Alexa মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে একঘরে করার আহ্বান

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২২ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৭ ১৪২৬,   ২৩ সফর ১৪৪১

Akash

মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে একঘরে করার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৫ ১৫ মে ২০১৯   আপডেট: ১৫:৩৮ ১৫ মে ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন ও অন্যান্য সহযোগীতা বন্ধ করে তাদের একঘরে করতে বিশ্বের সব দেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘ মিশন এ আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা মিয়ানমারের শীর্ষ জেনারেলদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে। খবর- রয়টার্স।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সন্ত্রাসবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের নামে শুরু হয় নিধনযজ্ঞ। তখন ধারাবাহিকভাবে হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হতে থাকে। 

ওই সময় জাতিগত নিধনযজ্ঞের ভয়াবহতায় জীবন ও সম্ভ্রম বাঁচাতে রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। আগে থেকে উপস্থিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১০ লাখ।

এর আগে গেল বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের একটি মিশনে ‘গণহত্যার উদ্দেশ্যেই’ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ওই অভিযান চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।  ওই অভিযোগ মিয়ানমারের সরকার উড়িয়ে দেয়।  করা এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। দেশটির শীর্ষ জেনারেলদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর আহ্বানও প্রত্যাখ্যান করা হয়।   

জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসম্যান জানায়, পরিস্থিতি আগের মতোই আছে। জাতিসংঘ মিশনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে সামরিক বাহিনী সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর ওপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় চাপিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর।

জাতিসংঘ মিশনের সদস্য অস্ট্রেলীয় আইনজীবী ক্রিস্টোফার সিদোতি জানান, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত কিংবা রাখাইন সংকট মেটাতে মিয়ানমারের চেষ্টার প্রমাণ পাননি তারা।

তিনি বলেন, অতীত থেকে এখনো চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিকে নজর দেয়া জরুরি। আমরা এর সঙ্গে কে এবং কারা জড়িত তা চিহ্নিত করে তাদের অর্থপ্রবাহ বিচ্ছিন্ন করতে চাই। যেন তাদের ওপর চাপ তৈরি হয় এবং সহিংসতা কমে যায়।

জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থা বর্মি বাহিনীর এই সামরিক অভিযানকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ ও গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার নামে মানবাধিকার পরিষদের নতুন গ্রুপের কাছে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন তুলে দেবে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া স্থাপনে এই গ্রুপটি তৈরি করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও তিক্ত সম্পর্ক তৈরি হয়েছে মিয়ানমারের। তাদের ওপর আবারো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। 

এদিকে রাখাইন অভিযানে জড়িত সামরিক সদস্যদের সব ধরনের মার্কিন সহায়তা থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিছু সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে ব্রিটেনও। জাতিসংঘসহ অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠন আহ্বান জানিয়েছে যেন অন্যান্য দেশও সামরিক বাহিনীকে দায়ী করে ব্যবস্থা নেয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী/জেডআর