Alexa মেকনোভেশনে চ্যাম্পিয়ন শাবির চার টিম

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৭ সফর ১৪৪১

Akash

মেকনোভেশনে চ্যাম্পিয়ন শাবির চার টিম

ইমরান হোসেন, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২৮ ৬ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১০:২১ ৭ অক্টোবর ২০১৯

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের জ্ঞানকে আরো সমৃদ্ধ করতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর আয়োজন করা হয় ‘মেকনোভেশন-২০১৯’। এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন। এতে অংশ নেয় ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫টিমের ১৫০ প্রতিযোগী।

তবে শুরুতেই একটু খটকা লাগে মেকনোভেশনটা কি? এর প্রশ্নের উত্তরও খুব সহজে দিলেন কনভেনর স্কুল অব এপ্লাইড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মাদ মোকাদ্দেস।

তিনি বললেন, মেক আর ইনভেশন। এই দুই শব্দে হল মেকনোভেশন। মেক অর্থ মেকানিক্যাল আর ইনভেশন অর্থ আবিষ্কার। সুতরাং, মেকনোভেশন শব্দটি বিশ্লেষণ অর্থ হয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের আবিষ্কার।

অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মাদ মোকাদ্দেস বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের জন্য মেকনোভেশন এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে তারা তাদের কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে নতুন কিছু জানতে পারে। এখানে বিভিন্ন টেকনিক্যাল এবং ননটেকনিক্যাল ইভেন্ট, সেমিনার এবং প্রদর্শনী, এক্সপার্টদের বিভিন্ন গবেষণাধর্মী বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। যেখান থেকে ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়।

চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলগুলো:

আইডিইয়েট ভি-২.০ ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় ‘ক্রসফিট (সাস্ট)’ এবং রানার্সআপ হয় ‘ফিউচার ফুয়েল (সাস্ট)’। ডিপিকশান ভি-২.০ ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় ‘অর্থগোনাল (সাস্ট)’ এবং রানার্সআপ হয় ‘লিনিয়ার হরিজন (সাস্ট)’। রোবোনিক্স ভি-২.০ ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় ‘সাস্ট ব্যাকস্পেস (সাস্ট)’ এবং রানার্সআপ হয় ‘ফ্লাশ সাস্ট (সাস্ট)’। কিউবিমেনিয়া ভি-২.০ ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় ‘আরিফ হোসাইন সাকিব (সাস্ট) এবং রানার্সআপ হয় সাদিব বিন মোহাম্মাদ মোয়াইজ চৌধুরী (আনন্দনিকেতন)।

আইডিইয়েট ভি-২.০ ইভেন্টের ‘ক্রসফিট (সাস্ট)

এই গ্রুপে সদস্য হলেন দুইজন। তারা অর্থনীতি বিভাগের মাহিন ইকবাল চৌধুরী এবং পরিসংখ্যান বিভাগের মুহতাশীম দাইয়ান। দুইজনই শাবি শিক্ষার্থী।

প্রতিযোগিতায় তারা জাতিসংঘ ঘোষিত সাস্টেইনেবল ডেভেলাপমেন্ট গোল অর্জনের উপর প্রজেক্ট উপস্থাপন করে। যা দিয়ে দেশের মানুষের জন্য সর্বনিম্ন খরচে সর্বোচ্চ পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব।

মাহিন ইকবাল চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশের মানুষের প্রতিদিন দরকার অন্তত ৭৫ গ্রাম প্রোটিন। তবে গ্রহণের পরিমাণ মাত্র ২০ গ্রাম। এরফলে আমরা মারাত্মক কিছু জটিল রোগে আক্রান্ত তো হচ্ছি। আমাদের কার্যক্ষমতাও দিন দিন কমে যাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা মিষ্টি কারখানার বাইপ্রোডাক্টকে ব্যবহার করে এমন প্রোটিন সম্পূরক তৈরি করেছি যা দিয়ে মাত্র ৮ টাকায় ২৪ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যাবে। যা ডিমের চেয়েও ৩ গুণ সস্তা। কিন্তু ৪ গুণ পুষ্টিকর। আর যেখানে ডিমের বায়োএভেইলিবিলিটি ৮৮% আমাদের প্রোডাক্টে সেটা ৯৫%।

তবে এই প্রজেক্ট আমরা করেছি দেশের প্রাইমারি স্কুলগামী শিশুদের জন্য।

তবে এ ধরনের প্রতিযোগিতার উপকারিতা সর্ম্পকে মাহিন বলেন, এই প্রোগ্রামগুলো আমাদের অসাধারণ সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। আমাদের অনেকের মনেই কোনো একটি উদ্ভাবনী আইডিয়া থাকে। যা প্লাটফর্মের অভাবে আমরা কাউকে জানাতে পারি না । আজকের আমাদের যে আইডিয়া তা প্রায় দুই বছর আগের। তবে এ প্রোগ্রামের আগে আমরা কোনো জায়গা পাইনি সেটা জানানোর। এমন প্রোগ্রাম অনেক বেশি হওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টকে এধরনের প্রোগ্রামে এগিয়ে আসা উচিত।

রোবোনিক্স ভি-২.০ ইভেন্টের ‘সাস্ট ব্যাকস্পেস (সাস্ট)

এই টিমে আছেন তিনজন সদস্য। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. জাফরিন ইকবাল শুভ এবং একই বিভাগের মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ও নিলয় চন্দ্র দাশ। তারা তিনজনই শাবির শিক্ষার্থী।

এ প্রতিযোগিতায় তাদের প্রজেক্ট ছিল লাইন ফলোয়ার রোবট। জাফরিন ইকবাল বলেন, এই রোবটগুলো মূলত ইন্ডাস্ট্রি লেভেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যন্ত্রপাতি বহনে কাজ করতে পারবে, গৃহস্থলির কাজকর্মে ফ্লোর পরিষ্কারের কাজগুলো করতে পারবে, পাবলিক জায়গাগুলোতে পথ নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া এখন বিভিন্ন হোটেলে বা রেস্টুরেন্টে রোবট দ্বারা সেবা দেয়া হয়। সেগুলোর মূল মেকানিজম মূলত এই রোবট।

জাফরিন বলেন, এই ধরনের প্রোগ্রামগুলো মূলত সবার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ করে দেয়। নিত্য নতুন সমস্যা দেয়া থাকে তাই নতুন করে কোডিং করতে হয় বলে জ্ঞানের বিকাশ ঘটে। সর্বোপরি এই ধরনের প্রোগ্রামগুলো সবার সঙ্গে রোবোটিক্স সম্পর্কে কৌতুহল সৃষ্টি করে যেটা আমাদের দেশে খুব বেশি দরকার।

এই গ্রুপের সদস্য আছেন দুইজন। কাউছার রহমান এবং নাজমুল হাসান দিপু। তারা শাবির ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্র্থী।

প্রতিযোগিতায় তাদের বিষয় ছিল, Engineering Drawing (CAD)। যেটা মূলত কোন কমার্শিয়াল পণ্য উৎপাদনের পূর্বে পণ্যর রূপ দেয়া। তারপর দেখতে হবে ড্রয়িংটা ভিজিবল কিনা। ড্রয়িং ভিজিবল হলে পণ্যটা বানানো যাবে। এটা মূলত ম্যানুফ্যাকচারিং কাজে বেশি ব্যবহৃত হয়।

ডিপিকশান ভি-২.০ ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় ‘অর্থগোনাল (সাস্ট)

কিউবিমেনিয়া ভি-২.০ ইভেন্টের ‘আরিফ’

এই ইভেন্টে সদস্য সংখ্যা একজন। আরিফ হোসাইন সাকিব। সে শাবির গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী।

কিউবেমিনিয়ার বিষয়ে আরিফ বলেন, প্রতিযোগিতা আমার বিষয় ছিল, 3x3  রিউবিকস কিউব সলভ করা। বিষয়টা অনেক মজার। রিউবিকস কিউব ১৯৭৪ সালে থেকেই সর্বোচ্চ বিক্রির খেলনার তালিকায় সর্বপ্রথমে আছে। এটি মনকে সতেজ রাখা এবং প্রত্যেকটা পদক্ষেপে নিজেকে তৈরি করার গুরুত্ব শিখিয়ে দেয়। এটা আপনাকে যথেষ্ঠ ধৈর্যশীল হতে শেখায়।

ভবিষ্যত সম্পর্কে আরিফ বলেন, আমি একজন গণিতবিদ হতে চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম