‘মোর একনা ভাতার কাট দেও বাহে’

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১১ ১৪২৬,   ২০ শাওয়াল ১৪৪০

‘মোর একনা ভাতার কাট দেও বাহে’

 প্রকাশিত: ১৬:৪৪ ১৮ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১৬:৪৪ ১৮ জুলাই ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘মোর শরিল আর চলে না বাহে। ট্যাকা-পইসার অভাবে অসুক হলেও অসুধ কিনে খাবার পাম না। বেটাগুলার সংসার চলে না। মোর একনা ভাতার কাট করি দেও বাহে। তোমার বেটা-বেটির জন্নে আল্লার কাছে দোয়া করিম।’-এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে আকুতি জানান বয়সের ভারে নুয়ে পড়া হালিমা বেওয়া। চাওয়া একটা বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা কার্ড।

সাদুল্যাপুর উপজেলার পাতিল্যাকুড়া চকদারিয়ার লাল মিয়ার স্ত্রী হতদরিদ্র হালিমা বেওয়া। তার ভাগ্যে আজও  জোটেনি বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতা কার্ড। ফলে ছেলেদের সংসারে নানা অভাব-অনটনের মধ্য দিয়েই খেয়ে-না খেয়ে বেঁচে আছেন তিনি। শেষ বয়সে একটি ভাতা কার্ডের প্রত্যাশা করেন হালিমা বেওয়া।

হালিমা বেওয়ার বয়স ৮৪ বছর ছুঁই ছুঁই করছে। এক সময়ে লাঠিতে ভর দিয়ে ভিক্ষা করে দিনাতিপাত করতেন। এখন চোখেও দেখেন কম। এমনকি লাঠিতে ভর দিয়েও চলতে পারে না। ছেলে ও নাতিদের সহযোগিতায় চলাফেরা করেন। এছাড়া দিন-রাত বিছানায় পড়ে থাকেন তিনি। 

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী হালিমা বেওয়ার জন্ম তারিখ ১৯৩৫ সালের ৪ এপ্রিল। সাত বছর আগে স্বামী লাল মিয়াকে হারিয়ে বিধবা হয়েছেন। সেই থেকে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে নিরন্তর সংগ্রাম করে চলেছেন। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। আর ছেলেরা দিনমজুরি করে যা রোজগার করে তা দিয়ে তাদের সংসার চলে না। তাই মৃত্যুর আগে একটি ভাতা কার্ডের আকুতি জানান হালিমা বেওয়ার।

বৃদ্ধা হালিমা বেওয়ার ছেলে ভ্যান চালক হাফিজার রহমানের অভিযোগ, বিধবা ও বয়স্ক ভাতা কার্ডের জন্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে একাধিকবার ঘুরেও কাজ হয়নি। 

সাদুল্যাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, বৃদ্ধা হালিমা বেওয়ার বিষয়টি ছয় মাস আগে সমাজ সেবা অফিসে জানানো হয়েছে। সেটি এখন কি অবস্থায় আছে তা জানেন না বলে জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ