.ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৫ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪০

মুহূর্তেই মুছে গেল বিজয়ের আনন্দ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১২:৫২ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১২:৫২ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারে মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে পাক বাহিনীর মাইন বিস্ফোরণে ২৪ জন মুক্তিযোদ্ধা প্রাণ হারান। বিজয়ের আনন্দ মুহূর্ত ক্ষণিকেই রূপ নেয় রক্তাক্ত বেদনায়। এরপর থেকে এ দিনটিকে স্থানীয়ভাবে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে জেলাবাসী।

সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে সমাধিস্থলে ২০ ডিসেম্বর নিহতদের নাম ফলক নির্মাণ করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন- শহীদ সুলেমান মিয়া, শহীদ রহিম বকস খোকা, শহীদ ইয়ানুর আলী, শহীদ আছকর আলী, শহীদ জহির মিয়া, শহীদ ইব্রাহিম আলী, শহীদ আব্দুল আজিজ, শহীদ প্রদীপ চন্দ্র দাস, শহীদ শিশির রঞ্জন দেব, শহীদ সত্যেন্দ্র দাস, শহীদ অরুণ দত্ত, শহীদ দিলীপ দেব, শহীদ সনাতন সিংহ, শহীদ নন্দলাল বাউরী, শহীদ সমীর চন্দ্র সোম, শহীদ কাজল পাল, শহীদ হিমাংশু কর, শহীদ জিতেন্দ্র চন্দ্র দেব, শহীদ আব্দুল আলী, শহীদ নুরুল ইসলাম, শহীদ মোস্তফা কামাল, শহীদ আশুতোষ দেব, শহীদ তরণী দেব, শহীদ নরেশ চন্দ্র ধর।

১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার পাকহানাদার মুক্ত হয়। এরপর একে একে বাড়ি ফিরতে থাকেন দীর্ঘ ৯ মাস ঘরছাড়া মুক্তিযোদ্ধারা। জেলা শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব প্রান্তের ক্যাম্পে সমবেত হয়ে তারা রান্নাবান্না, বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি, যুদ্ধের স্মৃতিচারণ, আত্বীয়-পরিজনের খোঁজ নিচ্ছিলেন তারা। সে মুহূর্তে মাইন বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো ক্যাম্প। চোখের পলকে টুকরো টুকরো হয়ে যায় ২৪ মুক্তিযোদ্ধার দেহ। আহত হন আরো অনেকে। ক্যাম্পের অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর সদস্য।

শত্রুমুক্ত হওয়ার পরও এভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে ভাবেনি মৌলভীবাজারবাসী। ছিন্নভিন্ন মুক্তিযোদ্ধাদের দেহ একত্রিত করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে সমাধিস্থ করে স্থানীয়রা। সেদিন মাইন বিস্ফোরণের রহস্য আজও উদঘাটন হয়নি।

বাংলাদেশের কমিউনিস্টর পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমদ বলেন, স্বাধীনতার পর কোনো সরকার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এ রহস্য উন্মোচনের উদ্যোগ নেয়নি।

৪নং সেক্টরের পলিটিক্যাল কো-অর্ডিনেটর আজিজুর রহমান বলেন, আমি সেদিন সকালে ক্যাম্প পরিদর্শনের লক্ষ্যে সরকারি স্কুলে যাই। ক্যাম্প কমান্ডার সুলেমান মিয়া আমাকে একটি পুরনো হাতল লাগানো চেয়ারে বসতে দেন। আমার কাঁধের স্টেনগান চেয়ারের হাতলে রেখে চা পান করছিলাম। তখন স্কুল গেটে এসে থামে অস্ত্রবোঝাই দুটি গাড়ি। তখন কমলগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তাকারী আবদুল আহাদের সঙ্গে কথা বলতে আমি গেটের বাইরে যাই। এ সময় ক্যাম্পের পাক হানাদারদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র, মাইন ও মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত অস্ত্রবোঝাই ঘরে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে বিদ্যালয়ের দেয়াল, টিনের চাল ও মুক্তিযোদ্ধাদের দেহ খণ্ডবিখণ্ড হয়ে চারদিকে ছিটকে পড়ে। মুক্ত স্বাধীন দেশে আবারো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ শহর ছেড়ে পালাতে থাকে। ক্যাম্পে অন্তত ১২০ মুক্তিযোদ্ধা ছিল। ওই বিস্ফোরণে কমান্ডার সোলেমান মিয়াসহ ২৪ জনই মারা যান। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর