মৃত ব্যক্তিদের সতর্কতায় যাদের প্রাণ বেঁচেছিল

ঢাকা, সোমবার   ২৫ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৭,   ০২ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

মৃত ব্যক্তিদের সতর্কতায় যাদের প্রাণ বেঁচেছিল

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০৭ ২৯ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৬:২৮ ২৯ এপ্রিল ২০২০

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

ভূত বিশ্বাস করেন না বা ভূতের ভয় পান না এমন মানুষ খুব কমই রয়েছে! সারা বিশ্বজুড়েই ভূত নিয়ে নানা মুখরোচক গল্প রয়েছে। 

জানেন কি? বাদশা জাহাঙ্গীরের আমলে দিল্লিতে একবার প্রচণ্ড ভূতের উৎপাত হয়। তা আবার ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর তার চমৎকার বৃত্তান্তে লিখেছিলেন। শাস্ত্রমতে, মৃতদেহ কবর না দিয়ে দাহ করিয়ে হিন্দুরা ভূতের গল্প তৈরি করেছিল। অন্তত বাংলায় এভাবে ভূতের আবির্ভাব আর বিশ্বাসের ভিত গড়ে ওঠে। তবে অপঘাতে মৃত্যু হয়েছে এমন মানুষ ভূত হয়ে ফিরে আসে এমনটা মনে করা হয়। 

আপনি হয়তো গল্প, উপন্যাসে বা সিনেমায় ভূত দেখেছেন বা পড়েছেন। ভূত যে শুধু মানুষের ক্ষতি করে তা কিন্তু নয়। অনেকে বিশ্বাস করেন ভূত তাদের জীবন বাঁচিয়েছিল। অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়? ভাবছেন ভূত কীভাবে মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। আজকের লেখায় থাকছে তেমনই কিছু মানুষের গল্প। যারা দাবি করেন ভূত তাদের জীবন বাঁচিয়েছিল।

ধূসর মানব

ধূসর মানব

দক্ষিণ ক্যারোলিনার ছোট্ট দ্বীপ পাভেলিজ। সুন্দর সৈকত, বাড়ি এবং প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে সাজানো এক দ্বীপ। তবে সেখানকার মানুষ ভূতের উপদ্রবে অতীষ্ট। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ধূসর মানুষ হিসেবে পরিচিত এক ভূত। যাকে কিনা গত ২০০ বছর ধরে এই দ্বীপে দেখা যায়। তবে কারো কোনো ক্ষতি করে না এই ভূত। সাধারণত কোনো বড় হারিকেন অঞ্চলটিতে আঘাত হানার আগেই রহস্যময় ধূসর চিত্রটির বিভিন্ন দৃশ্য দেখা যায় সেখানে। 

ওই দ্বীপের বাসিন্দা জিম এবং ক্লারা ১৯৮৯ সালে ধূসর লোকটিকে দেখেছিলেন। তাও আবার হারিকেন হুগো আঘাত হানার ঠিক দু’দিন আগে। সেদিন জিম আর ক্লারা সৈকতে হাঁটতে গিয়েছিল। তখন তারা এই লোকটিকে দেখতে পান। তারা দেখেন লোকটি তাদের দিকেই এগিয়ে আসছে। তবে তারা কথা বলার আগেই তাদের সামনেই লোকটি অদৃশ্য হয়ে যায়। 

যদিও সেইবারের ঘূর্ণিঝড় দ্বীপে অনেক ক্ষয়ক্ষতি করেছিল। ধূসর মানুষ বা গ্রে ম্যান আসলে কে ছিল তা কেউ জানে না। তবে কারো মতে, সে জলদস্যু ছিল। আবার কেউ বলেন, এই লোকটি তার স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে মনের কষ্টে কুইকসান্ডে গিয়ে আত্মহত্যা করে। মৃত্যুর কিছুদিন পরই তিনি তার স্ত্রীর সামনে হাজির হয়ে মারাত্মক হারিকেন আঘাত হানবে বলে জানান। আর হারিকেন আসার আগেই তাকে তার পরিবার নিয়ে দ্বীপ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছিলেন। সবাই মনে করে, তিনি তার স্ত্রীকে এতোটাই ভালোবাসতেন যে মৃত্যুর পরও তাকে বাঁচাতে ফিরে আসেন। 

মৃত স্ত্রীর সতর্কতামৃত স্ত্রীর সতর্কতায় বেঁচে যান ডুরান্ড 

শিকাগো ট্রিবিউনে চার্লস হেনরি ডুরান্ড নামে এক কৃষক ছিলেন। একদিন সন্ধ্যায় কাজ শেষ করে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎই তার ঘোড়া দাঁড়িয়ে গেল আর কাঁপতে শুরু করল। আর তখনই জোরে বাতাস বইতে শুরু করে। আচমকা একটি আলো ধীরে ধীরে ডুরান্ডের পাশে এসে একটি নারীর আকার নিল। সেই মুহুর্তে ডুরান্ড পালাতে চেয়েছিল। তবে তিনি এতোটাই ভয় পেয়েছিলেন যে একদমই নরতে পারছিলেন না। এমনকি চিৎকারও করতে পারছিলেন না। সাদা নারীর অবয়বটি তখন ফিসফিস করে ডুরান্ডকে বলল, বাড়িতে বিপদ আছে, সকাল পর্যন্ত দূরে থাকো। তখন ডুরান্ডোর মনে হলো তিনি তার প্রয়াত স্ত্রীর কণ্ঠ শুনতে পেলেন। 

সতর্কবাণী উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই অবয়বটি অদৃশ্য হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সব স্বাভাবিক হলে ডুরান্ড সোজা বাড়ির দিকে রওনা হলেন। দূর থেকেই ডুরান্ড লক্ষ্য করলেন, তার ঘরের একটি জানালা খোলা এবং বাড়ির ভিতরে আলো জ্বলছে। ডুরান্ড সাবধানতার সঙ্গে ভিতরের দিকে যেতে থাকল। হঠাৎ ভেতর থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ল। তবে বুলেটটি ডুরান্ডের ঠিক বুকের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল। একটু এদিক সেদিক হলেই বুলেটটি সোজা ডুরান্ডের বুকে ঢুকে যেত। ডুরান্ড বলেন, আগে থেকে সতর্ক না থাকলে সেদিন তিনি মারাই যেতেন।  

৫৬ মিনিটের জন্য মারা গিয়েছিলেন শিশু কোলে নেয়া নারী৫৬ মিনিটের জন্য মারা যায় এক নারী

৫০ বছর বয়সী সোনিয়া বার্টন নিজেকে অলৌকিক হিসেবে গণ্য করেন। সোনিয়া একদিন তার কাজের জায়গায় গিয়ে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন। তার সহকর্মীরা তাকে সঙ্গে সঙ্গেই কাছের এক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা জানায়, সোনিয়ার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে এবং তিনি মারা গেছেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মারা যাওয়ার ৫৬ মিনিট পর সোনিয়া আবার বেঁচে ওঠেন।

সোনিয়া বলেন, তার কাছে মনে হয়েছিল তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠেছেন। তবে ঘুমের মধ্যে তিনি তার স্বামীকে দেখতে পান। যিনি ২০০৪ সালে হার্ট অ্যাটাকের কারণে মারা গিয়েছিলেন। তিনি সোনিয়াকে বলছিলেন এখনো তোমার সময় হয়নি। বাচ্চাদের কাছে ফিরে যাও। আর তারপরই তিনি জেগে ওঠেন। তবে চিকিৎসকরা তাকে অনেকবারই পরীক্ষা করেছিলেন। প্রতিবারই তাকে মৃত বলে দাবি করেন।

উল্টে পড়া গাড়িতে ছিল মা ও শিশুমায়ের ভূত

২০১৫ সালের মার্চ মাসে স্প্যানিশ ফর্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা একটি বরফ নদীতে উল্টানো গাড়ি দেখতে পান। সেখানে পৌঁছে তারা দেখেন, গাড়িতে এক নারী এবং একটি শিশু রয়েছে। শিশুটি গাড়ির পিছনের সিটে আটকে ছিল। যেখানে নদীর ঠাণ্ডা পানি প্রায় ছুই ছুই অবস্থা। গাড়িটি প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধরে সেখানে ঝুলে ছিল। 

উদ্ধারকারীদের আসার অনেক আগেই ২৫ বছর বয়সী নারী মারা যায়। তবে স্প্যানিশ ফর্ক পুলিশ বিভাগের অফিসার জ্যারেড ওয়ার্নার বলেন, তারা স্পষ্ট শুনেছেন। কেউ হেল্প হেল্প বলে চিৎকার করছে। আর সেটা শুনেই তারা এখানে এসেছিলেন। তার সঙ্গে আরো চারজন অফিসার ছিলেন। তারা সবাই হতবাক হয়ে যান। কারণ শিশুটি এতোই ছোট ছিল যে তার কথা বলার মতো বয়স হয়নি। তাহলে কে হেল্প বলে চিৎকার করছিল? এছাড়াও তারা মনে করেন অনেকটা অলৌকিকভাবেই শিশুটি বেঁচে গিয়েছিল। 

আচ্ছা, আপনাদের কী মনে হয় কেন আর কীভাবে তারা রক্ষা পেয়েছিল? এসব সতর্কতা কি সত্যিই অবচেতন মনের বার্তা নাকি ভূতদের কাজ। যাই হোক না কেন, ভূত প্রেত, আত্মা বা রাক্ষস খোক্ষস সবই মানুষের বিশ্বাস আর মুখরোচক গল্পে আজো বেঁচে আছে। আর এভাবেই হয়তো আমাদের বিনোদনের খোরাক মেটাবে এসব গল্প- কাহিনী। 

সূত্র: বিয়ন্ডসায়েন্স

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস