.ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ১১ ১৪২৫,   ১৯ রজব ১৪৪০

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

 প্রকাশিত: ১৭:৫৮ ১২ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ২০:৪৩ ১২ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মেক্সিকো সীমান্তে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে প্রয়োজনীয় বাজেট জোগাড়ে ডেমোক্রেটদের সঙ্গে সমঝোতা তৈরি হয়নি। এতে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে সরকারি ব্যবস্থায় সৃষ্ট চলমান অচলাবস্থা শনিবার টানা ২২তম দিনে পড়েছে। 

এদিকে ২১ ডিসেম্বর থেকে সৃষ্ট চলমান এ অচলাবস্থা ছাড়িয়ে গেছে দেশটির অতীতের সব রেকর্ড। এর আগে ১৯৯৫-৯৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমলে সর্বোচ্চ ২১ দিন অচল ছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

মেক্সিকো সীমান্তে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য দাবিকৃত ৫৭০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ ছাড়া কোনো অর্থ বাজেটে স্বাক্ষর করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে বিরোধী ডেমোক্রেটিক নিয়ন্ত্রিত যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভের নেতারা ‘জনগণের করের টাকায়’ ট্রাম্পকে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না দেয়ার ‘প্রতিজ্ঞা’ করেছে।

যদিও ডিসেম্বরের শেষ দিকে যখন এই অবচলাবস্থার শুরু হয় তখন প্রতিনিধি পরিষদ রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তখন নিম্নকক্ষে ট্রাম্পের দাবি মেনে নিয়ে একটি অর্থ বাজেট অনুমোদন পেয়েছিল, যা উচ্চকক্ষ সিনেটে গিয়ে আটকে যায়। এখন প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ বিরোধীদের হাতে চলে যাওয়ায় আর বিপাকে পড়েছেন ট্রাম্প।

দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের এক-চতুর্থাংশ বিভাগ ও সংস্থার ৮ লাখের বেশি কর্মী গত ২২ দিন ধরে বেতন পাচ্ছেন না। কারারক্ষী, বিমানবন্দরকর্মী এবং এফবিআই এজেন্টসহ আরো অনেকগুলো সরকারি সংস্থার কর্মীরা শুক্রবার তাদের নতুন বছরের প্রথম বেতন পাননি। এতে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা সড়কে নেমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিন অনেক সরকারি কর্মী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের খালি ‘পে স্লিপ’ এর ছবি পোস্ট করেছেন। বেতন দিতে না পারায় নিরাপত্তারক্ষীরা কাজে আসছেন না। যে কারণে ব্যস্ততম মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি পুরো টার্মিনাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

অচলাবস্থা নিরসনে বুধবার ডেমোক্র্যাট নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু সেই বৈঠক ওয়াক-আউট করেন তিনি। হাউজ স্পিকার ন্যান্সী পেলোসী এবং সিনেট সংখ্যালঘু দলের নেতা চাক শুমার মেক্সিকোর সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ না করার ব্যাপারে আগের অবস্থানে অটল থাকেন। এতে ট্রাম্প আলোচনা থেকে বের হয়ে আসেন।

পরে ট্রাম্প শীর্ষ দুই ডেমোক্র্যাট নেতার সঙ্গে বৈঠককে ‘সময় নষ্ট’ হিসেবেও অভিহিত করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি জরুরি অবস্থা জারি করবেন। তবে ট্রাম্প জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলে ডেমোক্রেটিক নেতারা তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী