মুসলিমের ওপর কোরআনের হক
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=191425 LIMIT 1

ঢাকা, রোববার   ০৯ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৫ ১৪২৭,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

মুসলিমের ওপর কোরআনের হক

মো. মুজাহিদুর ইসলাম বিন মোযযাম্মেল হক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১৪ ১ জুলাই ২০২০  

আল কোরআনই ব্যক্তিগত,পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রিয়, আন্তর্জাতিক জীবনকে নির্বিশেষে একটি সুসময়, শান্ত এবং সুস্থ পৃথিবী গড়ার কারিগর।

আল কোরআনই ব্যক্তিগত,পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রিয়, আন্তর্জাতিক জীবনকে নির্বিশেষে একটি সুসময়, শান্ত এবং সুস্থ পৃথিবী গড়ার কারিগর।

পবিত্র কোরআনুল কারিম বিশ্ব মানবতার জন্য এক অফুরন্ত নিয়ামত। আল্লাহ তায়ালার বড়ই মেহেরবানী যে, তিনি আমাদের ওপর কোরআন অবতীর্ণ করেছেন।

কোরআনে বলা হয়েছে,

لرَّحْمَنُ

عَلَّمَ الْقُرْآنَ

‘তিনি আল্লাহ বড়ই মেহেরবান, যিনি কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। (সূরা: আর-রহমান, আয়াত: ১-২)।

কোরআন এমন একটি কিতাব যার মাধ্যমে আরবের সেই বর্বর জাতি সভ্য জাতিতে পরিণত হয়েছিল। রাসূল (সা.) কোরআন দিয়েই পৃথিবী সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ তৈরি করেছিলেন। তিনি বলেছেন বিশ্বমানবমনণ্ডলীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হলো আমার যুগ।(সহিহ বুখারি, হাদিস সম্বর: ২৬৫২)।

মানুষের ওপর কোরআনের অনেকগুলো হক রয়েছে তার মধ্যে বেশ কিছু হক রয়েছে এমন যে, কেউ যদি তা আদায় না করে তাহলে কেয়ামতের দিন নবী (সা.) তার বিরুদ্ধে আল্লাহর দরবারে অভিযোগ করবেন। 

কোরআনে বলা হয়েছে,

وَقَالَ الرَّسُولُ يَا رَبِّ إِنَّ قَوْمِي اتَّخَذُوا هَذَا الْقُرْآنَ مَهْجُورًا

‘আর রাসূল (সা.) (কেয়ামতের দিন) বলবেন, হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমার জাতি এই কোরআনকে পরিত্যাজ্য গণ্য করেছে।’ (সূরা: আল-ফুরকান, আয়াত: ৩০)।

আমাদের ওপর কোরআনের যেসব হক রয়েছে তা নিম্নরুপ-

১. কোরআনের প্রতি ঈমান আনা। ২. সহিহ ভাবে কোরআন পড়তে জানা। ৩. কোরআন তেলাওয়াত করা ও শ্রবণ করা। ৪. অপরকে কোরআন শিক্ষা দেয়া। ৫. এর আয়াত সমূহ বুঝা ও উপলব্ধি করা। ৬. তার প্রতি আমল করা। ৭. এর বাণী সমূহ প্রচার করা ও প্রতিষ্ঠা করা।

নিম্নে সবিস্তারে এসবের আলোচনা তুলে ধরা হলো- 

(১) কোরআনের প্রতি ঈমান আনা: কোরআনের হক সমূহের প্রধান হক হলো তার প্রতি ঈমান আনা। অর্থাৎ এই বিশ্বাস রাখা যে, কোরআন আল্লাহর কালাম, সর্বশেষ আসমানী কিতাব, এই কিতাবের মাধ্যমে সব আসমানী কিতাব রহিত হয়ে গেছে এবং কোরআন বিশ্ব মানব জাতির জন্য হেদায়াত ও আল্লাহর পক্ষ থেকে নূর বা আলো স্বরুপ নাজিল হয়েছে। 

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالنُّورِ الَّذِي أَنزَلْنَا وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

‘অতএব, তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের এবং আমি যে নূর  (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি তার প্রতি ঈমান আন। আর আল্লাহ তোমাদের কর্ম সর্ম্পকে অবহিত আছেন।’ (সূরা: আত-তাগাবুন, আয়াত: ৮)।

(২) কোরআন সহিহ ভাবে পড়তে জানা: কোরআন পড়া প্রত্যেক মুসলিমের ওপর আবশ্যক। অবশ্যই তা জানতে হবে এবং সহিহ ভাবে কোরআন শিখতে হবে।

কেননা কোরআনে বলা হয়েছে,

اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ

‘পড় তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।’(সূরা: আলাক, আয়াত: ১)।

এবং

أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا

‘আপনি কোরআন আবৃত্তি করুন সুবিন্যস্ত ভাবে ও স্পষ্টভাবে। (সূরা: মুজাম্মিল, আয়াত: ৪)।

(৩) বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা ও শ্রবণ করা: কোরআন তেলাওয়া করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও কোরআনের হক। কোরআনুল কারিম একমাত্র গ্রন্থ যার প্রত্যেকটি হরফে দশটি সওয়াব পাওয়া যায়। পৃথিবীতে কোরআন ছাড়া এমন কনো গ্রন্থ নেই যা পাঠকরার মাধ্যমে সওয়াব অর্জিত হয়।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

تْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاء وَالْمُنكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ

আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব পাঠ করুন এবং নামাজ কায়েম করুন। নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর। (সূরা: আনকাবুত, আয়াত:৪৫)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,

যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করবে তার জন্য একটি সওয়াব রয়েছে। আর একটি সওয়াব দশটি সওয়াবের সমপরিমান। আমি বলি না যে, আলিফ লাম মীম একটি হরফ বরং আলিফ একটি হরফ লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ। (তিরমিযী-৩১৫৮)।

কোরআন শ্রবণ করার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَإِذَا قُرِىءَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُواْ لَهُ وَأَنصِتُواْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

‘যখন কোরআন পড়া হয় তখন তোমরা তা কান পেতে শ্রবণ কর এবং চুপ থাক,তোমাদের ওপর রহম করা  হবে। (সূরা: আল-আরাফ , আয়াত: ২০৪)।

(৪) অপরকে কোরআন শিক্ষা দেয়া: কোরআনের অন্যতম হক হলো নিজে শিক্ষা করা এবং অন্যকে তা শিক্ষা দেয়া। কেননা রাসূল (সা.) তাঁর সাহবিদের শিক্ষা দিয়েছেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا مِن قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ

‘তিনি নিরক্ষদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াত সমূহ পাঠ করেন, তাদের পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমাহ। ইতোপূর্বে তারা ছিল ঘোর পথভ্রষ্ঠতায় লিপ্ত। (সূরা: জুময়াহ. আয়াত: ২)।

কোরআন শিক্ষা দেয়ার চেয়ে উত্তম কাজ পৃথিবীতে আর নেই। হাদিসে এসেছে: উসমান (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হলো সেই যে নিজে কোরআন শিক্ষা করে ও অপরকে তা শিক্ষা দেয়। (তিরমিযী: ৩১৫৪)।

(৫) এর আয়াতসমুহ বুঝা ও উপলব্ধি করা: কোরআনের অর্থ বুঝা ও অনুধাবন করা কোরআনের অন্যতম হক। কোরআনের অর্থ না বুঝতে পারলে আমরা কোরআন নাজিলের উদ্দেশ্য ও তার দাবি বাস্তবায়নে সক্ষম হব না। অর্থ না বুঝে পড়লে কোরআনের স্বাদ আস্বাদন করা যাবে না। কোরআন বুঝার জন্য অর্থ, আয়াতের ব্যাখ্যা, অবতীর্ণ হওয়ার কারণ বা প্রেক্ষাপট এবং কোরআনের  আয়াতসমূহের শিক্ষা জানতে হবে। 

কোরআনে এসেছে,

إِنَّا أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ

‘নিশ্চয় আমি একে আরবি কোরআনরূপে নাজিল করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার।’ (সূরা: ইউসুফ, আয়াত: ২)।

কোরআন বুঝার ক্ষেত্রে হাদিসের সাহায্য না নিলে যে কেউ পথভ্রষ্ঠ হয়ে যাবে তাই সহিহ ভাবে কোরআন বুঝতে হলে হাদিসের সহযোগিতা অবশ্যই প্রয়োজন।

আল কোরআনে এসেছে,

وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا 

‘আর রাসূল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে নিষেধ করে তা থেকে বিরত থাক।’ (সূরা: হাশর, আয়াত: ৭)।

কোরআনুল কারিম বুঝার পাশাপাশি তা নিয়ে চিন্তা ও গবেষনা করতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا

‘তারা কি কোরআন নিয়ে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?’(সূরা: মুহাম্মাদ, আয়া: ২৪)।

(৬) তার প্রতি আমল করা: কোরআনের ওপর আমল করার অর্থ কোরআনের অনুসরণ করা। কোরআন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা এবং তার আদেশ নিষেধ মেনে চলা। এ বিষয়ে কোরআনে নির্দেশ দেয়া হয়েছে,

اتَّبِعُواْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلاَ تَتَّبِعُواْ مِن دُونِهِ أَوْلِيَاء قَلِيلاً مَّا تَذَكَّرُونَ

‘তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাজিল করা হয়েছে তা অনুসরণ কর এবং তা ছাড়া অন্য অভিভাবকদের অনুসরণ করো না। তোমরা সামান্যই উপদেশ গ্রহণ কর।’(সূরা: আল আরাফ, আয়াত:৩)।

বিশিষ্ট সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) বলেন,  আমরা যখন নবী (সা.) হতে দশটি আয়াত গ্রহণ করতাম, তখন এই দশটি আয়াতের ইলম ও আমল না শিখা পর্যন্ত পরবর্তী দশটি আয়াত শিখতাম না। (শরহে মুশকিলুল আসার: ১৪৫০)।

(৭) কোরআন প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করা: কোরআনের প্রচার, প্রসার ও তা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা কোরআনের অন্যতম হক। নিজ ব্যবস্থাপনায় কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন, কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা, হিফজ প্রতিযোগিতা, তাফসীর প্রতিযোগিতা, মকতব চালু করা, বিভিন্ন এলাকায় কোরআনের মুয়াল্লিম নিযুক্ত করা, কোরআন বিতরণ করা, কোরআনের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত সংস্থাকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা এই কাজের অন্তর্ভুক্ত। সর্বোপরি সমাজে কোরআনের বিধান প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। 

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَأَنْ أَتْلُوَ الْقُرْآنَ فَمَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ وَمَن ضَلَّ فَقُلْ إِنَّمَا أَنَا مِنَ الْمُنذِرِينَ

‘এবং যেন আমি কোরআন পাঠ করে শোনাই। পর যে ব্যক্তি সৎপথে চলে, সে নিজের কল্যাণার্থেই সৎপথে চলে এবং কেউ পথভ্রষ্ট হলে আপনি বলে দিন, আমি তো কেবল একজন ভীতি প্রদর্শনকারী।’ (সূরা: আন-নামল, আয়াত: ৯২)।

অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন,

يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ 

‘হে রাসূল তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার নিকট যা নাজিল করা হয়েছে, তা পৌছে দাও’। (সূরা: আল-মায়িদা, আয়াত: ৬৭)।

শেষ কথা: পৃথিবীতে মানব হিতৈষী একমাত্র গ্রন্থ হলো ‘আল কোরআন’।

আল্লাহর বাণী,

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاء وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ وَلاَ يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إَلاَّ خَسَارًا

‘আমি কোরআনের এমন বিষয় নাজিল করি যা সুচিকিৎসা এবং মুমিনদের জন্য রহমত। গোনাহগারদের তো এতে শুধু ক্ষতিই বৃদ্ধি পায়।’ (সূরা: বানী ইসরাঈল, আয়াত: ৮২)।

আল কোরআনই ব্যক্তিগত,পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রিয়, আন্তর্জাতিক জীবনকে নির্বিশেষে একটি সুসময়, শান্ত এবং সুস্থ পৃথিবী গড়ার কারিগর। আল্লাহ তায়ালা আমাদের কোরআন বুঝার ও তার ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সংগ্রহে: প্রিয়ম হাসান

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে