.ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৩ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৯ ১৪২৬,   ১৭ শা'বান ১৪৪০

মৃত্যুকূপসম কয়েকটি রাস্তা

খালিদ মাহমুদ খান

 প্রকাশিত: ১৪:২৪ ৯ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৪:২৪ ৯ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর ভৌগলিক বিচিত্রিতার কারণে সব স্থানের সড়ক বা রাস্তা একই রকম হয় না। বেশিরভাগ সড়কই গাড়ি চলাচলের জন্য উপযুক্ত আবার এমনো কতগুলো সড়ক রয়েছে যেগুলো দিয়ে গাড়ি চালানোর কথা ভাবতেই বুক কেঁপে উঠে৷ চলুন জেনে আসে এরকম কয়েকটি ভয়ানক রাস্তা বা সড়ক সম্পর্কে-

উত্তর ইয়োঙ্গাস সড়ক- বলিভিয়ার উত্তর ইয়োঙ্গাস সড়কটি মৃত্যু সড়ক নামেই বেশি পরিচিত। রাজধানী লাপাজ থেকে আমাজন বনের ভিতর দিয়ে চলে যাওয়া এই সড়কটিতে যাতায়াতের সময় প্রতি বছর দুই থেকে তিন শ' মানুষ মারা যায়। ৪২.৫ কিলোমিটার লম্বা এই সড়কটিতে রয়েছে অসংখ্য বাঁক ও ক্রসিং। ১৯৯৫ সালে এই সড়কটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর ও বিপজ্জনক সড়ক নামে আখ্যা দেওয়া হয়।

আটলান্টার হাফসা ভিয়েন- নরওয়ের উত্তর উপকূলে মোল্ডে এবং ক্রিস্টালসান শহরের মধ্যে অবস্থিত এ রাস্তাটি আটলান্টিক ওশেন রোড নামেই বেশি পরিচিত। এ রাস্তায় যে কারো দ্বারা সৃষ্ট সামান্য অসতর্কতা তার মৃত্যু ডেকে আনতে পারে। পাঁচ মাইল এ রাস্তাটি বেশ কয়েকটি দ্বীপকে সংযুক্ত করেছে। যে কারণে গাড়ির চাকা সামান্য সরে গেলে উত্তাল সমুদ্রে সরাসরি গিয়ে পড়তে হবে। উত্তাল ঢেউ যে শুধু তা নয় জোরালো বাতাস হবে আরোহীর শত্রু।

ইশিমা ওহাশি সেতু- মাত্র ১ মাইল লম্বা এ সেতুটি যে কী বিপজ্জনক ও ভয়ানক তাই এর ভৌগলিক অবস্থান দেখলেই বোঝা যায়। বলতে গেলে এক মাইল খাড়া এ সেতুতে গাড়ি চালানোর কথা চিন্তা করাও খুব কঠিন ব্যাপার। মূলত মাছ ধরার নৌকাগুলো যেন সেতুর নিচ দিয়ে অবলীলায় যাতায়াত করতে পারে সেজন্যই এই সেতুটি এত উঁচু করে তৈরি করা হয়েছে। জাপানে অবস্থিত এই সেতুটি মাতসোয়া ও সাকাইমিনারটো শহরকে যুক্ত করেছে। এই সেতুটি রোলার কোস্টার সেতু বা ব্রিজ নামেই সর্বাধিক পরিচিত।

হিমালয়ান হাইওয়ে- সাড়ে ১১ হাজার ফুটেরও বেশি উঁচুতে তৈরি এঁকেবেঁকে এগিয়ে যাওয়া এক লেনের সরু এই রাস্তাটির পাশের গভীর গিরিখাত প্রতি মুহূর্তে যেন হুঁশিয়ারি দিচ্ছে একটু অসাবধানতা বা সর্তকতা নিশ্চিত মৃত্যু ডেকে আনবে। তিব্বত ও ভারতকে যুক্ত করা এই রাস্তাটিতে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা কিন্তু তারপরেও এই সড়কটিতে পর্যটকদের যাতায়াত চোখে পড়ার মতো।

স্টিলভিও পাস- ইতালিতে অবস্থিত ১৫ মেইল দীর্ঘ এই স্টিলভিও পাসে আছে ৪৮ টি চুলের কাঁটার মতো তীক্ষ্ণ বাঁক। এমনকি কোনো কোনো স্থানের সড়ক ১৮০ ডিগ্রি কোণে ঘুরে গেছে। পূর্ব আল্পস পর্বতের একদিকে এই সড়কটি কোথাও কোথাও ৬ হাজার ফুট পর্যন্ত উপরে উঠে গেছে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য এই সড়কটি খুলে দেয়া হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য বছরের বাকি মাসগুলোতে এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো মানে নিজের বিপদ ডেকে আনা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস