Alexa মৎস্যকন্যা! বাস্তব নাকি কল্পনা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ২ ১৪২৬,   ১৭ মুহররম ১৪৪১

Akash

মৎস্যকন্যা! বাস্তব নাকি কল্পনা

 প্রকাশিত: ১৮:২২ ৩১ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ১৮:২২ ৩১ আগস্ট ২০১৮

এই নীল গ্রহের চার ভাগের তিন ভাগই পানি। বহু শতাব্দী আগে থেকে সামুদ্রিক রহস্যময় প্রাণী নিয়ে মানুষের কৌতুহলের কমতি নেই। আর এসব রহস্যময় প্রাণীদের মধ্য অন্যতম হচ্ছে "মারমেইড বা মৎসকন্যা"। লোককাহিনী অনুসারে মৎসকন্যা হল এমন এক প্রাণী যার দেহের উপরের অংশ মানুষের মতো এবং নিচের অংশ মাছের মতো। বিশ্বের বেশিরভাগ সংস্কৃতির মানুষেরা এদের অস্তিত্বের উপর বিশ্বাস করে।

সি জে এস থম্পসন, ইংল্যান্ডের রয়্যাল কলেজের সার্জনদের প্রাক্তন কিউরেটর তাঁর ‘দ্য মিস্ট্রি এন্ড লোর অব মনস্টারস’ বইয়ে উল্লেখ করেন, অর্ধ-মানব এবং অর্ধ-মাছ আকৃতির জীবের অস্তিত্ব হাজার হাজার বছর ধরে বিদ্যমান ছিল এবং ব্যাবিলনের যুগে দেবতা ওনেস, যিনি মাছ-দেবতা নামে পরিচিত; তার মাথায় একটি মুকুট এবং তার মুখে মানুষের মত দাড়ি ছিল কিন্তু কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত তিনি ছিলো একটি মাছের মতো। গ্রিক পুরাণের দেবতা ত্রিটন, যিনি ছিলেন সমুদ্রের বার্তাবাহক তার পূজা করত সিনেমবল (একটি আফ্রো-ব্রাজিলীয় ধর্ম) সহ বিভিন্ন আধুনিক ধর্মের মানুষেরা। তিনিও ছিলেন অর্ধ-মানব এবং অর্ধ-মাছ আকৃতির। অনেকেই হান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের 'লিটল মারমেইড' কাহিনির সঙ্গে পরিচিত ছিল। এটি ১৮৩৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলস মাইটারমেসে। যেটি খুবই জনপ্রিয় ছিল তৎকালীন সময়ে।

সবার মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, মৎসকন্যা বা মারমেডরা কি সত্যিই আছে? নাকি সবই লোককথা। দেখি ইতিহাস কি বলে? সারা পৃথিবীর সমুদ্র চষে বেড়িয়েছেন ক্রিস্টোফার কলম্বাস, তার লগ বুক থেকে জানা যায় তিনি যখন ক্যারিবিয়ান দ্বীপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন নাকি এক অর্ধমানবী অর্ধমাছ কে সমুদ্রবেলায় বসে থাকতে দেখেছেন। ১৮৩৩ সালে আইল অভ ইয়েলে ছয়জন জেলের জালে নাকি এক মেয়ে ধরা পরে। তিনফুট লম্বা ওই মেয়ে নাকি জেলেদের নৌকায় উঠার পর তিন ঘন্টা ছিল। সে কোনো কথা বলেনি, শুধু ফোপাচ্ছিল। কিন্তু মেয়েটির নাকি কোন মাছের মত লেজ ছিল না। কিন্ত তার দেহে সামান্য আঁশ ছিল।

জেলেরা ভয় পেয়ে ইশারায় মেয়েটিকে চলে যেতে বলে। সাগরে নেমে মেয়েটি কিছুক্ষণ পর আবার উঠে ঢেউয়ের উপর ভেসে ভেসে তাদের কৃতজ্ঞতা সরূপ ইশারা করে এবং এক সময় সাগরে হারিয়ে যায়। এ গল্প এডিনবর্গ ইউনিভার্সিটির ন্যাচারাল হিষ্ট্রির প্রফেসর ম্যাক্লিহানকে শুনান এডমন্ডসন নামে এক জাহাজের ক্যাপ্টেন। ১৮৫৭ সালের ৪ জুন, ব্রিটিশ শিপিং গ্যাজেটে লেখা আছে এক স্কটিশ নাবিক সাগরের মধ্যে ঢেউয়ের উপর এক কিশোরী কে বসে থাকতে দেখেছে। ২০০৬ সালে সুনামির পর মালায়শিয়া সাবা উপকূলে একটি মৃত মৎস্যকন্যা ধরা পরে। মৃত মৎস্যকন্যাটিকে পরে আর পাওয়া যায়নি। অনেকে বলে জুয়ান ক্যাবান নামে এক ফটোগ্রাফারের ক্যামেরার কারসাজিতে এটা করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালে ৮০ বছর বয়স্ক একজন জেলে না-কি উপকূল থেকে ২০ গজ দূরে এক মৎসকন্যাকে দেখেছিলেন। মেয়েটি না-কি গলদা চিংড়ি হাতে নিয়ে তার চুল আচড়াচ্ছিলো। কিন্ত যখনই ওই মৎসকন্যা বুঝতে পারল কেউ তাকে দেখছে ওমনি টুপ করে পানির মধ্যে তলিয়ে যায়।

২০১১ সালে মুক্তিপ্রাত্ত হলিউড মুভি 'পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান: অন স্ট্রেঞ্জার টাইডস’-এ আমরা এদের দেখতে পাই, স্কটল্যান্ডের উপকূলের বাইরের একটি দ্বীপে এক বিশেষ ভয়ঙ্কর মৎসমানব গোষ্ঠীর কথা শোনা যায়। যারা সাধারণত নীল রংয়ের দেখতে। তাদের শরীরে নীল রংয়ের চামড়া থাকে ও কিছুটা আঁশ যুক্ত। তাদেরকে কি আমরা ভুল করে মারমেইড ভাবি? মাঝে মাঝে তাদের ভেসে আসা মৃতদেহ দেখেই কি আমরা মারমেইডের মৃতদেহ হিসেবে গণ্য করি? এটা কি শুধুমাত্র শত বছরের পুরানো লোককাহিনি? না-কি সত্যি মৎসকন্যারা রয়েছে সমুদ্র তলে যে জায়গায় আমরা আজও পৌছাতে পারিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস/এসজেড