Alexa যুক্তরাজ্যের ঝুলন্ত পার্লামেন্টের সম্ভাবনা

ঢাকা, সোমবার   ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯,   পৌষ ১ ১৪২৬,   ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

যুক্তরাজ্যের ঝুলন্ত পার্লামেন্টের সম্ভাবনা

 প্রকাশিত: ১৩:০৪ ৯ জুন ২০১৭  

ক্ষমতাসীন টোরি ও বিরোধী লেবার পার্টি উভয়ের ভোট বাড়লেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা যে কেউই পাচ্ছে না, তা এখন স্পষ্ট। ফলে বৃহস্পতিবারের আগাম নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট পেতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। এতে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার ভবিষ্যত নিয়ে সংশয় তৈরি হলো; লেবার নেতা জেরমি করবিন ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’কে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে টেরিজা মে বলেছেন, দেশে এখন প্রয়োজন স্থিতিশীলতা এবং তার দল সেটা নিশ্চিত করবে। পার্লামেন্টের মেয়াদ আরও তিন বছর বাকি থাকলেও বছরের শুরুতে ব্রেক্সিটের পক্ষে অপ্রত্যাশিত গণরায়ের পর ডেভিড ক্যামেরন সরে গেলে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন টেরিজা মে। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের ৬৫০টি আসনে ভোটগ্রহণ শেষ এই পর্যন্ত যতটির ফলাফল এসেছে; তাতে স্পষ্ট যে সরকার গঠনের মতো ৩২৬টি আসন কোনো দলই পাচ্ছে না। বিবিসি বলছে, ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দল ৩১৮টি আসন পেতে পারে, যা তাদের গতবারের চেয়ে ১২টি কম। অন্যদিকে লেবারের আসন ২২৯টি থেকে বেড়ে হচ্ছে ২৬২। গতবার ৫৪টি আসন জেতা স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (এসএনপি) আসন কমে ৩৪টিতে দাঁড়াচ্ছে; অন্যদিকে লিবারাল ডেমোক্র্যাটদের আসন পাঁচটি বেড়ে ১২টি হচ্ছে। ডেমক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি পেতে যাচ্ছে ১০টি আসন। ২০১৫-র সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন ৪ কোটি ৬৫ লাখ ভোটার। এবার ভোটার ছিল চার লাখ বেশি। তার মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। এবার লেবারদের ভোট সাড়ে ৯ শতাংশ এবং টোরিদের ভোট সাড়ে ৫ শতাংশ বেড়েছে; বড় অন্য দলগুলোর ভোট কমেছে, সবচেয়ে বেশি ১০ শতাংশ কমেছে ইউনিয়নিস্ট পার্টির। ভোটের এই ফল প্রধানমন্ত্রীর টেরিজা মে’র জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কেননা তিন বছর বাকি থাকতেই তিনি যে বাজি ধরেছিলেন, তাতে হারতে হচ্ছে তাকে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হওয়ার প্রক্রিয়া সারতে আগাম ভোট দিয়ে পার্লামেন্টে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন টেরিজা। কিন্তু ভোটচিত্র দেখে টেরিজ মে’কে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন লেবারদের উজ্জীবিত করা নেতা জেরমি করবিন। ইসলিংটন নর্থ আসনে আবার জয়ের পর করবিন বলেন, ‘তিনি যা পেয়েছেন তা হলো; রক্ষণশীলরা আসন হারিয়েছে, ভোট হারিয়েছে, সমর্থন হারিয়েছে এবং আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে।’ ‘আমার মনে হয়, তার সরে দাঁড়ানোর জন্য এসব কারণই যথেষ্ট। বিশেষ করে এমন একটি সরকারের জন্য পথ ছেড়ে দেওয়া, যারা সত্যিকার অর্থেই এ দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে।’ মধ্য বাম লেবারদের মধ্যে কট্টর বাম হিসেবে পরিচিত করবিন ভোটের ফলে খুশি হয়ে বলছেন, এটা ভবিষ্যতের জন্য আশা জাগানিয়া। ব্রেক্সিটের পর লেবারদের উজ্জীবিত করতে পারলেও লন্ডনে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলা লেবারদের কিছুটা পেছনে ঠেলে দিয়ে টোরিদের এগিয়ে দেয় বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এথনই শেষ দেখতে চাইছেন না টেরিজা মে, কেননা সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও কারও সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ এখনও তার রয়েছে। টেরিজা মে বলেন, ‘এই মুহূর্তে জন্য অন্য যে কোনো কিছু চাইছে স্থিতিশীলতার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।’ তবে ঝুলন্ত পার্লামেন্টের আভাসে যুক্তরাজ্যের মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, পাউন্ডের দাম দ্রুত পড়ে গেছে। অর্থনীতির উদ্বেগ ছায়া ফেলছে ৬০ বছর বয়সী টেরিজা মের ভাগ্যাকাশেও; তার সরকারের এক মন্ত্রী বিবিসিকে বলেছেন, দেখা যাক ভোট শেষে টেরিজা নিজেকে নিয়ে কী করেন। টোরি এমপি আনা সাব্রে বলেছেন, টেরিজা মের এখন তার পদ নিয়ে নতুন করে চিন্তা করা উচিৎ। তবে টোরিরা বলছে, ঝুলন্ত পার্লামেন্ট্ হলেও টেরিজা মে সরকার গঠনের একটি প্রয়াস চালাতে পারেন, সেক্ষেত্রে তাকে ডেমক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির সমর্থন পেতে হবে, যাদের আসন সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১০টিতে। এই দলটির এমপি সিমন হ্যামিলটন বলেছেন, তাদের দলের সমর্থন যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা তারা বুঝে নিয়েছেন। ব্রেক্সিটের ক্ষেত্রে নরদার্ন আয়ারল্যান্ডের বিষয়ে দরকষাকষি চাইবেন তারা। লেবার নেতা এমিলি থর্নবেরি বলছেন, তাদের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। লিবারেল ডেমোক্রেটস ও এসএনপির সমর্থন নিয়ে তা হতে পারে। লেবার প্রার্থীর কাছে ভোটে হেরে যাওয়া লিবডেমদের নেতা নিক ক্লেইগ বলেছেন, যুক্তরাজ্য এখন স্পটতই বিভক্ত, নতুন পার্লামেন্টের চ্যালেঞ্জ হবে এমন একটি যৌক্তিক সরকার গড়া, যা দেশের এই বিভেদ মুছতে সচেষ্ট হবে। লিবডেমদের নেতা ভিন্স কেবল অবশ্য টোরি কিংবা লেবার কারও সঙ্গেই জোট গঠনে যাবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। এবার ভোটে দলের ভরাডুবিতে হতাশ এসএনপি নেতা নিকোলা স্টারগন বলেছেন, ক্ষমতায় রক্ষণশীলদের বিকল্প অন্য কাউকে চান তারা। ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই