১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭; ৯:২২
Advertisement
শিরোনাম:
জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বিজয় দিবস উদযাপন শুরু মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে লাইফ সার্পেটে
শিরোনাম:
জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বিজয় দিবস উদযাপন শুরু মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে লাইফ সার্পেটে...

মুখ খুললেন মেয়র রুকন

 নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৫৪, ৫ অক্টোবর ২০১৭

আপডেট: ১৮:২৭, ৫ অক্টোবর ২০১৭

১০২০২ বার পঠিত

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

‘গাড়িতে তোলার পরপরই ওরা আমাকে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করে। এরপর বলতে থাকে তোকে মেয়রগিরি শেখাব। বেশি বেড়ে গেছিস। ওরা গালমন্দ করতে থাকে। অস্ত্র হাতে সংখ্যায় ওরা ছিল পাঁচজন। মুহূর্তের মধ্যে জোর করে কিছু খাইয়ে দেয়। এরপর আর কিছু মনে নেই। পরে শুনেছি মৌলভীবাজার থেকে উদ্ধার হয়েছি।’

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর গতকাল বুধবার একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন জামালপুরের সরিষাবাড়ীর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রুকুনুজ্জামান রুকন। অপহূত হওয়ার পর এই প্রথম গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুললেন তিনি।

মেয়র রুকন বলেন, কয়েক দিন ধরেই অনেকের কাছ থেকে তিনি হুমকি-ধমকি পাচ্ছিলেন। কেউ মৃত্যুর ভয় দেখাচ্ছিলেন। সরিষাবাড়ীর বাসিন্দা ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে রেসি হুমকি দিয়ে আসছিল। সম্প্রতি রফিকের একটি ঠিকাদারি লাইসেন্স নতুনভাবে নিবন্ধন করা নিয়ে তার সঙ্গে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। আয়কর ফাইলে ঘাপলা থাকায় তার লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। কথা কাটাকাটিতে মেয়র তাকে চড় মেরেছিলেন। এরপর থেকে রফিক প্রকাশ্যে বলে বেড়ায় মেয়রকে বড় ধরনের ঝামেলায় পড়তে হবে।

এ ছাড়া সাবেক দেহরক্ষী মারুফ পল্লবকে বরখাস্ত করেন মেয়র রুকন। মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে মেয়রের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন মারুফ। পৌরসভা থেকে মুম্না নামে একজনকে দুর্নীতির কারণে বরখাস্ত করা হয়েছিল। রুকনের ধারণা, তার অপহরণের পেছনে তাদের হাত থাকতে পারে। কিছু দিন ধরেই নানা শঙ্কা তার মনের মধ্যে উঁকি দিচ্ছিল। তাই তিনি ফেসবুকে মৃতু্যর শঙ্কা প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দেন।

সরিষাবাড়ীর মেয়র রুকন আরও বলেন, একটি পক্ষ তার অপহরণের ঘটনা ভিম্ন খাতে নিয়ে পারিবারিক বিষয়গুলো টেনে আনছে। তার বিয়ে ও পরিবার নিয়ে নানা গুজব ছড়াচ্ছে। এসব গুজব ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। মেয়র চাচ্ছেন, কারা অপহরণকারী তা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বের করুক। প্রকৃত সত্য সবাই জানুক। অপহরণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে তার পরিবারকে জড়িয়ে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

রুকন আরও বলেন, রাজনৈতিক কোনো প্রতিপক্ষ ঈর্ষাল্প্বিত হয়ে তাকে অপহরণ করতে পারে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে যারা তার ভাই ও স্ত্রীকে জড়াচ্ছেন তারা ভিত্তিহীন কথা বলছেন বলে তার দাবি। এসব নোংরা বিষয় নিয়ে কথা বলতে চান না তিনি। তিনি হাসপাতাল থেকে পালিয়েছেন, এমন গুজবও ছড়ানো হয়েছে। যারা এসব করতে পারে তাদের ব্যাপারে পুলিশকে অবহিত করেছেন মেয়র।

২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর উত্তরা থেকে `অপহরণের` দু`দিন পর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালীঘাট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে বিধ্বস্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে প্র্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গত মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে বাসায় যান তিনি।

এদিকে `অপহরণ`-রহস্য উদঘাটনে গতকাল বুধবার উত্তরার বাসায় গিয়ে মেয়রকে জিডির তদন্ত কর্মকর্তা প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এর আগে মঙ্গলবারও পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের একটি দল উত্তরা-পশ্চিম থানায় ডেকে নিয়ে রুকনের সঙ্গে কথা বলে। অপহূত হওয়ার পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ রুকনকে জিজ্ঞাসাবাদ করল। পুলিশের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র সমকালকে এই তথ্য নিশ্চিত করে।

জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণকারীদের ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া না গেলেও কিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ। মেয়র রুকন জানান, তাকে নানা সমস্যা ঘিরে ধরছিল। তাই ফেসবুকে মৃতু্যর শঙ্কা প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অপহরণের ঘটনায় দায়ের জিডির তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা-পশ্চিম থানার পরিদর্শক আবদুর রাজ্জাক বলেন, প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মেয়রকে আবারও ডাকা হবে।

কেন ফেসবুকে মৃত্যুর শঙ্কা প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিলেন এমন প্রশ্নে মেয়র জানান, `খুব অল্প বয়সে মেয়র হয়েছি। এলাকার নানা সমস্যা চলছিল। এসব নিয়ে মানসিক অবস্থা অস্থির হয়ে ওঠে। এ কারণে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি।`

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেয়র রুকনকে উত্তরায় বাসায় তার ভাই দেখাশোনা করছেন। দুই স্ত্রীর কেউ মেয়র রুকনের কাছে নেই।

পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, মেয়র রুকনের অপহরণের পেছনে চারটি কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। সেগুলো হলো- পারিবারিক, রাজনৈতিক, আর্থিক ও ব্যক্তিগত। উত্তরায় তার বাসার সিসিটিভির ফুটেজও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে- কখন কারা তার বাসায় ঢুকতেন।

মেয়র রুকন এক সময় বিএনপির রাজনীতি করতেন। বছর তিনেক আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে একই দল থেকে প্রার্থী হয়ে সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতিও তিনি। মেয়রের প্রথম স্ত্রী সরিষাবাড়ী সাতপোয়া শহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। ছয় মাস আগে মেয়র তার বড় ভাইয়ের শ্যালিকাকে ঢাকায় বিয়ে করেন। মাস দু-এক আগে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর সড়কের একটি ভাড়া বাসায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন মেয়র। তার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি প্রথম স্ত্রীসহ পরিবারের অনেকে জানতেন না। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিক কলহ তৈরি হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/ এআর

সর্বাধিক পঠিত
ওপরে যেতে