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল ও অন্যান্য ছোট যানবাহন নৌকায় উঠাতে নামাতে তেমন কষ্ট হতো না। ভাঙনের কারণে বড় বড় খাদের সৃষ্টি হওয়ায় মানুষের উঠানামায় সমস্যা হচ্ছে এবং মোটরসাইকেল পারাপারেও ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। ঝুঁকপূর্ণ হওয়ায় এখন কম মানুষ এই ঘাট পার হচ্ছে। যার কারণে তাদের রুজি-রোজগার অনেক কমে গেছে।

ডিঙ্গি নৌকার মাঝি এমদাদ বলেন, সারাদিন ধরে খেয়া নৌকা চালাতে গিয়ে ভীষণ কষ্ট হয়ে যায়। নদী ভাঙনের কারণে মোটরসাইকেলগুলি নৌকা থেকে নামাতে বেশি কষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় মোটরসাইকেল নামাতে গিয়ে নৌকা থেকে কাদাপানির মধ্যে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই ঘাট পারাপারে যাত্রীদের চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল পারাপারে কষ্টের যেন শেষ নেই। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা মোটরসাইকেল খেয়া নৌকায় উঠা-নামা করছে। অনেক সময় খেয়া নৌকায় মোটর সাইকেল উঠানোর সময় পড়ে গিয়ে জামা-কাপড় নষ্ট হচ্ছে এবং আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

কালিয়া উপজেলা শহর থেকে খেয়া ঘাট পর্যন্ত পাকা রাস্তার অন্তত ১০ ফুট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। খেয়াঘাটটি ভেঙে যাওয়ায় বড় খাদের সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীরা চরম ঝুঁকি নিয়ে মোটর সাইকেল নৌকায় উঠা-নামা করছে।

স্কুল ছাত্রী তাসমিয়া জানান, তিনি কালিয়া শহীদ আব্দুস সালাম ডিগ্রি কলেজে পড়াশোনা করেন। প্রতিনিয়ত এই খেয়াঘাট পার হয়ে কলেজে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু ঘাটটি ভেঙে যাওয়ায় পারাপারের সময় খুব ভয় লাগে।

চাচুড়ি এলাকার মোটরসাইকেল চালক রজিবুল ইসলাম জানান, নদী ভাঙনের কারণে কাঞ্চনপুর খেয়াঘাটের কালিয়া পৌরসভার পাশে ভেঙ্গে যাওয়ায় পারাপারে কষ্ট বেড়েছে। জরুরিভাবে খেয়াঘাটটি মেরামতের দাবি জানান তিনি।

কালিয়া শহরের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, পণ্য সামগ্রী  কাঞ্চনপুর খেয়াঘাট দিয়ে নৌকায় পার করতে হয়। ঘাটটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

কালিয়া পৌরসভার মেয়র ফকির মুশফিকুর রহমান লিটন বলেন, নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও ব্যাপক এলাকা ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ তালুকদার বলেন, কালিয়ার কাঞ্চনপুর খেয়াঘাটটি ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর আশেপাশেও ভাঙনের উপক্রম সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রকল্প তৈরিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ