ময়লা আর আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ

ঢাকা, সোমবার   ২৪ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ১৯ শাওয়াল ১৪৪০

ময়লা আর আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৩:৩৪ ১১ জুন ২০১৯  

ময়লা আর আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে লালমনিরহাট পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। রাস্তা দিয়ে চলাচল করাই যাচ্ছে না। পৌ এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় ময়লার স্তুপ জমে থাকায় সেগুলো পচে দুর্গন্ধ বাহির হওয়ায় রাস্তা চলাচলে অনুপোযুক্ত হয়ে পড়েছে। শহরের বর্জ্য নিষ্কাশনে অব্যবস্থাপনার ফলে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনায় পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সুরকিমিল, খোর্দ্দসাপটানা, শাহজাহান কলোনী, মিশনমোড় থেকে কুলাঘাটগামী শহরের প্রধান শড়কের দু’পাশে, নবাবের হাট সংলগ্ন, নর্থবেঙ্গল রোড, কুড়াটারী, খোচাবাড়ি, শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশন মোড়ের আশপাশে অস্থায়ীভাবে ময়লার স্তুপ আকারে পড়ে আছে দীর্ঘ সময় ধরে। পরিচ্ছন্নকর্মীরা মাঝে মধ্যে আবর্জনা ফেলতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোয় গেলেও অধিকাংশ স্থানের ময়লা দিনের পর দিন পড়ে থাকছে। ফলে সামান্য বৃষ্টির পানিতে এসব ময়লার স্তুপ যত্রতত্র ছড়িয়ে পড়ছে, সৃষ্টি হচ্ছে মশা-মাছির আবাসস্থল।

শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশনমোড়ের ব্যবসায়ী বাদশা মিয়া, রমজান আলী, মনতাজ আলী, হোটেল ব্যবসায়ী গোবিন্দ, স্থানীয় অধিবাসী রানিছা বেগম, শাহানা খাতুনসহ অনেকে ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধের কারণে শহরের মানুষ এখন অতিষ্ঠ। হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে চা, নাশতা খাওয়ার পরিবেশ নেই। রাস্তা-ঘাটে যত্রতত্র ময়লা ও আবর্জনা ফেলায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, পৌর শহর থেকে দূরে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা মজুদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে।

শহরের সাপটানা এলাকায় বসবাসকারী অনেক পরিবার ডেইলি বাংলাদেশকে জানায়, আবর্জনার কারণে মশা মাছির উপদ্রপ বেড়েই চলেছে। ছেলে মেয়েরাসহ পরিবারের সবাই প্রায়ই নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এই ময়লা আবর্জনার অপসারণের জন্য পৌর মেয়রকে একাধিকবার বলা হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।  

লালমনিরহাট পৌরসভার পরিছন্নতা পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, শহরের আবর্জনা অপসারণের জন্য ঝাড়ুদার রয়েছে ৯৪ জন, ড্রেন ক্লিনার আছে ২৪ জন, আবর্জনা ফেলার লেবার রয়েছে ২১ জন। এছাড়া আবর্জনাবাহী ট্রলি ৬টি এবং ট্রাক রয়েছে ৩টি। কিন্তু ট্রাকগুলি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই (প্রায় চল্লিশ বছর আগে কেনা)। ফলে একটি ঠিক থাকলে অপরটি সচল না করার কারনে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কিসমত আলী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ‘গাড়ি নষ্ট’, ‘দেরি হবে’ ইত্যাদি নানাভাবে টালবাহানা করেন। এ বিষয়ে তিনি মেয়রের নিকট অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন।

লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের গাফিলতির বিয়ষটি স্বীকার করে ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এই অবস্থা আর বেশিদিন থাকবে না। তিনি শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম