ঢাকা, শনিবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৪ ১৪২৫,   ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪০

মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১০:৪০ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১০:৪৩ ৮ ডিসেম্বর ২০১৮

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মৌলভীবাজার পাক হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়।

জেলার শেরপুর ও শমসেরনগরে মুখোমুখি যুদ্ধসহ মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর আক্রমণে পাকবাহিনী এ অঞ্চল থেকে পিছু হটে। মুক্তিযোদ্ধা ও অসংখ্য মুক্তিকামী মানুষের প্রাণের বিনিময়ে জেলা হানাদার মুক্ত হয়।

মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়ানো হয়। দিবসটি উদযাপনে শহরের কোর্ট রোডের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উড়ানো, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়া, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও জেলা প্রশাসন।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার জামাল উদ্দিন জানান, মৌলভীবাজারে ছিল পাকিস্তানি সেনাদের ব্রিগেড হেড কোয়ার্টার। স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ দিকে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী মৌলভীবাজার দখলের জন্য ৪ ডিসেম্বর শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে কালেঙ্গা পাহাড়ে অবস্থান নেয়। এখানে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ হয়।

অবশেষে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৫ ডিসেম্বর থেকে ভেঙে পড়তে শুরু করে। ২ ডিসেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলাতে অবস্থান নেয়া হয় ও মৌলভীবাজারকে মুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

মৌলভীবাজারে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনকারী বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সাবেক এমপি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান বলেন, ২৮ অক্টোবর কমলগঞ্জ এর ধলই সীমান্তে ইপিআর ক্যাম্পে পাকিস্তানীদের শক্তিশালী অবস্থানের উপর গ্রেনেড হামলা চালান সিপাহি হামিদুর রহমান। সম্মুখ যুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান শহীদ হলেও দুর্বল হয়ে পড়ে পাক হানাদার বাহিনীর। তাঁর আত্মত্যাগে পাক বাহিনী ভীত হয়ে পড়ে।

এরপর থেকে কমলগঞ্জ, রাজনগর, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ি  উপজেলাকে হানাদারমুক্ত ঘোষণার পর ৫ ডিসেম্বর রাতে যৌথ বাহিনী তিন দিক থেকে আক্রমণ করতে মৌলভীবাজার শহরের দিকে এগিয়ে আসে। ৬ ডিসেম্বর বর্ষিজোড়া, সালামীটিলা, এবং শমসেরনগর সড়ক এলাকায় মুক্তিবাহিনীও মিত্রবাহিনীর সঙ্গে পাক সেনাদের ব্যাপক যুদ্ধ হয়। যুদ্ধের এক পর্যায়ে হানাদার বাহিনী দিশেহারা হয়ে ৭ ডিসেম্বর সিলেটের দিকে পালিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে আসে মৌলভীবাজার।

৭ তারিখ হানাদার মুক্ত হলে নিরাপত্তার জন্য কাউকে শহরে প্রবেশ করতে দেয়া হয় নাই। ৮ ডিসেম্বর সকালে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয় (বর্তমান জর্জ র্কোট ভবনে) মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় জনসাধারণকে নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়ানো হয়। ৮ ডিসেম্বর পুরো মৌলভীবাজার হানাদারমুক্ত হয় ও আকাশে ওড়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ