Alexa মেশিন ও রিপোর্টের কারসাজিতে বিপাকে রোগী 

ঢাকা, রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৭ ১৪২৬,   ২২ মুহররম ১৪৪১

Akash

মেশিন ও রিপোর্টের কারসাজিতে বিপাকে রোগী 

আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:২২ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফেনীতে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেশিন ও রিপোর্ট নিয়ে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। এতে রোগীরা ভুল রির্পোটের কারণে ভুল ট্রিটমেন্টে রোগীর প্রাণহানীসহ নানা জটিলতায় হয়রানি এবং প্রতারিত হচ্ছে।  

বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে ঝুঁকিপূর্ণ জটিলরোগ নির্ণয়ের জন্য রয়েছে ২ চ্যানেল থেকে ৬ চ্যানেল পর্যন্ত ইসিজি মেশিন। কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রয়েছে উন্নত মানের ডিজিটাল ১২ চ্যানেলের ইসিজি মেশিন। প্রতিটি পরীক্ষা বাবদ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আদায় করা হয়। জানা গেছে, নরমাল ২ থেকে ৬ চ্যানেল মেশিনে ইসিজি করে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আদায় করছে। আবার ডিজিটাল ১২ চ্যানেলে পরীক্ষা করেও কিছু প্রতিষ্ঠান ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আদায় করেছে। 

খবর নিয়ে জানা গেছে, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট ১২ চ্যানেলের মেশিনে ইসিজি করে আদায় করছে ২৫০ টাকা, সাইকা হেলথ কেয়ার সেন্টারে জিই হেলথ কেয়ার মেক ২, ১২ চ্যানেলে মেশিনে পরীক্ষা করে আদায় করছে ৩০০ টাকা। নিউ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ১২ চ্যানেলের কোরিয়ান কোমিন সিএম ১২০০ এ মেশিনে পরীক্ষা করে আদায় করছে ৩০০ টাকা, কমপেক্ট হেলথ কেয়ার ডায়ানস্টিক সেন্টারে জাপানের ফুকুড়া ডিনশি ১২ চ্যানেলের মেশিনে পরীক্ষা করে আদায় করছে ৪০০টাকা। শেভরনে ১২ চ্যানেল ৩০০টাকা, জেড ইউ মডেল হাসপাতালে ১২ চ্যানেলে ৩০০টাকা, ফেনী কার্ডিয়াক হাসপাতালে ১২ চ্যানেলে ৩০০ টাকা। 

অপরদিকে ভাইটাল রিসার্চ ইউনিট ২ তে ৬ চ্যানেল মেশিনে পরীক্ষা করে আদায় করছে ৩১০ টাকা। একইভাবে শতাব্দী ডায়াগনস্টিক, মডার্ণ ডায়াগনস্টিক, আলী নেওয়াজ মেডিকেল সেন্টার, পপুলার ডায়াগনস্টিক, জনতা ক্লিনিক, বায়েজিদ হেলথ সার্ভিস, ইস্কয়ার ল্যাব, ইবনে হাসমান হাসপাতাল, চিশতিয়া মা ও শিশু হাসপাতাল, মেডিস্ক্যান হাসপাতাল, রয়েল হাসপাতাল, সেনসিভ হাসপাতাল, মমতা ডায়াগনস্টিক, কিউর মেডিকেল সেন্টারসহ বেশির ভাগ প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিভিন্ন ২ থেকে ৬ চ্যানেলে মেশিনে ইসিজি পরীক্ষার জন্য ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আদায় করছে।

তবে অভিযোগ রয়েছে বেশির ভাগ ক্লিনিকে ডাক্তারের স্বাক্ষর করা প্যাডে শুধু রিপোর্ট প্রিন্ট দেয়া হচ্ছে। অথাৎ সঠিকতার বালাই নেই। যা রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা ও দাম নিয়ে কারসাজি। এতে রোগীরা একদিকে বেশি টাকা দিচ্ছে অন্য দিকে হয়রানি হচ্ছে । 

ফেনী সোনাগাজী থেকে প্রাইভেট ক্লিনিকে আসা রোগী আবুল বাশার জানান, তিনি বুকে ব্যথা নিয়ে ফেনীর একটি ক্লিনিকে গেলে চিকিৎসক তাকে ইসিজিসহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করতে দেন। কিন্তু ইসিজি পেপার নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি জানান, রিপোর্টটি রোগীর অবস্থা অনুযায়ী সঠিক নয়। ইসিজির রির্পোট দেখতে চাইলে পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানান, রির্পোট নিতে হলে বিকেলে হবে পরে তাকে অন্য একটি ক্লিনিকে পাঠালে চিকিৎসক পুনরায় এ পরীক্ষাটি করান। এতে রোগী সময় ও অর্থ নষ্ট হয়েছে। 

ফেনী কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে প্রথমবার ইসিজি করলে ৩০০ পরবর্তী যত বার করা হয় প্রতিবার ২শ টাকা করে নেয়া হয়। নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ও হার্ট স্পেশালিস্ট হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাহফুজুর রহমান জানান, হার্ট স্টোকসহ হার্টের নানা সমস্যার প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ে ইসিজি রির্পোট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ রির্পোটের মাধ্যমে রোগীর ইকোকার্ডিওগ্রাম করা হয়। যা থেকে রোগীর হার্টের ব্লক ও স্ট্রোক হয়েছে কিনা অথবা রোগীর হার্ট স্ট্রোকের কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা জানা যায়। 

এ পরীক্ষায় বেশি টাকা আদায়ের বিষয়টি জানতে চাইলে জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসেসিয়েশনের সভাপতি হারুন অর রশীদ জানান, ইসিজি পরীক্ষায় রির্পোটসহ ৩০০ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়। কেউ যদি রির্পোট না দিয়ে শুধু পেপার দিয়ে টাকা আদায় করে এটা উচিত নয়। এছাড়াও যদি কোনো প্রতিষ্ঠান ৩০০ টাকার চেয়ে বেশি আদায় করে থাকে তারা উচিত করেনি। 

ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. নিয়াতুজ্জামান জানান, সব প্রতিষ্ঠানে মূল্য তালিকা সাটানো আছে কোনো প্রতিষ্ঠান বেশি নিলে এবং কোনো ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস