মৃতদের কবর থেকে তুলে নতুন পোশাক পরানোর আজব রীতি! 
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=192578 LIMIT 1

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৪ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২১ ১৪২৭,   ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

মৃতদের কবর থেকে তুলে নতুন পোশাক পরানোর আজব রীতি! 

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৮ ৭ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৬:৫৮ ৭ জুলাই ২০২০

ছবি: কবর থেকে মৃতদের উঠিয়ে কাপড় পরানোর অনুষ্ঠান

ছবি: কবর থেকে মৃতদের উঠিয়ে কাপড় পরানোর অনুষ্ঠান

আজব সব রীতি-নীতিতে চলছে বিশ্ব! যা আপনার বা আমার কাছে অবাক করা বিষয় তা হয়ত অন্যদের কাছে পরিচিত বিষয়! বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, রীতি-নীতিতে পার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক। 

তাই বলে এ কেমন আজব নিয়ম যে, কবর থেকে মৃত ব্যক্তিদের তুলে পুরনো পোশাক বদলে নতুন পোশাক পরানো হয়। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন! এটি মাদাগাস্কারের মেরিনা উপজাতিদের একটি উৎসব। যা তারা পূর্বপুরুষদের আত্মাকে শান্তি দেয়ার জন্য করে থাকে।

এদিন প্রত্যেকেই তার পরিবারের মৃতদের কবর থেকে উঠায়এই অদ্ভুত উৎসবটি প্রতি পাঁচ থেকে সাত বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয়। এই আজব উৎসব চলাকালীন সময় তারা পূর্বপুরুষদের মৃতদেহ বা এর অবশিষ্ট অংশ বের করে আনে ও মৃতদেহগুলোর পুরানো পোশাক বদলে নতুন সিল্কের পোশাক পরিয়ে দেয়! 

এরপর মৃতের আত্মীয় ও পাড়া-প্রতিবেশীরা তুমুল আনন্দের সঙ্গে মৃতদেহগুলো মাথার উপরে নিয়ে নাচ, গানে মেতে উঠে। তবে একটি শর্ত আছে, মৃত ব্যক্তির জন্য কেউ তখন কাঁদতে পারবে না। কারণ তারা মনে করে, কাঁদলে পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে আশীর্বাদ প্রত্যাখ্যাত হবে। নির্দিষ্ট এই অনুষ্ঠানে নাচ-গানের পাশাপাশি দেয়া হয় পশু বলি।

মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে চলে নাচ গানএই অনুষ্ঠান ফামাদিহানা নামে পরিচিত। ফামাদিহানা হচ্ছে একটি উৎসব যেখানে পরিবারের পূর্বপুরুষদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা দেখানো হয়। একই গোষ্ঠী বা বংশের অন্তর্গত পরিবারগুলো অনুষ্ঠান উপলক্ষে একত্রিত হয় ও উৎসবে মেতে ওঠে। এদিন যখন কবর থেকে মৃতদের উঠিয়ে কাপড় পরানো হয় তখন পরিবারের ক্ষুদে সদস্যদেরকেও তার পূর্বপুরুষ সম্পর্কে জানানো হয়।

মালাগাছির মানুষের মতে, মানুষ আসলে মাটির তৈরি নয়। মানুষের উৎপত্তি তার পূর্ব পুরুষদের থেকে। যে কারণে বংশধররা তাদের পূর্বপুরুষদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে। তারা আরো বিশ্বাস করে, মৃতদের দেহ পুরোপুরি পচে যাবার আগ পর্যন্ত তারা এই পৃথিবী ত্যাগ করে না ও ততদিন পর্যন্ত তারা জীবিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম। তাই মৃতদেহগুলো পুরোপুরি মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই ফামাদিহানা উৎসবের মাধ্যমে তাদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা দেখানো হয়। 

তারা সবাই একত্রিত হয়অবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে, ফামাদিহানা কিন্তু খুব প্রাচীন রীতি নয়। কারণ ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৭শ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত মাদাগাস্কারে ফামাদিহানার অস্তিত্বই ছিল না। তবে বর্তমান সময়ে ফামাদিহানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা বেশ ব্যয়বহুল। কারণ এই অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের জন্য দামি খাবার ও সবার জন্য নতুন পোশাক কিনতে হয়। 

অনেক গরীব মালাগাছিয়ানদেরই নিজেদের ব্যক্তিগত সমাধিস্থল নেই। তাই তাদেরকে এটা তৈরি করতে অনেক বছর ধরে অর্থ সঞ্চয় করতে হয়। এরপরই তারা ফামাদিহানা আয়োজন করতে পারে। ঐতিহ্যগতভাবে তাদের বিশ্বাস, যেসব পরিবার ফামাদিহানা অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারে না, তারা পূর্বপুরুষদের যথাযথভাবে সম্মান করে না। 

সন্ধ্যার আগেই লাশ কবের রাখা হয়আবার অনেকের ধারণা, এই অনুষ্ঠানটি আসলে অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। মৃতদের সঙ্গে কথা বলার ধারণাটিও তারা বিশ্বাস করেন না। ইভানজেলিক্যাল প্রোটেস্টেন্ট খ্রিস্টানরা অনেকবার এ প্রথা বন্ধ করতে চেয়েছিল। যাই হোক, ক্যাথলিক গির্জা ফামাদিহানা কে ধর্মীয় নয় বরং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বলে মনে করে। 

ফামাদিহানা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয় জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে। স্থানীয় সরকারি প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও এতে অংশ নেন। এছাড়া অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে পাশ দিয়ে কোনো পথচারী গেলে তাকেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে সূর্য ডুবে যাওয়ার আগে মৃতদেহগুলোকে আবারো কবরে রাখতে হয়। কারণ তারা বিশ্বাস করে, রাতে সেই আত্মা খারাপ আত্মা এবং নেতিবাচক শক্তিতে পরিণত হতে পারে। তাছাড়াও সূর্য তাদের জীবনের একটি বড় উৎস।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস