Alexa ময়নাতদন্ত-ভিসেরা রিপোর্টে বের হলো কলেজছাত্রীর মৃত্যুর রহস্য

ঢাকা, রোববার   ১৯ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ৫ ১৪২৬,   ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

ময়নাতদন্ত-ভিসেরা রিপোর্টে বের হলো কলেজছাত্রীর মৃত্যুর রহস্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:০২ ১১ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০১:২৮ ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের মাস্টার্স পড়ুয়া এক ছাত্রী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেননি, তাকে ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তার লাশের ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টে এ তথ্যই বের হয়ে এসেছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর সদর থানা পুলিশ ওই কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ১২ সেপ্টেম্বর তার বাবা বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচণায় অভিযোগে মামলা করেন। 

মামলায় অভিযোগ করা হয়, সোহেল নামে এক যুবক প্রায়ই তার মেয়েকে উত্যক্ত করতো। এক পর্যায়ে বিদেশে গিয়েও ফোনে তাকে উত্যক্ত করা হয়। বিদেশ থেকে ফিরে এসেও সোহেল উত্যক্ত করে। ঘটনার দিনও সোহেল উত্যক্ত করে।

কলেজছাত্রীর বাবা মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, শুরু থেকেই ধারণা করছিলাম আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ কোনোভাবেই সেটা মানতে চাচ্ছিল না। পুলিশের চাপের কারণেই আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করি। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট পেয়ে পুলিশকে জানালেও তারা কর্ণপাত করেননি। মামলার আসামিকে না ধরে উল্টো আমাকে হয়রানি করেন মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা।

আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়া হয় উল্লেখ করে কলেজছাত্রীর বাবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় মামলা করেন। ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট আসার পর মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের কাছে মামলাটি হস্তান্তরের আবেদন করেছেন তিনি। 

এতে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর পুলিশকে ভুল বুঝিয়ে বাদীকে দিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করিয়েছেন। এমনকি দুইটি তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরও পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করে উল্টো বাদীকে হয়রানি করেছেন।

অভিযুক্ত সোহেল মিয়া ওরফে হুসাইন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট এলাকার আক্কাছ মিয়ার ছেলে। ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ওই ছাত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কলেজ পাড়ার বাসায় ভাড়া থেকে পড়াশুনা করতেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম বলেন, দুইটি রিপোর্টই আমার হাতে এসেছে। ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টে শরীফাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। কলেজছাত্রীর গলায় আঙ্গুলের ছাপও রয়েছে। তাকে যে হত্যা করা হয়েছে সেটি স্পষ্ট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অ্যাডিশনাল এসপি (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বাদী পক্ষ মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেয়ার জন্য আবেদন করেছেন। বিষয়টি অনুমোদনের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টারে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ