Exim Bank
ঢাকা, বুধবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৮
Advertisement
বিজ্ঞাপন দিন      

মৃত্যুকূপে বসবাস

 রিয়াজ হোসেন, রূপগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১৭, ১৬ এপ্রিল ২০১৮

২৯৯ বার পঠিত

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি। প্রায় দেড় শ’ বছরের পুরনো বাড়ি। প্রবেশ করলেই ছমছমে অনুভূতি। বাড়িটিকে ঘিরে রয়েছে নানা কল্প-কাহিনী। কারু কাজখচিত বাড়িটির সামনের ভবনে কলেজের কার্যক্রম চলছে। পেছনের জরাজীর্ণ দু’টি ভবনেও রয়েছে কলেজের শ্রেণিকক্ষ। আর পুকুরের পাশে আরো তিনটি ভবনে ১৫ টি পরিবারের প্রায় শতাধিক লোক মৃত্যুকূপে বসবাস করছে। যে কোন সময় এসব বাড়ি ধ্বসে ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

এসব ভবনে বসবাস করাতো দূরের কথা অনেক পর্যটক দেখলেও বাড়িটিকে ভূতুড়ে বাড়ি মনে করেন। এছাড়া উপজেলা ভূমি অফিসের কার্যক্রমসহ স্থানীয় আরো কয়েকটি পরিত্যক্ত বাড়ি মৃত্যুকূপে বাস করছে বেশ কয়েকটি পরিবার। ঝূঁকিপূর্ণ এসব বাড়িতে বসবাসের পরেও প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নেই।

সরজমিনে দেখা গেছে উনবিংশ শতাব্দীতে নির্মিত মুড়াপাড়ার জমিদার জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জী ও আশুতোশ চন্দ্র ব্যানার্জীর বাড়িটি বর্তমানে মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে এই স্থাপনাগুলো থাকলেও তাদের নজরদারির অভাবে এবং শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে কলেজ কর্তৃপক্ষ বাড়ির মূল ভবনটি অপরিকল্পিতভাবে কয়েকবার সংস্কার করেছে। তবে পেছনের জরাজীর্ণ দু’টি ভবনেও রয়েছে কলেজের শ্রেণি কক্ষ। আর পুকুরের পাশের আরো তিনটি ভবনে বাস করে কলেজের অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ১৫টি পরিবার। এসব পরিবারগুলো মারত্মক ঝুঁকিতে এই পরিত্যক্ত ভবনে বসবাস করছে। প্রতিদিনই খসে পরে পলেস্তরা, বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে জল গড়ায়, চারিপাশে জঙ্গল মিলিয়ে এক ভুতুড়ে পরিবেশ।

এ ভবনগুলো এতই নাজুক যে নতুন করে কাজ শুরু করতে গেলে ধসে পরার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে কলেজ কর্তৃপক্ষ সেগুলোতে হাত দিচ্ছেনা।

এ ব্যাপারে জমিদার বাড়ির পেছনে বসবাসকারী মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা বলেন, পুরনো বাড়িতে থাকতে গেলে সামান্য ঝুঁকিতো থাকবেই। এখন আমার জন্য নির্ধারিত ভবনে আমাকে তো থাকতেই হবে। এমন নয় আমি বাইরে থাকতে পারি। তবে সবার যে অবস্থা আমারো সেই অবস্থা। রক্ষা করার মালিক উপরওয়ালা। এছাড়া কিছুদিন আগে থাকার মতো করে সামান্য সংস্কারসহ বনজঙ্গল পরিস্কার করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল ফাতেহ মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, যেহেতু সব ভবনে সরকারি কার্যক্রমসহ কর্মকর্তা কর্মচারিরা বসবাস করেন তাই এগুলো সরকারি উদ্যোগে সংস্কার করা অতি জরুরি। কিন্ত এর বেশিরভাগই প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন বিধায় নকশা পরিবর্তনের ঝুঁকির কারণে আমরা সংস্কারের উদ্যোগ নিতে পারছিনা। তবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ কয়েকটি ভবন সংস্কার করেছে। আরো জোরালোভাবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঝুকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর/আজ/এমআরকে

সর্বাধিক পঠিত