মেঘনার ভাঙনে তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক গ্রাম
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=191748 LIMIT 1

ঢাকা, শনিবার   ০৮ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৫ ১৪২৭,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

মেঘনার ভাঙনে তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক গ্রাম

শামীম আহমেদ, বরিশাল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৬ ৩ জুলাই ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বরিশালের হিজলায় মেঘনার পানি প্রবেশ করে তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক গ্রাম। হিজলার মেঘনা পাড়ের সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কখন চোখের পলকে মেঘনার গর্ভে চলে যায় নিজের ভিটেমাটি আর ফসলি জমি।

সরকারিভাবে হিজলা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস নেই। এখানকার মানুষ জানতে পারে না পানি বৃদ্ধি, নদী ভাঙার খবর। পানি বৃদ্ধির কারণে হিজলা উপজেলায় বেপরোয়াভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে একের পর এক বাড়ি এখন মেঘনার নদী গর্ভে বিলিন হতে শুরু করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মেঘনার ভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কিনা তা জানে না স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন।

মেঘনার ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিলে পার্শ্ববর্তী নরিয়া উপজেলার ন্যায় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে হিজলা।  

হিজলার একের পর এক গ্রাম, স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ, বাজার মেঘনার গ্রাসের মুখে সব শেষ হয়ে গেছে। ভাঙনের কারণে হিজলা উপজেলার মানচিত্র বদলে দিয়েছে প্রমত্তা মেঘনা।  

২০১৯ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন বাউশিয়া স্থান পরিদর্শন করলেও তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পুরাতন হিজলা লঞ্চ ঘাট এখন গাছে বাঁধা, একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দাঁড়িয়ে আছে মেঘনার পাড়ে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের পাঁচ একর জায়গার সিংহভাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রস্তাবিত হিজলা- মেহেন্দিগঞ্জ ফেরিঘাট-কোরবানের রাস্তার মাথার স্থাপনা এখন আর নেই।

বড়জালিয়া ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার জন্টু হাওলাদার জানান, দক্ষিণ বাউশিয়া, দক্ষিণ পশ্চিম বাউশিয়া, মধ্যবাউশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি ব্রিজ ও একটি মাদরাসা রয়েছে হুমকীর মুখে।  

প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা জানান, আমরা বিগত বছর থেকে ঝুঁকিতে রয়েছি। কর্তৃপক্ষকে অবগত করছি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার আ. গাফফার জানান, নদী আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একই সঙ্গে বাস করছে। বলতে গেলে উপজেলাও ঝুঁকির মধ্যে। বিষয়টি নিয়ে ইউএনও, স্থানীয় পঙ্কজ দেব নাথের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন টেকের বাজার এখন মেঘনা পাড়েই রয়েছে। হুমকীর মুখে খান পরিবার, ফকির বাড়ি, সরদার বাড়ি, মোল্লা বাড়ি, হাওলাদার বাড়ি। এরই মধ্যে সালাউদ্দিন খানের বাড়ি সহ ১০/১২টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

নদী ভাঙনের শিকার স্থানীয় রফিক খান, কাইয়ুম খান কোথায় যাবেন তা এখনও নিশ্চিত করতে পারছে না। তাদের অভিযোগ জনপ্রতিনিধিরা তাদের দিকে মুখ তুলে তাকাচ্ছেন না। ঐতিহ্যবাহী ফকিরবাড়ির ঐতিহ্য শুপারির বাগান নদী গিলে খাচ্ছে। মনের ভেতর হাহাকার বিরাজ করছে ওই শত বছরের পুরাতন বাড়ির মালিকদের।

রুস্তুম ফকির জানান, এমপি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, বড়জালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান কেউ তাদের দিকে তাকাচ্ছেন না। ওই স্থানও এখন মেঘনার পেটে। নামকাওয়াস্তে বাউশিয়া অংশে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা বিগত বছরেই মেঘনা তার পেটে নিয়ে গেছে। এখন আবার ভাঙতে শুরু করছে।

পুরাতন হিজলা বাজার আগেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ৬ হাজার ভোটারের গ্রাম বাউশিয়া এখন স্মৃতি। সব মেঘনার পেটে। এখন বর্ষা, আবারো ভাঙতে শুরু করেছে।

হিজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন মেঘনার পাড়ে। উপজেলা প্রশাসনিক ভবন, উপজেলা পরিষদ, টেকের বাজার, রাক্ষুসে মেঘনার পেটে যাওয়ার উপক্রম।

বড়জালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পন্ডিত শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ জানান, বাউশিয়া, বাহেরচর গ্রামটি রাক্ষসী মেঘনার হাত থেকে রক্ষার জন্য লড়াই করে যাচ্ছি । পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন স্থান পরিদর্শন করেছেন।

হিজলার ইউএনও আমীনুল ইসলাম জানান, নতুন করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে ভাঙন দেখা দেয়ায় ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে রিপোর্ট পেলে আগামী সপ্তাহে ডিসি বরাবর রিপোর্ট জমা দেয়া হবে।

এছাড়া উপজেলার নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ৩শ’ ৭৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল কুমার সেন বলেন, হিজলা উপজেলাকে ভাঙন থেকে রক্ষা করার জন্য ৫শ’কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

এছাড়া আপাতত আপদকালীন সময়ের জন্য ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকার কাজের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে সেখানে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে