Alexa মেথি শাকের পুষ্টিগুণ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯,   আশ্বিন ৩০ ১৪২৬,   ১৫ সফর ১৪৪১

Akash

মেথি শাকের পুষ্টিগুণ

ফাতিমাতুজ্জোহরা

 প্রকাশিত: ১৩:১০ ২ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৩:১০ ২ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মেথি শাক অনেকেরই পছন্দের তালিকায় রয়েছে। আবার অনেকেই এই শাক দেখলেই নাক শিটকায়! তবে জানেন কি? মেথি শাক শরীরের জন্য কতটা উপকারি? জানলে নিশ্চয়ই সকলে মেথি শাক খাবেন। মেথি শাক খেতেও পারেন আবার চুল বা ত্বকের যত্নেও ব্যবহার করতে পারেন। ভেজষ চিকিৎসায় মেথির ব্যবহার অপরিহার্য। এর ঐতিহ্য অনেক পুরনো। এছাড়াও মেথি শাকে রয়েছে সেচুরেটেড ফ্যাট, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, কার্বো হাইড্রেড ও প্রোটিন। শুধু তাই নয়, এ ভেজষ উপাদানটি ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৬, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়াম এ ভরপুর। মেথি শাক খাওয়া উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন-

মেথি শাক কোলেস্ট্ররলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। রক্তের লিপিড লেভেলকে ভালো রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। কারণ এটি কোলেট্ররেলের এল ডি এল বা লো ডেলসিল এল লাইকোপেডিল বা এইচ দি এল এর মধ্যে ভারসম্যকে বজায় রাখতে সাহায্য করে। সুতরাং কোলেস্ট্ররলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবশ্যই মেথি শাক খেতে হবে। শুধু তাই নয়, ডায়বেটিসকে নিয়ন্ত্রণকে রাখতেও সাহায্য করে মেথি শাক। এটি শরীরের গ্লুকোজ মেটাবলিজমকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই সকল ডায়বেটিস রোগীদের এ মেথি শাক ব্যবহার করা খুবই প্রয়োজন। কারণ ভেজষ চিকিৎসায় একে অ্যান্টি ডায়োবেটিক উপাদান হিসেবে গন্য করা হয়ে থাকে।

এছাড়াও হার্টের সমস্যায় ভীষণ উপকারি মেথি শাক। এ শাক প্লেটলেট বৃদ্ধির গতিকে কমাতে সাহায্য করে। ফলে হৃদ পিন্ডে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার মতো কোন বিদপজ্জনক ঘটনা থাকে না বললেই চলে। এর ফলে হটাৎ হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমে যায়। এছাড়াও এটি হার্ট রেড ও ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। তাই মেথি শাক খাওয়া খুবই জরুরি। এছাড়াও পেটের সমস্যার ক্ষেত্রে খুবই উপকারি মেথি শাক। লিভারের সমস্যার ক্ষেত্রেও মেথি শাকের ব্যবহার খুবই উপকারি। শুধু তাই নয়, গ্যাসের সমস্যা ও অন্ত্রের অন্যান্য সমস্যার ক্ষেত্রেও এটি বিশেষভাবে কাজ করে থাকে। সেই সঙ্গে ডায়রিয়া নিরাময়ের ক্ষেত্রেও এটি ভীষণভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এসব কারণে ডায়েট চার্টে অবশ্যই মেথি শাক রাখা উচিত।

ত্বকের যত্নে মেথি পাতা

কম বয়সে অনেকের মুখে বলিরেখা পড়ে এছাড়াও গালের দাগ ও ব্রণ দূর করার সহজ সমাধান হলো মেথি পাতা। এই পাতা ত্বকের ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। এক বাটি মেথি পাতার সঙ্গে হলুদ গুঁড়ো, দুধ ও পানি ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে মিশ্রণটিতে সামান্য দুধ মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর এ মিশ্রণটি ২০ মিনিটের মতো মুখে লাগিয়ে রেখে সুতির ভেজা তোয়ালে দিয়ে হালকাভাবে তুলে ফেলতে হবে। এ ফেসপ্যাকটি চাইলে প্রতিদিনও ব্যবহার করতে পারেন। এ প্যাকটি ব্যবহার করলে গালের কালো দাগ, ছোপ ছোপ কালো দাগ, মুখের বলিরেখা দূর হয়ে যাবে।

চুলের যত্নে মেথি পাতা

মেথি পাতায় আয়রন ও ভিটামিনের সংমিশ্রণ থাকায় চুলের অনেক সমস্যা ও স্কালফের সমস্যাসহ সমস্ত কিছুর সমাধানে এটা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। চুলের খুশকি দূর করতে ও অকালে চুল পরে যাওয়ার সমস্যার সমাধানে মেথি পাতা খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। স্বাস্থ্যকর, সুন্দর ও উজ্জ্বল চুল পেতে মেথি শাক ব্যবহার করতে পারেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস