Alexa মোঘল সাম্রাজ্যের স্মৃতিবাহী বজরা শাহী মসজিদ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২০ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৫ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

মোঘল সাম্রাজ্যের স্মৃতিবাহী বজরা শাহী মসজিদ

 প্রকাশিত: ১০:১১ ২৭ এপ্রিল ২০১৮  

বজরা শাহী জামে মসজিদ

বজরা শাহী জামে মসজিদ

মোঘল সাম্রাজ্যের স্মৃতি এখনো বহন করছে বজরা শাহী জামে মসজিদ। ঐতিহাসিক এ মসজিদ নোয়াখালী জেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তরে সোনাইমুড়ী উপজেলায় ঢাকা-নোয়াখালী পাকা সড়কের পাশে ৩০০ মিটার পশ্চিমে।

প্রায় ২৭৫ বছর আগে মুহম্মদ শাহের রাজত্বকালে তার নির্দেশে ও অর্থে মিয়া আম্বর সাহেবের সহযোগিতায় জমিদার আমান উল্ল্যা খান  ১৭৪১ সালে দিল্লির শাহী মসজিদের আদলে বজরা শাহী জামে মসজিদ নির্মাণ করেন।

অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ, বিভিন্ন রঙের পাথর-চীনা মাটির তৈরি তৈজসপত্রের খন্ডিত অংশের ব্যবহার এই মসজিদটিকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে তুলেছে। মসজিদের বহুভাঁজ খিলানের কোণায় ফুল ও নকশাঁ, আয়তাকার খোপের মধ্যে খিলানো নকশা, আয়তাকার উপরিভাগে পাতা নকশা, পাতার নকশাঁর ওপরে দড়ির মতো উদগত গোলাকার বাঁধনের খোপে ফুল ও লতার নকশা রয়েছে। এছাড়া দরজায় আয়তাকার খোপের ওপর তারা ও বরপি নকশা, টারেটর গায়ের জেব্রাক্রসের মতো নকশা বিভিন্ন রঙ্গের পাথর ও তৈজসপত্রের খন্ডিত অংশের সংমিশ্রণে করা হয়েছে।

গম্বুজের গায়ে চাঁদ তারা ও পাখা নকশাঁ ছাড়াও গম্বুজের একবারে ওপরের দিকে পদ্মের পাপড়ি নকশাঁ ও লম্বা চূড়াতে কলসির মতো ধাতব বস্তু স্থাপন করে গম্বুজগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে। অষ্টভুজাকৃতি কর্নার টাওয়ারে মোটা দড়ির মতো বাঁধনের সাহায্যে ঘূর্ণায়মান আয়তাকার খোপ নির্মাণ করে প্রত্যেক বাহুর খোপের ভিতরে অন্ধখিলান (বস্নাইন্ড আর্চ) নকশাঁ, খিলানের ভিতরে বিভিন্ন প্রকারের ফুলদানি নকশা, তারা নকশাঁ দিয়ে অলঙ্কৃত করা হয়েছে। চত্বরের সামনের দিকে প্রধান ফটকের দু’পাশে ও মিনারের মসজিদের মতো বিভিন্ন ধরনের অলঙ্কার ছাড়াও ডোরাকাটা নকশা অত্যন্ত আকর্ষনীয়।

অভূতপূর্ব স্থাপত্যকলায় নির্মিত এই মসজিদ পরিদর্শন করতে দূর-দুরান্ত থেকে বহু সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ বজরায় আসেন। মসজিদটির আয়তন ১৬ দশমিক ৪৫-৮ দশমিক ৯ মিটার।

মসজিদে প্রবেশের জন্য ৩টি পাথরের দরজা আছে। মধ্যবর্তী প্রধান দরজাটি তুলনামূলক ভাবে বড়। এর সম্মুখভাগ তিনটি অংশে বিভক্ত। মসজিদের মধ্যবর্তী দেয়াল সামনের দিকে বাড়ানো। এই বাড়ানো দিকের মধ্যবর্তী অংশে ২ দশমিক ১৩ মিটার প্রশস্ত অর্ধবৃত্তাকৃতি ১টি বহুভাজ খিলান রয়েছে। মসজিদের প্রধান প্রবেশ পথের দু’দিকে দুটি দরজা প্রধান প্রবেশ পথের মতো হলেও ছোট আকৃতির। দরজার উপরিভাগে আয়তাকার খোপের মধ্যে সাদা পাথর বা চীনা মাটির তৈরি আরবী বর্ণমালার লেখা ‘লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুলাহ’। মসজিদের চার কোণে চারটি অষ্টভুজাকৃতি কর্ণার টাওয়ার রয়েছে। কর্ণার টাওয়ারকে দড়ি নকশাঁর মাধ্যমে বাঁধন সৃষ্টি করে কয়েকটি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। বাঁধনের ভিতর আয়তাকার খোপের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অন্ধখিলানের ব্যবহার রয়েছে। কর্ণার টাওয়ারের ওপরের অংশ কিছুটা সরু করে এই খিলানের ১ দশমিক ২২ মিটার ভেতরে পাথরের মূল দরজাটি তৈরি হয়েছে। বহুভাজ খিলানটি একটি আয়তাকার খোপের মধ্যে নির্মিত। এই খিলানের উভয়পাশে আয়তাকার খোপের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অন্ধ খিলান রয়েছে। খিলানের উপর দিকে মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে শিলালিপি।

মসজিদের সামনের বাড়ানো অংশের দু’প্রান্তসীমায় অষ্টভুজাকৃতি কর্ণার টারেট ক্রমশ সরু হয়ে উপরের দিকে উঠে গেছে। কর্ণার টারেটের নিচের দিকে অনেকটা ফুলের টবের মতো নির্মিত। মনে হয় টরেটগুলো টবের উপর দাড়িয়ে আছে। গম্বুজাকৃতি চুড়া তৈরি করা হয়েছে। মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ দিকের মধ্যবর্তী অংশের বের হয়ে আসা জায়গায় কোর্ণাকৃতির দু’টি পাথরের দরজা রয়েছে। দরজার দু’পাশে রয়েছে টারেট। মসজিদের পশ্চিমাংশের বাইরের দিকেও এর সম্মুখভাগের মতো নির্মিত।

মসজিদের ওপরের দিকে সারিবদ্ধ রয়েছে ৩টি গম্বুজ। মধ্যবর্তী গম্বুজটি তুলনামুলকভাবে বড়। প্রত্যেকটি গম্বুজ অষ্টাকৃতির। মসজিদটির সম্মুখভাগে রয়েছে পাকা চত্তর। চত্ত্বরের পূর্বপাশে বহুভাঁজ খিলানযুক্ত প্রধান ফটক রয়েছে। এছাড়া ওজু, গোসলের জন্য রয়েছে একটি দীঘি। সব মিলে মসজিদটি যেন মোঘল সাম্রাজ্যের স্মৃতিকে আজও আগলে রেখেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ

Best Electronics
Best Electronics