যার রূপে বিশ্ববাসী মুগ্ধ, তার অভিনয়ে দর্শকও বিমোহিত! 

ঢাকা, সোমবার   ১৭ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৫ ১৪২৬,   ১২ শাওয়াল ১৪৪০

যার রূপে বিশ্ববাসী মুগ্ধ, তার অভিনয়ে দর্শকও বিমোহিত! 

সৈয়দা সাদিয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:২৭ ২৭ মে ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ঐশ্বরিয়া রাই। তার শুরুটা এই নামে হলেও বিবাহের পরে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। তবে অভিনয় জগতে পদার্পণ করার আগে তিনি মডেল হিসেবে কাজ করতেন এবং ১৯৯৪ সালে বিশ্ব সুন্দরী খেতাব অর্জন করার পর ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেন। ওই সময় সান সিটিতে বসেছিল বিশ্বসুন্দরীদের মিলনমেলা। তামাম বিশ্বের সুন্দরীদের হারিয়ে মুকুট অর্জন করেন সদ্য একুশে পা দেয়া এই ভারত কন্যা। এরপর পুরো বিশ্ববাসী তার রূপে মুগ্ধ হয়, আলোড়ন সৃষ্টি করেন চারদিকে।

এরপর এই বিশ্ব সুন্দরী নিজের সৌন্দর্যকে আরো বিমোহিত করতে নাম লিখালেন চলচ্চিত্রে। সেলুলয়েডের পর্দায় ‘স্বপ্নকন্যা’ হয়ে প্রতিভার আলো ছড়ালেন তিনি। শরৎ বাবুর ‘পার্বতী’ রুপে যেমন তিনি সফল, তেমনি রবি ঠাকুরের ‘বিনোদিনী’ হয়েও। কিরনজিতের পর সম্রাট আকবরের প্রেয়সী ‘যোধা’ হয়ে নিজেকে করেছেন পরীক্ষিত। যার নামেই প্রকাশ পায় রূপ, গুণের মহিমা। তিনি ‘নিম্বুরা নিম্বুরা’ থেকে ‘ক্রেজি কিয়া রে’র নৃত্যপটীয়সী, ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম সেরা সুন্দরী, বলিউডের অত্যন্ত জনপ্রিয় নায়িকা ‘ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন’। যিনি সমগ্র কর্মজীবনে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রসহ চল্লিশটিরও বেশি হিন্দি, ইংরেজি, তামিল এবং বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

বিজ্ঞাপনে ঐশ্বরিয়া যেমন খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তেমনি সিনেমায়ও হয়েছিলেন প্রশংসিত। এরপর হিন্দিতে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর বিখ্যাত পরিচালক মনিরত্নমের ছবি ‘ইরুভার’-এ তামিল ছবি দিয়ে সে ভাষায় অভিনয় শুরু করেন। এরপর ‘জিন্স’সহ বেশকিছু দক্ষিণী ছবিতে দেখা গেছে তাকে। তবে বলিউডে তার প্রথম ছবি ‘অউর পেয়ার হোয়া গ্যায়া’, তবে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি আসে সঞ্জয় লীলা বানশালীর সাড়া জাগানো ছবি ‘হাম দিল দে চুকে সানম’-এ অভিনয় করে।

এই সিনেমায় তিনি দর্শকদের যেমন বিমোহিত করেন, ঠিক একই বছর মুক্তি পাওয়া ‘তাল’ ছবিটি তার জয়রথকে আরো এক ধাপ এগিয়ে দেয়। এরপর যশরাজ ফিল্মসের ‘মোহাব্বতে’ স্বল্প উপস্থিতিতেও নজর কাড়ে দর্শকদের। সব মিলিয়ে ওই সময়টা জয়জয়কার হতে থাকে ঐশ্বরিয়ার। এরপর আরো বড় সাফল্য আসে বানশালীর ‘দেবদাস’ দিয়েই। এই ছবিতে পার্বতী রূপে এককথায় তিনি অনন্যা, এর ঠিক পরের বছরেই ঋতুপর্ণ ঘোষের হাত ধরে আসলেন বাংলা ছবির জগতে। রবি ঠাকুরের ‘চোখের বালি’র বিনোদিনী হয়ে দর্শক থেকে সমালোচক সবার মন জয় করলেন ঐশ্বরিয়া। 

এর মধ্যে তিনি করে ফেললেন ‘হামারা দিল আপকে পাস হ্যায়’, ‘রেইনকোট’, ‘জোশ’, ‘হাম কিসেসে কাম নেহি’, ‘কুছ না কাহো’,‘খাঁকি’র মতো অনেক জনপ্রিয় সিনেমা। এরপর ২০০৬ সালে জনপ্রিয় সিরিজ ‘ধুম’ এ আসেন একেবারে ভিন্নরূপে। আলোচনা-সমালোচনা যাইহোক ওই ছবিতে তিনি ছিলেন সবচেয়ে সফল। ‘উমরাওজান’ হয়ে সেভাবে আলো ছড়াতে না পারলেও ‘যোধা আকবর’-এ মুগ্ধতা ছড়িয়েছিলেন ঠিকই। মাঝে ছিল ‘গুরু’ ছবিটি। আরো অভিনয় করেছিলেন ‘সরকার রাজ’, ‘অ্যাকশন রিপ্লে’, ‘গুজারিশ’, ‘রাবন’ ছবিতে।

ঐশ্বরিয়া জনপ্রিয় ছবি ‘ব্রাইড এন্ড প্রেজুডিস’ ছবির মাধ্যমে হলিউডের জগতে প্রথম পা রাখেন, এরপর ‘প্রোভোকড’, ‘পিংক প্যান্থার’সহ বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। তবে হলিউডের ছবিতে নিয়মিত হতে গিয়ে বলিউডে খানিকটা অমনোযোগী হয়ে পড়েন সাবেক এই বিশ্ব সুন্দরী, না হয় বলিউডে তিনিও সুপারস্টার হয়ে ফিরতেন। তবে ঐশ্বরিয়া বলিউডে বেশ কয়েক বছর বিরতি দিয়ে ‘জাজবা’ ছবি দিয়ে আবারো ফেরেন সেলুলয়েডের পর্দায়। ‘সবরজিৎ’ ছবিতে প্রশংসিত হলেও ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ ছবিতে অভিনয় করে সমালোচিত হন তিনি। যদিও এই বয়সেও আবেদনময়ী চরিত্রে বেশ দারুণভাবে নিজেকে মানিয়ে নেন অ্যাশ। ধীরে ধীরে বলিউডে আবার নিয়মিত হবার চেষ্টায় থাকেন তিনি।

তবে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে শুধু অভিনয় করে গেছেন তা কিন্তু না; পদ্মশ্রী পেয়েছেন, দু’বার, ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে ভূষিত হওয়াসহ আরো বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ২০০২ সাল থেকে নিয়মিত কানের লাল গালিচায় হাঁটছেন। জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত হয়ে সমাজ সচেতনতামূলক কাজে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন সাবেক এই বিশ্ব সুন্দরী। ব্যক্তিজীবনে তিনি বিয়ে করেন অভিনেতা অভিষেক বচ্চনকে। সে হিসেবে বিখ্যাত অভিনয়শিল্পী অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনের পুত্রবধূ তিনি। সংসারে রয়েছে তার একটি কন্যা সন্তান। নাম আরাধ্য।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই