মুসলিম কন্যাকে বিয়ে, অতঃপর হিন্দু ধর্ম ছেড়ে রাজীব থেকে মহম্মদ!

ঢাকা, রোববার   ৩১ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৮ ১৪২৭,   ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

কালাপাহাড়

মুসলিম কন্যাকে বিয়ে, অতঃপর হিন্দু ধর্ম ছেড়ে রাজীব থেকে মহম্মদ!

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৩৮ ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৩:৪২ ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

এক কট্টর ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রাজীব লোচন রায়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ হিন্দু। নিয়মিত বিষ্ণু পূজা দিতেন রাজীব। সেই কট্টর হিন্দু কি-না বিয়ে করে মুসলিম হয়ে গেলেন। জ্বি হ্যাঁ, রাজীব থেকে তিনি হয়ে গেলেন মহম্মদ ফর্ম্মুলি। অতঃপর হিন্দু বিদ্বেষীর ভূমিকায় কালাপাহাড় নামে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেন এই মানুষটি। 

তার সাহস ছিল আকাশসম। আর তাইতো বিশ্বকবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘কোথা চেংগিস, গজনী মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়; ভেংগে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা দেওয়া দ্বার’ (মানুষ)। তবে কে ছিলেন এই কালাপাহাড়? কেনই বা তিনি এতটা হিন্দু বিদ্বেষী ছিলেন, কেনই বা তার এত রাগ ছিল দেবালয়গুলোর ওপরে? কালাপাহাড় সম্বন্ধে আমরা কতটুকুই বা জানি! আবার জানলেও সত্য বা মিথ্যা যাচাই করাও মুশকিল। তাকে নিয়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিভিন্ন মত পোষণ করেন। বিভিন্ন কারণ দেখানো হয়। এমনকি তার কোনো তৈলচিত্র নেই। তিনি কেমন দেখতে ছিলেন সেটাও কারোর জানা নেই।

রাজীব লোচন রায়

বর্তমান বাংলাদেশের রাজশাহী মতান্তরে নওগাঁ জেলায় জন্ম হয় রাজীব লোচনের। বীরজোয়ান গ্রামে ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দে এক কট্টর ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। রাজীব লোচন রায় ওরফে রাজু ভাদুড়ী যাকে আমরা কালাপাহাড় জানি। তার বাবা ছিলেন নয়নচাঁদ রায়, যিনি গৌড়ের ফৌজদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। রায় ছিল তাদের পারিবারিক উপাধী, পদবি ছিল ভাদুড়ী। অকালেই নয়নচাঁদ মারা গেলে রাজু মায়ের কাছে লালিতপালিত হতে থাকেন। তিনি বিদ্বান ও বুদ্ধিমান ছিলেন। রাজীব লোচনের দিনাতিপাতের সমসাময়িক সময়ে দিল্লির মসনদে গদি আঁকড়ে ছিলেন নাসিরুদ্দিন মোহাম্মদ হুমায়ূন। আর তখন বাংলায় চলছে হোসেন শাহী বংশের গর্বিত স্বাধীন সুলতানি যুগ।

কালাপাহাড় বনে গেলেন যেভাবে

শেরশাহ হুমায়ূনকে সিংহাসনচ্যুত করলে দিল্লি আপাতত মোঘল শাসনের বাইরে চলে যায় এবং শেরশাহের স্বদেশী সেনাপতি সুলায়মান খান কররানী বাংলা অধিকার করেন। তিনি যখন গৌড়ের শাসক সেসময় তিনি গৌড়ের সেনানীতে যোগদান করেন এবং অতি অল্পকালের মধ্যে যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শিতার পরিচয় দিয়ে সুনজরে পড়েন। সুলায়মান খান কররানী ব্যক্তি হিসেবে ছিলেন খুবই ধুরন্ধর প্রজাতির। নিজ স্বার্থ আদায়ে কোন কিছুরই তোয়াক্কা করতেন না। সবকিছু ছাপিয়ে তিনি ছিলেন একজন ঝানু কূটনীতিক। যার প্রমাণ পাওয়া যায়, মোঘলদের সঙ্গে তার সহনশীল নীতি। 

তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, মোঘলদের বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি টিকতে পারবেন না। তাই মুঘল সম্রাটদের বশ্যতা স্বীকার করে নিয়মিত উপহার উপঢৌকনাদি পাঠিয়ে শান্ত রাখতেন। উত্তর প্রদেশের শাসক মুনিম খানের মাধ্যমে তিনি সম্রাট আকবরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন আবার তলে তলে ‘হযরত -ই-আলা’ উপাধি ধারণ করে প্রমাণ করেছিলেন তিনি মূলত একজন স্বাধীন শাসক। সুলায়মানের শাণিত চক্ষুর আড়াল হতে পারেননি কালাপাহাড়। গৌড়ের সেনাবাহিনীর একজন সাধারণ সৈন্য থেকে তুলে আনেন তাকে এবং অসম এক প্রস্তাব দিয়ে বসেন!

কালাপাহাড়অন্য ঐতিহাসিকদের মতে, কালাপাহাড় প্রথম থেকেই সুলায়মান খান কররানীর বাহিনীতে ছিলেন। আবার অন্য ঐতিহাসিকরা মত ভিন্ন- কালাপাহাড় ছিলেন কলিঙ্গ উৎকল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট গজপতি মুকুন্দ দেবের সেনাপতি। ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দে, রাজীব লোচন রায়ের নেতৃত্বাধীন গজপতি মুকুন্দদেব ও ভুরশুট সাম্রাজ্যের রাজা রুদ্রনারায়ণ এর সেনাবাহিনী ত্রিবেণীর যুদ্ধে বাংলার সুলতান সুলেমান কররানীকে পরাজিত করে। পরাজিত সুলেমান সন্ধি করতে বাধ্য হন। তবে কালাপাহাড় যে আদতে হিন্দু বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান ছিলেন, তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।

ধর্মান্তর হওয়ার কারণ

আসল নাম রাজীব লোচন রায় মতান্তরে কালাচাঁদ রায় (বা রায় ভাদুড়ী বা রাজচন্দ্র বা রাজকৃষ্ণ বা রাজনারায়ণ। ডাকনাম রাজু। তিনি বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান ছিলেন, পিতার নাম ছিল নয়নচাঁদ রায় (ইনি গৌড় বাদশাহের ফৌজদার ছিলেন)। নিয়মিত বিষ্ণু পূজা করতেন। বাবা কররানীর সুন্দরি কন্যাকে বিয়ে ও গৌড়ের সেনাপতি পদের লোভনীয় প্রস্তাব রাজীব লোচনের সম্মুখে পেশ করেন। স্পষ্ট ভাষায় বলে দেন রাজীবকে তার দরকার, তবে শর্ত আছে ২টি- তাকে গৃহত্যাগী হতে হবে এবং তাকে ধর্মান্তরিত হতে হবে। এ প্রস্তাব শুনে আপাতদৃষ্টিতে হতভম্ভ হয়ে যান রাজীব। একদিকে গৌড়ের সেনাপতি আর কররানীর সুন্দরী কন্যাকে পত্নী হিসেবে পাওয়ার দু-দুইটি লোভনীয় প্রস্তাব আর অন্যদিকে নিজের জাতপাত আর ধর্ম বিসর্জন।

অনেক জল্পনাকল্পনা শেষে রাজীব লোচন রায় ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে কররানীর কন্যাকে বিবাহ করে গৌড়ের সেনাপতি পদে অধিষ্ঠিত হন। তবে কররানী কন্যা দুলারি বিবির সঙ্গে যে রাজু ভাদুড়ীর বিবাহ হয়েছিল, তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। এদিকে মুসলমান কন্যা বিবাহের সুবাদে বর্ণবাদী হিন্দু সমাজ তাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। আর সেই কারণে প্রতিশোধ স্পৃহায় অন্ধ হয়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘মহম্মদ ফর্ম্মুলি’ নাম ধারণ করেন তিনি। প্রবল হিন্দু বিদ্বেষী হয়ে ওঠেন। আর তখন থেকেই কালাপাহাড় নামে পরিচিত হন। ১৫৬৮ সালে তিনি পুরীর শ্রী শ্রী জগন্ননাথ ধাম আক্রমণ করেন এবং মন্দির ও বিগ্রহের প্রচুর ক্ষতিসাধন করেন।

মুসলিম হয়ে আবারো হিন্দু হওয়ার আশা পোষণ করেন কালাপাহাড়!

কিছু ঐতিহাসিকদের মতে, মুসলিম কন্যাকে বিয়ের পর থেকেই কালাপাহাড় মনকষ্টে ভুগতে শুরু করেন। তার স্ত্রীও স্বামীর দুঃখে ব্যথিত হতে থাকেন ও পিতার এহেন দুরভিসন্ধিমূলক কাজের জন্য আফসোস করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত কালাপাহাড় সিদ্ধান্ত নিলেন শুদ্ধি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আবার হিন্দু ধর্মে ফিরে যাবেন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে শুদ্ধি অভিযানে অংশ নিতে তার স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে গেলেন এককালের ধর্মপ্রাণ হিন্দু রাজীব লোচন রায়, আশা ছিল তার পুরোহিতরা তাকে আপন করে নেবেন। তবে বিধি বাম! পুরোহিতদের আজ্ঞা- কোনো অহিন্দু জগন্নাথ মন্দিরের ছায়া মাড়াতে পারবে না। অতীতে অহিন্দু কর্তৃক অনেক মন্দির ধ্বংস হয়েছে। লুন্ঠিত হয়েছে সম্পদ। সুতরাং আর কোনো সুযোগ দেয়া হলো না কালাপাহাড়কে। ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যাত হয় সে।

পাহাড়সম অপমানের বোঝা কাঁধে করে ফিরলেন নিজ গৃহে। সেনাপতির পদের যথেচ্ছ ব্যবহারের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেন হিন্দু অধ্যুষিত রাজ্যগুলোতে। এরপরের অংশ সবারই জানা। কিছু ঐতিহাসিকদের মতে, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের পান্ডাদের, তার হিন্দু ধর্মে ফিরে আসা আটকাতেও ছিল কররানীর হাত। এরূপ সিদ্ধান্তের জন্য তিনি পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের পাণ্ডাদের যথেষ্ঠ উৎকোচ দিয়েছিলেন। কিছু ঐতিহাসিকদের মতে, কালাপাহাড়ের হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার মধ্যে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তৎকালীন উৎকলের রাজা গজপতি মুকুন্দদেব। তিনিই পুরীর মন্দিরের পাণ্ডাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে রাজু ভাদুড়ীর যে আর হিন্দু ধর্মে ফেরা হয় নি, তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। এই ঘটনার পরেই তার যে হিন্দু দেবালয় ও উচ্চ বর্ণের প্রতি তীব্র ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়, তা নিয়েও ঐতিহাসিকদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।

আশেপাশের সব মন্দিরে হামলা চালান তিনিমন্দির ধ্বংসকারী কালাপাহাড়

১৫৬৭-৬৮ খ্রীষ্টাব্দে মুকুন্দ দেবের বিরুদ্ধে সুলাইমান কররাণীর পুত্র বায়েজিদ খান কররানী ও সেনাপতি সিকান্দার উজবেকের যুদ্ধে মুকুন্দ দেবের পতন হলে কালাপাহাড় উড়িষ্যা ও তার নিকবর্তী অঞ্চলের হিন্দু মন্দিরগুলোতে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালান। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করেন এবং মন্দিরের সম্পদ লুণ্ঠন করেন। জানা যায়, কালাপাহাড় জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার কাঠের প্রতিমা উপড়ে নিয়ে হুগলি নদীর তীরে আগুনে পুড়িয়ে দেন। কালাপাহাড় উড়িষ্যার বালেশ্বরের গোপীনাথ মন্দির, ভুবনেশ্বরের কাছে কোনার্ক মন্দির, মেদিনীপুর, ময়ুরভঞ্জ, কটক ও পুরীর আরো কিছু মন্দিরে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালান। 

কালাপাহাড়ের মন্দির আক্রমণের প্রক্রিয়াটি একটু অভিনব ছিল। তিনি গরুর চামড়ার বিশাল আকৃতির ঢোল আর পিতলের বড় বড় ঘণ্টা মন্দিরের ভেতরে ক্রমাগত বাজিয়ে তীব্র অনুরণন তৈরি করার ব্যবস্থা করেন। সেই অনুরণনের তীব্রতায় প্রতিমাদের হাতগুলো খসে পড়ত। এতে উপস্থিত লোকজন হতভম্ব হয়ে পড়লে প্রতিমা উপড়ে ফেলা হত। কালাপাহাড় মন্দির সমূলে ধ্বংস করার চেয়ে প্রতিমা ধ্বংস ও লুটপাটে বেশি আগ্রহী ছিলেন। মন্দির আক্রমণের শেষ পর্যায়ে কালাপাহাড় সম্বলপুরের মা সম্বলেশ্বরীর মন্দিরে আক্রমণ করতে সম্বলপুরের উপকণ্ঠে মহানদীর তীরে দুর্গাপালীতে উপস্থিত হন। সম্বলেশ্বরী মন্দিরের পূজারীরা মন্দির রক্ষার্থে এক দুঃসাহসী পদক্ষেপ নেন। 

এক নারীকে গোয়ালিনীর ছদ্মবেশে কালাপাহাড়ের ছাউনিতে পাঠানো হয়। তিনি সৈন্যদের মধ্যে বিষ মিশ্রিত দুধ, দই, ছানা, বিক্রি করেন। পরদিন সকালে খাদ্যের বিষক্রিয়ায় কালাপাহাড়ের বেশির ভাগ সৈন্য আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তিনি অবশিষ্ট সৈন্যদের নিয়ে পালিয়ে যান। মন্দির ধ্বংসের ঘটনা উড়িষ্যা ও মেদিনীপুরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কররানীদের কোচবিহার আক্রমণকালে কালাপাহাড় আসামের কামাখ্যা মন্দিরসহ আরো কিছু মন্দির ধ্বংস করেন। কালাপাহাড় কররাণীদের শেষ শাসক দাউদ খান কররাণীর আমল পর্যন্ত কররাণীদের সেনাপতি ছিলেন এবং মুঘলদের বিরুদ্ধে অভিযানগুলোতে অংশগ্রহণ করেন। ১৫৭৬ খ্রীষ্টাব্দে কররাণীদের পতনের পর কালাপাহাড় সম্ভবত আফগান নেতা মাসুম কাবুলীর দলে যোগ দেন এবং মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত থাকেন। সম্ভবত ১৫৮৩ খ্রীষ্টাব্দে মুঘল সেনাপতি খান ই আজমের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মাসুম কাবুলী পরাস্ত হলে সেই যুদ্ধে কালাপাহাড়ও নিহত হন।

মুঘলদের সঙ্গে যুদ্ধে কালাপাহাড়ের মৃত্যুর পর তাকে উড়িষ্যার সম্বলপুরে মহানদীর তীরে সমাধিস্থ করা হয়। সম্বলেশ্বর কলেজ বিল্ডিং-এর গায়ে অসংখ্য সমাধি দেখে অনুমান করা হয় এগুলো কালাপাহাড়ের সহযোদ্ধাদের। তাই একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আক্রোশে ২০০৬ সালে তা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। কালাপাহাড় নামের সঙ্গে যারা ইতিহাস নিয়ে চর্চা রাখেন তারা তো বটেই, আরো অনেকেই পরিচিত। বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান সব সাহিত্যিক মুখরোচক করে কালাপাহাড়কে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করে গেছেন। প্রলয় ও সংহারক মূর্তির বিজ্ঞাপন হিসেবে যে নামটি নির্দেশ করে গেছেন তারা, তিনি কালাপাহাড়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস