Alexa ম্যাজিক শাড়ি ।। রনি রেজা

ঢাকা, বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৩ ১৪২৬,   ১৮ মুহররম ১৪৪১

Akash

ম্যাজিক শাড়ি ।। রনি রেজা

গল্প ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:১৫ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:০৫ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

প্রচ্ছদ: গীতা বিশ্বাসের চিত্র ব্যবহার করে

প্রচ্ছদ: গীতা বিশ্বাসের চিত্র ব্যবহার করে

বাহ্। দারুণ লাগছে তো! আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আনমনেই মৃদু স্বরে বলে ওঠে বিভা। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিজেকে দেখে নেয় আরেকবার। গোলাকৃতির মুখের সঙ্গে মানিয়ে চুলের সামনের দিক ফাঁপিয়ে নিয়ে ঘাড়ের কাছে খোঁপা করেছে। খোঁপাটা যেন মজবুত হয় এজন্য দুইপাশে দুইটি ফুলওয়ালা ক্লিপ দিয়ে আটকে দিয়েছে।কপালের ওপর দিয়ে স্বর্ণলতার মতো ঝুলে রয়েছে খোপায় স্থান না পাওয়া কয়েক স্টিক চুল। ওরা মুক্তির আনন্দে দোল খাচ্ছে। ওই কয়েক স্টিক চুলই যেন বিভার সৌন্দর্য্য খানিকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিভার সৌন্দর্য্য! ভেবে স্মিত হাসে নিজেই। খোঁজে জবাব। বিভার আবার সৌন্দর্য্য আছে নাকি? পুরোটাই তো ওই গাঢ় মেকআপের কারসাজি। মুখে দু’চারটা খুদে দাগ যা ছিল; ঢেকে দিয়েছে কভার স্টিক দিয়ে। এরপর উজ্জ্বল শ্যামলা রঙের ওপর ফাউন্ডেশনের প্রলেপ দিয়ে জ্বলজ্বলে রূপ গড়েছে। এক শেড ডার্ক ফাউন্ডেশন দু’পাশে লাগিয়ে চাপা নাকটি উঁচু করে নিয়েছে। শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে ব্রাউন পিংক শেডের ব্লাশ-অন লাগিয়েছে কানের কাছে। এতে কিছুটা লাজুক ভাব ফুঁটে উঠেছে। সবই কৃত্রিম। তাহলে বিভার থাকলটা কী? এজন্যই সাজের প্রতি বিভার এত অনিহা। 

মৃদুল বিয়োগের পর আর সেভাবে সাজা হয়নি। মৃদুলের কঠিন আবদারের জন্যই সাজতে হতো। তাও মাঝে-মধ্যে। আর সাজতো সেই ছোট বেলায় মায়ের হাতে। মা এক প্রকারের জোর করেই সাজিয়ে দিতেন তখন। মায়ের হাত থেকে ছুট পেয়েই বেণী দুলিয়ে মাঠে ছুটে যেত বিভা। ওই পর্যন্তই। বাড়ির পশ্চিম পাশে বেতঝাঁড়ে ঘেরা মাঠটিতে একবার হাজির হতে পারলেই এক ঝটকায় চুলগুলো ছেড়ে দিয়ে মেতে উঠত গোল্লাছুট, বউটুবানি, এক্কাদোক্কা খেলায়। পুরো মাঠে বিচরণ করতো ছোট্ট বিভারাণী। আর বিভার পিঠজুড়ে বিচরণ করতো খোলা চুলগুলো। এরপর দীর্ঘদিন বিরতি দিয়ে মৃদুলের আবদারের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছিল সাজবিরোধী বিভারাণীর। মৃদুল প্রায়ই বলতো, ‘সাজলে তোমাকে পরীর মতো লাগবে। মাঝে মধ্যে লুক চেঞ্চেরও দরকার আছে। নিজের জন্য না হোক; আমার জন্য তো একটু সাজতে পার!’ 

বিভার সোজা জবাব, ‘এই আমাকে পারলে ভালবেস। কোনো পরীকে নয়। বিনা সাজে যদি এতই খারাপ লাগে তাহলে তোমার মনের মতো পরীগোছের কাউকে খুঁজে নাও।’ 

অল্পতে রাগতে পারে বিভা। হাসতেও পারে অল্পতে। আবার ভালও বাসতে পারে অল্পে তুষ্ট বিভারাণী। তাই বিভার অল্প কথায়ই শান্ত হতো মৃদুল। বিভাও রেগে বেশিক্ষণ থাকতে পারতো না। এত শান্ত, সব মেনে নেয়া স্বভাবের মানুষের সঙ্গে কি রাগ করা যায়? অবশ্য এ নিয়েও আপত্তি ছিল বিভার। মন খারাপ হতো মাঝে মধ্যেই। একটু ঝগড়াও করার উপায় ছিল না মৃদুলের সঙ্গে। এক আধটু খুনসুটি না হলে কি প্রেম গাঢ় হয়? তিতনি, সায়মা, লাইছাদের কত ঝগড়া হয় ওদের প্রেমিকের সঙ্গে। এমন কোনো দিন নেই ঝগড়া হয় না। আবার পরক্ষণেই মিলে যায়। আরো কোমল হয়ে ওঠে সম্পর্কটা। ঠিক ডাবের পানির মতো টলটলে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে থাকে কত বাড়তি আয়োজন। বাড়তি গিফট, ঘোরাঘুরি, হৃদয় নিংড়ানো কথা চলে অনবরত। শুনে খুব লোভ হতো বিভার। ঝড় পরবর্তী সকাল আর ঝগড়া পরবর্তী সম্পর্ক দুটোই বিভার খুব পছন্দ। একপ্রকারের নরম পরশ পাওয়া যায়। মৃদুল এ বোঝে না। এমনিতে কত রোমান্টিক! মাঝে মধ্যে যে ঝগড়াও কাম্য থাকে; তা কেবল বিভাই বোঝে। মৃদুলকে রাগাতে কত পাগলামোই না করেছে বিভা। উদ্ভট সব আবদার করতো। হুট হাট দেখা করতে চাইত। বলা নেই কওয়া নেই হাজির হতো মৃদুলের অফিসে। এ নিয়ে কলিগদের বক্র হাসিও সহ্য করতে হয়েছে মৃদুলকে। অন্য কোনো পুরুষ হলে হয়ত ব্রেকআপই হয়ে যেত। অথচ সেসবও নির্দ্বিধায় মেনে নিত মৃদুল। পাগলামোর জবাবে বাড়িয়ে দিত ভালবাসা। মিলত আদর। এক জীবনে এত ভালবাসা যায়? মাঝে মধ্যে ভেবে ভেবে চোখে জল চলে আসত বিভার। মৃদুলকে আপন করে পাওয়া সত্যিই সাত জন্মের ভাগ্য। পেছনের সব ভুলে মৃদুলকে ঘিরেই স্বপ্ন সাজাতে থাকে বিভা। কী এক মোহে আটকে যায়। দিন রাত চলে নানা পরিকল্পনা। বিশ্বাস করতে থাকল, ‘মৃদুলই তার পরম সঙ্গী। কখনো হারাবে না।’ অথচ সেই মৃদুলই কী এক সামান্য বিষয়ে অভিমান করে হারিয়ে গেল। মৃদুলকে ধরে রাখতে কিনা করেছে বিভা? অনিহা সত্তে¡ও সাজতো মৃদুলের ইচ্ছেমতো। যখন যেভাবে বলেছে, সেভাবেই মেলে ধরেছে নিজেকে। নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়েছে মৃদুলের চাওয়ামতো। একদিন সকালে হঠাৎ ফোন করে বলল-  ‘বিভা তোমার সেই ম্যাজিক শাড়িটি পড়ে দ্রুত শাহবাগ এসো। নাভীর নিচ থেকে কুচি করে পরবে। লাল টুকটুকে সিফনের শাড়িটি পরলে নিশ্চয়ই অন্যরকম মাদকতা ছড়াবে আমার বিভারাণী। শাড়ির ফাঁক গলে উঁকি দিবে হাল্কা মেদযুক্ত পেট। আহ্ তাতেই কি সুখ!’ পাগল না হলে কেউ এমন কথা বলতে পারে?- ভাবে বিভা। এ শাড়িটিতে বিভার বরাবরই ভীতি রয়েছে। শাড়িটি কেনার পর থেকে সব এলোমেলো চলছে। এ আধুনিক যুগেও কু-সংস্কারে আটকে রেখেছে শাড়িটি। বিজ্ঞান, দর্শন যুক্তি বিভার মাথা থেকে সব কু-সংস্কার ঝেড়ে ফেললেও ম্যাজিক শাড়িটির ক্ষেত্রে সব গুলিয়ে যায়। ভীতি পিছু ছাড়ে না। শাড়িটি কেনা হয়েছিল কয়েক বছর আগে প্রথম প্রেমিক রিয়াদের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশে। দিন-ক্ষণ ঠিক। দীর্ঘদিন পর দেখা হবে রিয়াদের সঙ্গে; তাই প্রস্তুতির কমতি ছিল না। রিয়াদের পছন্দের রঙ লাল। সেই লাল রঙেরই একটি সিফনের শাড়ি কিনল রিয়াদকে চমকে দিতে। অনেক ইচ্ছে ছিল শাড়িটি পরে রিয়াদের সঙ্গে দেখা করতে যাবে। কিন্তু আচমকাই ব্রেকআপ হয়ে গেল। তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনা ছাড়াই সম্পর্কটি ভেঙ্গে গেল। বিষয়টি এতই ঠুনকো যে আজ আর তা মনেও নেই বিভার। এরপর রিয়াদের স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণে রাখে শাড়িটি। এর কিছুদিন পর দ্বিতীয়বারের মতো প্রেম হয় রিটন নামে এক ছেলের সঙ্গে। দেখতে হলিউডের নায়কদের মতো। গুণেরও শেষ নেই। বেশ চলছিল। কথাপ্রসঙ্গে একদিন শাড়িটির কথা বলাতেই রোমান্টিক হয়ে ওঠে রিটন। আবদার ওই শাড়ি পরে দেখা করার। কিছুটা অনিহা থাকা সত্ত্বেও রাজি হলো বিভা। কিন্তু কি আশ্চর্য়! এক্ষেত্রেও একই ঘটনা। দেখা করার আগের রাতে বিভার ফোন ওয়েটিং দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল রিটন। কিছু না বলেই ব্রেকআপের ঘোষণা। বিভাকে কিছু বলার সুযোগই দিল না। এরপর যখনই শাড়িটি পরার ইচ্ছে হয়েছে তখনই কোনো না কোনো ঝামেলা হাজির হয়েছে। সব মিলিয়ে শাড়িটির যে জাদুকরি শক্তি রয়েছে তা দৃশ্যমান। এ অবস্থায় কোনো শুভক্ষণে শাড়িটি পরার সাহস নেই বিভার। মৃদুলও এ ঘটনা জানে। তারপরও এমন আবদার যে কেনো করলো কে জানে? ভয় হয় বিভার। মৃদুলের এমন আবদারে কী করবে বুঝতে পারে না। পাগলটাকে বোঝানোর ক্ষমতাও নেই। বোঝাতে গেলে হাজার যুক্তি দাঁড় করাবে অনায়াসেই। মৃদুলের কোনো আবদার কখনো কি ফেলতে পেরেছে? সব মিলিয়ে রাজি হতে হয়। কিন্তু তাৎক্ষণিক দেখা না করে একটু সময় নেয় বিভা। একটা দিনও ঠিক করে নেয়। শঙ্কা ছিল দেখা করার আগেই মৃদুলের সঙ্গে কোনো ঝামেলা না হয়। কিছুটা সতর্কও ছিল। আবার ভরসাও ছিল মৃদুলের ওপর। অন্য দুই প্রেমিকের চেয়ে মৃদুলের প্রতি বিভার আস্থা একটু বেশিই ছিল। বিভার বিশ্বাস ছিল শাড়ির জাদুকরি শক্তিকে এবার হার মানাবে মৃদুলের প্রেম। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনাও করেছে। কিন্তু শেষ অব্দি শাড়িরই জয় হলো। হারিয়ে গেল মৃদুল। 

আজ সেই শাড়িটিই পরেছে বিভা। মৃদুলের পছন্দমতোই নাভীর নিচ থেকে কুচি করে পরেছে। হাল্কা মেদে বেশ আকর্ষণীয় লাগছে। রোমান্টিক হয়ে ওঠে বিভা নিজেই। মুহূর্তেই হামলে পড়ে রাক্ষুসে স্মৃতিগুলো। যেন পাইথনের মতো গিলে খেতে চায়। যুদ্ধক্ষেত্রের বর্শার মতো এসে বিঁধতে থাকে চারিদিক থেকে। ক্ষত বিক্ষত করে দেয় মুহূর্তেই। আয়নার দিকে তাকিয়ে আবার নিজেকে সামলেও নেয়। জীবনের শেষ মুহূর্তে কোনো আবেগ নয়। সুস্থ-স্বাভাবিকভাবেই বিদায় নিতে চায় এ পৃথিবী থেকে। বধূ সাজে এক জীবন থেকে আরেক জীবনে প্রবেশ করে বাঙালি নারীরা। নতুন জীবন সঙ্গীকে নিয়ে শুরু হয় নতুন পথচলা। বিভাও এক জীবন ত্যাগ করছে। তবে পরের জীবনে কোনো সঙ্গী থাকবে না। অনন্তকাল চলতে হবে একাই। এই জীবনেরই মতো। ভেবে চিন্তেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভা। আজকের মুহূর্তের জন্য করতে হয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষা। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর পৌঁছতে পেরেছে এ সিদ্ধান্তে। ইন্টারনেট ঘেটে খুঁজেছে আত্মহত্যার ব্যতিক্রম উপায়। বিশ্বের খ্যাতিমানদের আত্মহত্যার কৌশল জেনেছে। কারণ জেনেছে। সব শেষে একটি পন্থা মোটামুটি পছন্দ করেছে। সে অনুযায়ী প্রস্ততিও শেষ।  নিজের সাজ, ঘর গোছানো, রবীন্দ্রসংগীত ডাউনলোড করা, জুসের সঙ্গে বিষ মেশানো; সবই শেষ। এখন শুধু সুইসাইড নোটটি লিখলেই হয়ে যায়। এটা তেমন ঝামেলার কিছু নয়। বিস্তর কিছু লিখতে হবে না। শুধু লিখবে, ‘আমাকে কোনো গোসল দিতে হবে না। সাদা কাফনের কাপড়ও পরাতে হবে না। আমি প্রস্তুত। এভাবেই যেন মাটিচাপা দেয়া হয়। ’ লিখতে আর কতক্ষণ লাগবে? কিন্তু সকালে যখন মানুষের হাতে পড়বে এটি তখন সৃষ্টি হবে মহা ঝামেলা- এটা বিভা জানে। একেকজন এসে দাঁড় করাবে একেক যুক্তি। কেউ কেউ সুযোগ বুঝে ফতোয়া দিয়ে নিজের জ্ঞান জাহিরের চেষ্টা করবে। আবার অনেকে মোবাইল ফোন টিপে টিপে বের করবে পরিচিত অর্ধপরিচিত হুজুরদের মোবাইল নম্বর। জানতে চাইবে মাসআলা। সব শেষে হয়ত সবাই একমত হবে- না; লাশ কোনোভাবেই গোসল ও কাফনের কাপড় ছাড়া দাফনের সুযোগ নেই। এরমধ্য থেকেও কেউ একজন বলে উঠবে, ‘আত্মহত্যা যেহেতু করেছে এমনিতেই জাহান্নামি। একে আর অত নিয়ম মেনে দাফন-কাফনের দরকার কী? শেষ ইচ্ছে যেহেতু লিখে গেছে; ওভাবেই মাটিচাপা দিয়ে ঝামেলা চুকিয়ে ফেল। কেউ খুঁজবে আত্মহত্যার রহস্য। আবার কেউ এসে তো লাশই আটকে দিবে।  বলবে, ‘ময়নাতদন্ত ছাড়া এ লাশ দাফন হবে না।’ পুলিশে খবর দেয়া হবে। আবার আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিকও করা হবে। এরপরও কিছুদিন ধরে চলবে নানা আলোচনা। কেউ বলবে,  ‘হয়ত প্রেমে ছ্যাঁকা খেয়েছে; তাই আত্মহত্যা। আবার কেউ বলবে, ‘নষ্টামি করে শেষ পর্যন্ত জীবনটাই দিতে হলো।’  চিত্রগুলো বিভা এ জীবনে দেখেছে অনেকবার। যদিও এ নিয়ে বিভার মাথাব্যথা নেই। ইচ্ছে পূরণ হওয়া না হওয়া নিয়েও তেমন চিন্তা নেই। একজন মানুষের জীবনে আর ক’টা ইচ্ছেই বা পূরণ হয়? তবু সুইসাইড নোটটা লিখে যেতে ইচ্ছে হয়। ড্রয়ার খুলে হাতে নেয় দুধসাদা কাগজ। এরইমধ্যে বেঁজে ওঠে কলিংবেল। বার কয়েক ঘাপটি মেরে থাকে বিভা। এ মুহূর্তে কোনোভাবেই দরজা খোলা যাবে না; ভাবে। কিন্তু আগন্তকও নাছোড়বান্দা। কলিংবেল চাপতেই থাকে। রাগ হয় বিভার। কলিংবেলের ক্রিং ক্রিং শব্দ আঘাত করে মস্তিস্কের ভেতর। বিরক্ত হয় বিভা। ভাবে- কোথাকার কোন মূর্খ এসেছে এই অসময়ে? কোনো সুস্থ মানুষ এতবার কলিংবেল চাপে? দাঁতে দাঁত চেপে চুপটি মেরে থাকে তবু। ঘণ্টা পেরিয়ে যায়; তবু কলিংবেল বাজছেই। বেজেই চলছে। দুই ঘণ্টা, তিন ঘণ্টা...। শেষমেশ রেগে গিয়েই দরজা খোলে বিভা। অবাকও হয়। মৃদুল! নিজের চোখকেই বিশ্বাস হয় না। 

‘ফোন বন্ধ কেন? আর ভেতরে আছ তবুও এত সময় দরজা খোলোনি কেন? কোনো সাড়াশব্দ নেই।’ বলতে বলতে বিভাকে একপ্রকারের ধাক্কিয়ে ভেতরে ঢোকে মৃদুল। বাঁ হাতের বাহু ধরে কাছে টেনে নেয়। 

‘অপূর্ব সেজেছ তো? আজ তোমার বিয়ে নাকি? তাহলে তো ভালো দিনেই এসেছি। কতদিন বিয়ে খাই না!’ 
উচ্চশব্দে কেঁদে ওঠে বিভা। শক্ত করে জরিয়ে ধরে মৃদুলকে। কাঁদতেই থাকে...। 

‘অ্যাই বিভা! কাঁদছ কেন? কিসের এত কষ্ট তোমার? মনের সব বিষ ঝেড়ে ফেল। আমি আছি বিভা। কেঁদনা প্লিজ।’ বলতে বলতে বিভার ঠোঁট নিজের মুখে পুরে নেয় মৃদুল। শুশেই যেন সমস্ত বিষ উপড়ে ফেলবে এমন। 

এই প্রথম বিভা বুঝতে পারে তার ম্যাজিক শাড়িটি শুধু ভাঙেই না; গড়তেও জানে নতুন করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর