Alexa মোল্লাহাটে আ. লীগের জনসভায় বোমা হামলা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৭ সফর ১৪৪১

Akash

মোল্লাহাটে আ. লীগের জনসভায় বোমা হামলা

 প্রকাশিত: ১৫:০৭ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভায় বোমা হামলার আজ (২৩ সেপ্টেম্বর) ১৬ বছর পূর্ণ হলো। ২০০১ সালের আজকের দিনে মোল্লাহাট খলিলুর রহমান কলেজ মাঠে শক্তিশালী বোমা হামলা চালানো হয়।

এর আঘাতে ৯ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয় অর্ধশতাধিক। মামলাটি বর্তমানে বাগেরহাট আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জানান, ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে মামলাটি পুনঃ তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। সিআইডি পুলিশ অধিকতর তদন্ত শেষে মাত্র চারজন আসামিকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়ার পাশাপাশি এজাহারভুক্ত ১৭৬ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। এ তদন্ত নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

জানা গেছে, ২০০১ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট সরকার গঠন করার পর সিআইডি পুলিশ প্রথম দফায় বোমা হামলা মামলায় ২০০৩ সালে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর মামলটি শেষ করে। এরপর ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ২০০৯ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের সভায় চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিআইডি পুলিশ মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে তদন্তের জন্য আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

২০১৩ সালের আগস্টে সিআইডি পুলিশ অধিকতর তদন্ত শেষে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করে। বাকি ১৭৬ জনকে ওই মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়। আবারও আদালত বোমা হামলার মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন সিআইডি পুলিশকে। আগের তদন্তে অভিযুক্ত ছয় আসামির মধ্যে দুজন মারা যাওয়ায় বাকি চার আসামিকে রেখে ২০১৪ সালের অক্টোবরে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

সূত্র জানায়, হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দাখিল করা দুটি অভিযোপত্রেই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী (হুজি) বাংলাদেশের শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, মোল্লাহাটের বিএনপি নেতা শিকদার বাদশা মিয়া (মৃত), জিল্লুর রহমান ওরফে ঝিলু ও আনিসুজ্জামান ওরফে আনিসকে অভিযুক্ত করা হয়। এ চার আসামির মধ্যে সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের ফাঁসি কার্যকর করা হয় গত ১২ এপ্রিল। আর ২০১৫ সালে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান বিএনপি নেতা শিকদার বাদশা মিয়া।

ওই মামলায় বর্তমানে অভিযোগপত্রভুক্ত দুজন আসামি রয়েছেন। তাঁরা হলেন গোপালগঞ্জের গোবরা গ্রামের আনিসুজ্জামান আনিস ও বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর গ্রামের জিল্লুর রহমান মোল্লা।

সিআইডি পুলিশের তদন্ত প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাগেরহাট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, বোমা হামলা মামলায় এজাহারভুক্ত ১৬৯ জন আসামির মধ্যে সিআইডি পুলিশ মাত্র চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। অন্যদের মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। তিনি জানান, আগামী ৯ অক্টোবর মামলায় অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে মামলাটি পুনঃ তদন্তের জন্য তিনি আদালতে আবেদন জানিয়েছেন।

মোল্লাহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কালীপদ বিশ্বাস জানান, ওই মামলায় মাত্র চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করার বিষয়টি বিস্ময়কর। তা ছাড়া দোষী সবার দৃষ্টান্তমূলক শান্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয় ও দলীয়ভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করা উচিত।

উপজেলার গারফা গ্রামের নিহত রোমেচা বেগমের ছেলে মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী ক্ষোভের সঙ্গে জানান, তাঁর মা দলীয় জনসভায় গিয়ে বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন। তাঁরা এখন রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘর বেঁধে বসবাস করলেও দেখার কেউ নেই। তাঁর মায়ের মৃত্যুর পর দাফনের জন্য মাত্র ১০ হাজার টাকা এবং পরে তাঁর বোন একটি সেলাই মেশিন সাহায্য পেয়েছেন।

উপজেলার সোনাপুরা গ্রামের নাসির মোল্লা জানান, তাঁর বাবা মোশারেফ মোল্লা আওয়ামী লীগের জন্য জীবন দিয়েছেন। এখন তাঁরা পথের ফকির।

প্রসঙ্গত, অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার খলিলুর রহমান কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বাগেরহাট-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ হেলাল উদ্দীনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই বোমা হামলা চালানো হয়। অল্পের জন্য শেখ হেলাল বেঁচে গেলেও ওই ঘটনায় ৯ জন মারা যান। আহত হয় অর্ধশতাধিক।

এ ঘটনায় ১৬৯ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। পরে তদন্তে আসামির সংখ্যা আরো বাড়ে। শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন বাগেরহাট-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য।
ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে