Alexa মৃতদেহের হাড় কেটে ঝুলন্ত কবরস্থানে দেয়া হয় সমাধি

ঢাকা, রোববার   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯,   পৌষ ১ ১৪২৬,   ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

মৃতদেহের হাড় কেটে ঝুলন্ত কবরস্থানে দেয়া হয় সমাধি

সাদিকা আক্তার  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০২ ২ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

একটি পাহাড়ের গায়ে থরে থরে ঝুলছে কফিন। খাড়া এই পাহাড়ের গায়েই ঝুলন্ত অবস্থায় সমাধি দেয়া হয়। উত্তর ফিলিপাইনের মাউন্টেন প্রদেশের ইগোরোট উপজাতিরা দীর্ঘদিন ধরে মাটির উপরে উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় ঝুলন্ত কফিনে প্রিয়জনদের সমাধিস্থ করেন। এই প্রথা তাদের ঐতিহ্যের এক স্মারক। সম্ভবত, দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এই প্রথা অনুসরণ করছে এই আদিবাসী সম্প্রদায়। 

তবে এই ঐতিহ্যবাহী দাফন কেবল কয়েক বছর পরপরই অনুষ্ঠিত হয়। এ বিষয়ে ইগোরোট উপজাতিদের একজন (অবঃ) সেপ্টোগেনারিয়ান স্কুলের শিক্ষিকা সোলাদাদ বেলিংম বলেন, এই ঝুলন্ত সমাধি দেয়ার কারণ হলো মৃত প্রিয়জনের আত্মাকে আমাদের কাছাকাছি আনা। মাটিতে কবর দেয়া হলো যদি কবরে পানি জমবে কিংবা লাশ পচে যাবে। আমরা সবাই ঝুলন্ত কফিনে শায়িত থাকতে চাই মৃত্যুর পর। যারা গত হয়েছেন তারা চেয়েছিলেন এভাবে সমাধিস্থ হতে।

সোলাদাদ আরো বলেন, ঝুলন্ত সমাধির আরো উপকারিতা হলো- এক, কোনো জন্তু মৃতদেহটি খাবে না। আর দুই, কলিঙ্গ এবং পূর্বের বোন্টোক প্রদেশের শত্রুরা মৃতদের মাথার খোঁজ করত এবং সেগুলোকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যেত। এরপর থেকেই পূর্বপুরুষরা এই প্রথা মানতে শুরু করে। মৃত ব্যক্তিদের পাহাড়ের গাঁয়ে অর্থ্যাৎ উঁচুতে সমাহিত করার কারণ মূলত এটিই।

এভাবেই সমাধি দেয়া হয় ঝুলন্ত কবরস্থানেযেভাবে মৃত ব্যক্তিকে কফিনে ঝুলানো হয়

মৃতদেগুলো অদ্ভুতভাবে দাফন করা হয়। মৃত ব্যক্তিকে প্রথম একটা কাঠের খাটিয়ায় রাখা হয়। তারপর লাশটি বেত দিয়ে বেধে কম্বলে মুড়ানো হয়। তারপর লাশটিকে সম্মান জানাতে বাড়ির প্রধান ফটকের মুখোমুখি রাখা হয়। লাশের পচা গন্ধ আড়াল করতে সবাই পর্যাপ্ত ধূমপান করা হয়। মৃতদের জন্য এই আয়োজন কয়েকদিনের জন্য অনুষ্ঠিত হয়। শূকর এবং মুরগি জবাই করে তারা মৃত ব্যক্তির স্মরণে দিনটি উৎযাপন করেন। প্রবীণদের জন্য বলি দেয়া হয় তিনটি শূকর এবং দুটি মুরগি। সোলেদাদ বলেন, সংখ্যাটি সর্বদা তিন বা পাঁচ হতে হবে।

মৃতদেহটি মিছিল সহকারে কফিনে করে পাহাড়ের উপর নিয়ে যাওয়া হয়। মিছিলটি যখন সমাধিস্থলে পৌঁছে, যুবকরা ক্লিফের পাশের উপরে উঠে লাশটিকে একটি ফাঁকা কাঠের কফিনের ভিতরে রাখে। হাড়গুলো ফেটে ফেলা হয় শবদেহটিকে ছোট স্থানের সঙ্গে ফিট করার জন্য। এরপর যুবকেরা পাহাড়ের পাশে উঠে যায় এবং লাশটির কফিন পেরেক দিয়ে পাহাড়ের গায়ে ঝুলিয়ে রাখে। এভাবে দাফনের মাধ্যমে ইগোরেট সদস্যরা মনে করেন, প্রিয়জনদের স্বর্গে পৌঁছে দিয়ে এসেছেন।

তবে নতুন কফিনগুলো প্রায় দুই মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। সোলেদাদ ব্যাখ্যা করেন- আজকাল কফিনগুলো দীর্ঘ হয়। কারণ মৃত ব্যক্তির স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের হাড় ভাঙ্গতে ভয় পান। খুব কম লোকই এখন সেই ঐতিহ্য অনুসরণ করেন। এই প্রাচীন আচারের শেষ অনুশীলনকারীদের মধ্যে এখন সাগাদের প্রবীণরা রয়েছেন। তরুণ প্রজন্ম আধুনিক জীবনযাত্রা গ্রহণ করেছে। তারা খ্রিস্টান ধর্মোনুসারে প্রভাবিত। তারা ঝুলন্ত এই দাফন ব্যবস্থার পক্ষে নয়। কারণ তাদের মতে, ঝুলন্ত কফিনগুলোর পাশে দাড়িয়ে সম্মান জানানো যায় না। তবে এই ঐতিহ্য যা ধীরে ধীরে শেষ হচ্ছে।

সূত্র: রাফগাইডস

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস