মেধাবী ডলির শিক্ষা জীবন রক্ষায় এগিয়ে এলেন ইউএনও

ঢাকা, শুক্রবার   ১০ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৬ ১৪২৭,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

মেধাবী ডলির শিক্ষা জীবন রক্ষায় এগিয়ে এলেন ইউএনও

পাবনা প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৯ ৫ জুন ২০২০   আপডেট: ১৭:২৫ ৫ জুন ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পাবনার সাঁথিয়ার ইউএনও এসএম জামাল আহমেদ মেধাবী এইচএসসি পরীক্ষার্থী ডলি খাতুনের শিক্ষা জীবন অব্যাহত রাখতে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিলেন। 

ইউএনও বৃহস্পতিবার দুপুরে অসহায় ডলির হাতে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেন। আগামীতে তার পরীক্ষার সময়ে ও পরীক্ষা পরবর্তী ভর্তিতেও তিনি তাকে সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছেন।

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার করমজাতে এক দরিদ্র ঘরে জন্ম হয় তাদের দু’ বোনের। বাবা সংসারের প্রতি উদাসীন ছিলেন। তাই সংসারে অভাব আর অশান্তি ছিল নিত্যসঙ্গী। সে যখন মায়ের কোল ছাড়েনি সেই বয়সে বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। মায়ের সঙ্গে ডলির এবং তার বড় বোনের আশ্রয় হয় নানির বাড়ি, সাঁথিয়া উপজেলার পদ্মবিলা গ্রামে। এরপর ডলির নানা- নানি তার মাকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেন। সেখানে শিশু ডলির আশ্রয় জোটেনি। ডলি হয়ে যায় আরো অসহায়। প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার শিক্ষা জীবন। 

ডলি যখন ৫ম শ্রেণিতে তখন তার বড় বোনের বিয়ে হয়ে যায় বনগ্রাম এলাকাতেই। ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া ছোট বোনের পড়ার আগ্রহ দেখে তাকে কাছে নিয়ে যায় বড় বোন। এরপর থেকে ডলির আশ্রয় জোটে বোনের বাড়িতে। সেখানে থেকে ২০১২ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় সে গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ পায়। ৮ম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে ডলি। নানা সমস্যার মধ্যেও সে ৯ম শ্রেণিতে সায়েন্সে ভর্তি হয়। প্রাইভেট খুব একটা পড়া হয়নি। এসএসসি পরীক্ষাতেও গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ পেয়ে সে তার প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে। 

এরপর আর্থিক সমস্যার মধ্যেও সে মিয়াপুর হাজী জসীম উদ্দিন হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়। আর্থিকসহ নানা সীমাবদ্ধতার জন্য সহপাঠীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা তার জন্য ছিল কঠিন। সব দুঃখ চাপা দিয়ে পড়াশোনায় অবিচল থাকে ডলি। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ার আগেই তার জীবনে আরেকটি পরীক্ষা এসে হাজির হয়। তার দুঃসময়ে আশ্রয়দাতা দুলাভাই অকালে মারা যান। 

ডলি জানায়, গত বছর (২০১৯) জুন মাসে তার দুলাভাই মারা যান। এতে যে বোনটি ছিল তার আশ্রয়দাতা সে বোনই হয়ে পড়েন আশ্রয়হীন। 

ডলির জীবন ও শিক্ষাজীবন আবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যায়। এরপর তার এক খালুর বাড়িতে আশ্রয় জোটে। এখন পর্যন্ত ডলি ওই বাড়িতেই রয়েছে। 

সম্প্রতি অদম্য মেধাবী ডলির কথা সাঁথিয়ার ইউএনও এসএম জামাল আহমেদ জানতে পারেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওই অসহায় ছাত্রীর জন্য সহায়তার কথা বলেন। ওই ছাত্রীর প্রতিষ্ঠান মিয়াপুর কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা ড. শাহনাজ পারভীন এর মাধ্যমে ডলির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইউএনও।  

ইউএনও এসএম জামাল আহমেদ ডলি ও তার আত্মীয়দের জানান, তার শিক্ষা জীবন যেন বন্ধ বা তার উচ্চ শিক্ষা ব্যাহত না হয় সেজন্য তিনি ডলিকে যথাসম্ভব সহযোগিতা করবেন।  

বৃহস্পতিবার ইউএনও ডলির হাতে খাদ্যদ্রব্যসহ  নগদ টাকা তুলে দেন। এছাড়া দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি আসার পর যখনই এইচএসসি পরীক্ষা হবে তখন তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তার কথা জানান। 

ডলি জানায়, ইউএনও স্যারের এমন মহানুভবতায় আমি অত্যন্ত খুশি। তিনি আমার অসহায় অবস্থার কথা জানতে পেরে আমাকেই খুঁজে নিয়েছেন। সহায়তা করেছেন। এমনকি আমার এইচএসসি পরবর্তী ভর্তিকালীন সময়েও তিনি সহায়তার কথা আগাম জানিয়ে রেখেছেন। 

ডলি বলেন, ইউএনও স্যারের উৎসাহ আমার অনেক কষ্ট লাঘব করেছে। কারণ এইচএসসি পরীক্ষা এবং পরীক্ষার পর আমার ভর্তি ইত্যাদি নিয়ে অনেক চিন্তায় ছিলাম। আমি এখন অনেকটা চিন্তামুক্ত হয়ে উৎসাহিত। সবার দোয়া থাকলে আমি এইচএসসিতেও ভালো ফল করব বলে আশাবাদী। 

মিয়াপুর কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা (জীব বিজ্ঞান) ড. শাহনাজ পারভীন বলেন, ডলি খাতুন আমার সরাসরি ছাত্রী। আমার জীববিজ্ঞানে সে সবার চেয়ে বেশি নম্বর পায়। অন্যান্য বিষয়েও ভালো ফল করছে। তার এইচএসসি পরীক্ষা ভালো হবে বলে শিক্ষকরা আশাবাদী।

এ প্রসঙ্গে সাঁথিয়ার ইউএনও এসএম জামাল আহমেদ বলেন, আমি সব সময়েই চেষ্টা করি অর্থাভাবে যেন কারো লেখাপড়া বন্ধ না হয়। সাঁথিয়াতেও যোগদান করেই আমি বলেছিলাম, অর্থাভাবে কারো পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয় সেটি আমি নিশ্চিত করতে চাই।

তিনি আরো বলেন, এ বছর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে আমার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। সেটি হলো আমার ব্যক্তিগত ও সরকারি সহযাগিতায় কমপক্ষে ১০০ দরিদ্র ছাত্র- ছাত্রীকে সহায়তা করব।    

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ