মেস মালিকের বন্দীদশা থেকে পাঁচ ছাত্রীকে উদ্ধার করলো পুলিশ

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

মেস মালিকের বন্দীদশা থেকে পাঁচ ছাত্রীকে উদ্ধার করলো পুলিশ

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫৩ ১৭ মে ২০২০   আপডেট: ২০:০৭ ১৭ মে ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মেস মালিকের বন্দীদশা থেকে পাঁচ ছাত্রীকে উদ্ধার করলো পুলিশ। রোববার দুপুরে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের পার্শ্ববর্তী কামারগাড়ী এলাকার শিউলী ছাত্রীনিবাসে এ ঘটনা ঘটে।

ছাত্রীরা বাড়ি যাওয়ার জন্য বই কাপড়-চোপড় বের করার সময় ছাত্রীনিবাসের মালিকের কেয়ারটেকার রেনু বেগম আগাম দুই মাসের ভাড়া ছাড়া বের হতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন ছাত্রীনিবাসের মালিক।

একপর্যায়ে ছাত্রীনিবাসের মালিক ছাত্রীদের ভেতরে রেখে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। খবর পেয়ে পুলিশসহ গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় প্রায় শতাধিক ব্যক্তি ও ছাত্রীনিবাসের মালিক এক হয়ে বলেন এটা তাদের নিয়ম। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পাঁচ ছাত্রীকে বই ও কাপড়-চোপড়সহ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

কেয়ারটেকার রেনু বেগম বলেন, বাড়ির মালিক হাজি রমজান আলীর সঙ্গে কথা বলেই অন্যান্য মালিকদের সঙ্গে নিয়ে তালা ঝুলিয়েছিলাম। 

অপর মালিক মো. মাছুম, সাইদ ও বিনা বলেন, আমরা ছাত্রীনিবাসের মালিকরা এক হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগাম দুই মাসের ভাড়া ছাড়া কাউকে বই, কাপড়-চোপড় নিয়ে বাড়ি যেতে দেয়া হবে না। তাই সবাই মিলে ভাড়া না দেয়ায় তালাবদ্ধ করা হয়। 

ওই ছাত্রীনিবাসের ছাত্রী বিথী জানান, মে মাস পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে। আগাম আরো দুই মাস জুন, জুলাই মাসের ভাড়া চায়। করোনার সময় বিভিন্ন ছাত্র ও ছাত্রীনিবাসের মালিকরা জোট হয়ে এভাবে নির্যাতন করছে। ভাড়াও তারা বেশি নেয়। 

বগুড়া স্টেডিয়াম ফাঁড়ির এসআই জাহাঙ্গীর আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচ ছাত্রীকে তালাবদ্ধ রাখা অবস্থা থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ওই ছাত্রীনিবাসটিতে প্রায় ৫০ জন ছাত্রী থাকতো।

বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা হলে সিট না পেয়ে কলেজের পাশেই কামারগাড়ী জহুরুল নগর, পুরান বগুড়া, জামিলনগরে প্রায় ৫০০টি ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসে থেকে ১০ হাজারের অধিক ছাত্র-ছাত্রী পড়া লেখা করেন। অধিক ভাড়া হলেও হলে সিট না পেয়ে এবং কলেজের কাছে হওয়ায় বাধ্য হয়েই সেখানে থাকছেন তারা। এসব ছাত্র-ছাত্রীর বেশির ভাগই অন্য জেলা থেকে এসে পড়ালেখা করেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ