Alexa মুক্তিযুদ্ধকে জানতে বই কিনুন

ঢাকা, রোববার   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৩০ ১৪২৬,   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

মুক্তিযুদ্ধকে জানতে বই কিনুন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৫:০৯ ২৯ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৬:০০ ২৯ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ক্যাফেটেরিয়ায় একটি গাড়িকে ঘিরে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীরা। কেউ দাঁড়িয়ে আছে, কেউ আবার বসে বই পড়ছে। কয়েকজন বই দামদর করছে। 

শ্রাবণ প্রকাশনীর ‘মুক্তিযুদ্ধের ভ্রাম্যমাণ বইমেলা’ গাড়ি এটি। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে বই কিনছেন তরুণ শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কেও তথ্য রয়েছে প্রতিটি বইয়ে। 

‘ইতিহাস ধরবো তুলে বই যাবে তৃণমূলে’ এই স্লোগানকে সামনে নিয়ে শ্রাবণ প্রকাশনী ও বইনিউজের আয়োজনে গত ৮ ডিসেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা শহর, উপশহর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা বইভর্তি গাড়ি নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে ভ্রাম্যমাণ বইমেলার গাড়ি। 

একাত্তরের দিনগুলি, আমি বীরাঙ্গনা বলছি, বীরাঙ্গনার জীবনযুদ্ধ, ফিরে দেখা একাত্তরসহ পাঁচ শতাধিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-সংবলিত বই নিয়ে সাজানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ বইমেলার গাড়ি। 

মুক্তিযুদ্ধের নির্বাচিত বইগুলো ২০ শতাংশ কমিশনে এ মেলায় পাওয়া যাবে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় ভ্রাম্যমাণ বই মেলা। সোমবার দুপুরে ভ্রাম্যমান বইমেলা পরিদর্শন করে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর মো. সিরাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ এই বইমেলা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটা বড় সুযোগ বই পড়ার। এই বইমেলার বেশিরভাগ বই মুক্তিযুদ্ধনির্ভর। ছেলে-মেয়েদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ইতিহাস জানতে এরকম বইমেলা সত্যি খুব দরকার। 

মুক্তিযুদ্ধ তথ্য সম্পর্কিত শতাধিক বই নিয়ে ভ্রাম্যমাণ বই মেলা করার জন্য শ্রাবণ প্রকাশনীকে ধন্যবাদ জানাই। এ ধরনের বই পড়ে তরুণ শিক্ষিত সমাজ মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে ও আগামী প্রজন্মকে জানাতে পারবে। এ ধরনের মেলা মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে করার জন্য কর্তৃপক্ষকে স্বাগত জানাই।

সাভার আণবিক শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে মাভাবিপ্রবিতে শিক্ষা সফরে এসেছেন শতাধিক শিক্ষার্থীরা। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে তারাও এই বইমেলা থেকে বই ক্রয় করছেন। 

তাদের মধ্যে একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী হাসিব মীর বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইগুলো লাইব্রেরিতে খুব কম পাওয়া যায়। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে আমি একটি বই ক্রয় করেছি। কয়েকটি পাতা পড়ে আমি অনেক তথ্য পেয়েছি।

অপর শিক্ষার্থী হোসাইন সাদাব বলেন, আমি সময় পেলেই বই পড়ি। তবে এতো তথ্য সম্বলিত বই কখনো আমার চোখে পড়েনি। তাই আমি দুটি বই ক্রয় করেছি। বইগুলো পড়ে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আমার অনেক জ্ঞান হবে।

মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ বই মেলা দেখেছি। ‘মুক্তিযুদ্ধের ভ্রাম্যমাণ বইমেলা’ এই প্রথম দেখলাম। আমি একটি বই ক্রয় করেছি। 

শ্রাবণ প্রকাশনীর বিপণন ব্যবস্থাপক শেখ ফরিদ বলেন, আমরা এ পর্যন্ত কয়েকটি জায়গায় ভ্রাম্যমাণ বই মেলা  করেছি। টাঙ্গাইলে এসেও আমাদের খুব ভাল লাগছে। এখানেও অনেক বই বিক্রি করেছি। তবে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে তরুণরাই বেশি বই কিনছে।

শ্রাবণ প্রকাশনীর প্রকাশক বলেন, এর আগে আমরা বঙ্গবন্ধুর বই নিয়ে ভ্রাম্যমাণ মেলা করেছিলাম। এখন সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ মুক্তিযুদ্ধের বইমেলা।

শুধু বই বিক্রির উদ্দেশ্যে না এটা আমাদের একটা আন্দোলনের মতো। বই পড়ানোর আন্দোলন। বইকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আন্দোলন। আমরা দেখেছি বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণ প্রজন্ম বই কেনায় আগ্রহী হয়ে উঠছে। তারা বই কিনছে। এই যে পাঠক তৈরি করা। এই আন্দোলনটাই আমরা ছড়িয়ে দিতে চাইছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস