.ঢাকা, সোমবার   ২২ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৮ ১৪২৬,   ১৬ শা'বান ১৪৪০

যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

 প্রকাশিত: ১২:২৮ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১২:৩১ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানি ও গত কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিপাতে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে এরইমধ্যে উপজেলার ভাঙ্গরগাছা হাটবাড়ী, নয়াপাড়া, দিঘাপাড়া, চকরতিনাথ, কুড়পাড়া, চরবাটিয়া, মূলবাড়ী, ধারাবর্ষা চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার আমন বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসলের জমিতে বন্যার পানি উঠেছে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, গত কয়েক দিন হলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। সারিয়াকান্দিতে বিএম পিলারের সঙ্গে কানেকশনে ত্রুটির কারনে ১৪ সেপ্টম্বর পর্যন্ত যমুনা নদীর পানির রিডিং সঠিক ছিল না।

শনিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি টিমের মাধ্যমে বিএম পিলারের সঙ্গে কানেকশন ঠিক করা হয়েছে। পূর্বের পানির রিডিং এর সঙ্গে বর্তমান পানির রিডিং ২১ সেন্টিমিন্টার কম ধরে হিসাব করতে হবে।

শনিবার বিকেল ৩টায় যমুনার পানি বিপদ সীমা ছুঁয়েছে। তিনি আরো জানান, আগামী ২২ সেপ্টম্বর পর্যন্ত ধীর গতিতে যমুনার পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিষার সাবিহা সুলতানা গতকাল শনিবার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে হাটবাড়ী ও ভাঙ্গরগাছা চরে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ ও বন্যার্ত ২শ’ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে ত্রাণের চাল বিতরণ করেন। এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অঃ দাঃ ) জিয়াউর রহমান, চালুয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উজান থেকে ধেয়ে আসা পানিতে ফুঁসে উঠেছে যমুনা নদী। পানি যমুনা নদীর তীর উপচে উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অভ্যন্ত্ররের গ্রামগুলোতে প্রবেশ করছে। যমুনা নদীর বৈশাখী ও রাধানগর চরের প্রায় ১ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অভ্যন্তরের সহড়াবাড়ী, শিমুলবাড়ী, কৈয়াগাড়ী, বানিয়াজান ও ভান্ডারবাড়ীর গ্রামের (আংশিক) মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়বে। নদী তীরের মানুষ প্রতিবছরের ন্যায় এবারো বন্যার আশংকা করছে। এদিকে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে শিমুলবাড়ী ও সহড়াবাড়ী পুরানো বাঁধ ভাঙ্গার আশংকরা রয়েছে। ধুনট উপজেলার ভূতবাড়ী থেকে কাজীপুর উপজেলার ঢেকুরিয়া গ্রাম পর্যন্ত দুই কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের ফলে ভূতবাড়ী, পুকুরিয়া ও ভান্ডারবাড়ী গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ বন্যার পানি থেকে রক্ষা পেয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর