.ঢাকা, শুক্রবার   ২২ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৭ ১৪২৫,   ১৫ রজব ১৪৪০

যমুনা-ইছামতিতে মাছের আকাল

কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১১:১৬ ১১ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১১:১৬ ১১ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার বুক চিরে যমুনা-ইছামতি নদী এখন শুষ্কপ্রায়। ইছামতিতে বেশির ভাগ সময় পানি থাকে না। শুস্ক মৌসুমে মরা খালে পরিণত হয়। যমুনায় সামান্য পানি থাকলেও মাছ পাওয়া যায় না। নদী দুটির বুকে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর-ডুবোচর। নৌ পারাপারে দেখা দিয়েছে চরম অসুবিধা। অনেক স্থানে জেলের নৌকাই চলে না। দেখা দিয়েছে মাছের আকাল। জেলেরা ঘাটে নৌকা বেঁধে অলস সময় পার করছেন। জীবন-জীবিকার তাগিদে পেশা ছেড়ে দিনমজুরিসহ নানা কাজ করছেন।

একসময় যমুনা-ইছামতিতে সারা বছরই থৈ থৈ পানি থাকতো। বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অবাধ বিচরণ ছিল। মাছ ধরেই স্বচ্ছল জীবিকা নির্বাহ করতো শতশত জেলে পরিরার। কিন্তু বর্তমানে নদীতে শুধু বর্ষাকালে পানি থাকলেও আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। শুষ্ক মৌসুমে এই অবস্থা প্রকট আকার ধারন করেছে। এ কারণে উপজেলার জেলে পরিবারগুলোর চরম দুর্দিন চলছে। তাদের সংসার চলছে খেয়ে না খেয়ে। 

কাজিপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রতন হালদার বলেন, আগের দিনগুলোতে এসময়ে নদীতে পানি কমে গেলেও কোলা পড়তো। সে কোলায় প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন কোলাও পড়ে না। আর যাওবা পড়ে তাতে নামীদামী মানুষেরা নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। ফলে পুরো কাজিপুরের জেলে পরিবারগুলোর অবস্থা দিন দিন  খারাপের দিকে যাচ্ছে। বর্তমানে অবস্থা এমন যে নদী আছে মাছ নেই।


 
মৎস্যজীবী শ্যামল বলেন, নদীতে প্রতিবছর পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় যমুনা-ইছামতির গভীরতা অনেক কমে গিয়ে গতিপথও পরিবর্তিত হয়েছে। তাই মাছ মিলছে না। বাজারে এখন শুধু পুকুরে চাষ করা মাছ পাওয়া যায়। বর্তমানে মাছের যে রকম আকাল চলছে তাতে মাছে ভাতে বাঙালি এ প্রবাদ মুছে যাবে।

কাজিপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, দুটো নদীরই নাব্যতা কমে গেছে। মাছের তেমন কোন অভয়াশ্রম নেই। এতে করে জেলেদের বছরের এসময় তাদের সমস্যা হয়। সরকারিভাবে কার্ডধারী জেলেদের সহায়তা করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম