.ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৪ ১৪২৫,   ১২ রজব ১৪৪০

মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ছে, তবু পক্ষে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ০৯:৩১ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭   আপডেট: ১৫:৫১ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা নিধন ও নিপীড়ন বন্ধে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। জাতিসংঘের হিসাবেই গত কয়েক দিনে ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে; স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ অন্যান্য সংস্থার মতে সংখ্যাটি লক্ষাধিক হতে পারে। নিপীড়ন অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গার স্রোত এখনো অব্যাহত রয়েছে। এর পরও মিয়ানমারের প্রতি চীনের অব্যাহত সমর্থন রয়েছে এবং গতকালও তাদের একজন বিশেষ দূত মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেছেন। এদিকে বাড়ছে আন্তর্জাতিক চাপও। মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্ক। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার সরকারের ভূমিকার সমালোচনার মিছিলে যোগ দিয়েছেন নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজাইসহ আরো অনেকে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ মঙ্গলবার মিয়ানমার সফরে যাচ্ছেন।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো গত রবিবার তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদিকে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে মিয়ানমার পাঠিয়েছেন। মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিসহ সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে আজ মঙ্গলবার তিনি ঢাকা আসবেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আজ রাতেই তার ঢাকা ছাড়ার কথা।

বিবিসি জানায়, বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তান মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। দেশগুলো বলেছে, মিয়ানমারকে দ্রুত রোহিঙ্গা সংকট নিরসন করতে হবে। একই আহ্বান জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি। তিনি গতকাল মিয়ানমারে দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার দেশের এই অবস্থান তুলে ধরেন।

মালদ্বীপ বলছে, তারা মিয়ানমারের সঙ্গে সব রকম অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে যাচ্ছে। মধ্য এশিয়ার কিরগিজস্তানে মিয়ানমার ফুটবল দলের সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ক্রমবর্ধমান মৃত্যু এবং ব্যাপক হারে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী পাকিস্তানি তরুণী মালালা ইউসুফজাইও পাকিস্তানকে বাংলাদেশের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, খাদ্য ও শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নজিব রাজাক রোহিঙ্গাদের দুর্দশায় উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন।

বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সহিংসতাবিষয়ক খবর ‘সেন্সরশিপ’-এর অভিযোগে বিবিসি মিয়ানমারের টিভি স্টেশন এমএনটিভিকে সংবাদভিত্তিক প্রগ্রাম সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। রাশিয়ার ইংরেজি টিভি আরটির অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের প্রতিবাদে রাশিয়ার চেচেন প্রজাতন্ত্রের রাজধানী গ্রজনিতে গতকাল এক সমাবেশে লাখ লাখ লোক অংশ নেয়। বিক্ষোভ হয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায়ও।

এদিকে ঢাকার একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের জন্য ‘নিরাপদ অঞ্চল’ (সেফ জোন) গড়াসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব বিভিন্ন মহল থেকে উঠছে। তবে বাংলাদেশ মনে করে, রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল অবশ্যই মিয়ানমারেই হওয়া উচিত। কারণ রোহিঙ্গা সমস্যার উৎপত্তি ও সমাধান দুটিই মিয়ানমারে।

বিবিসি জানায়, নরেন্দ্র মোদির মিয়ানমার সফরে রাখাইন প্রদেশের সহিংসতা ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনা হবে। তবে ভারতের এক কর্মকর্তা বলেছেন, নিরাপত্তা ও মানবিকতার ইস্যুগুলোতে আলোচনার পাশাপাশি তাঁরা রাখাইন অঞ্চলে সামাজিক উন্নয়নেও জোর দিচ্ছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নেতাদের ফোন করে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ মাসে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও তিনি বিষয়টি তুলবেন বলে জানিয়েছেন।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৩০টি চৌকিতে সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলার পর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী নতুন করে অভিযান শুরু করে। এরপর হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশের দিকে আসতে শুরু করে। বাংলাদেশ সীমান্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলেও ২৫ আগস্ট থেকে দেড় সপ্তাহে অন্তত ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে বলে জাতিসংঘ গতকাল সোমবার জানিয়েছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সংখ্যাটি ৯০ হাজার। ঢাকা এখনো মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। গত ২৭ ও ২৮ আগস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের হেলিকপ্টার আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত শুক্রবার মিয়ানমারকে কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়ে বাংলাদেশ এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, রাখাইন রাজ্যের সমস্যা সমাধানে আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও সমর্থন রয়েছে। তবে চীনের মতো শক্তিধর দেশগুলোর মিয়ানমারের প্রতি অন্ধ সমর্থন পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিয়ে কথা বলতে ইন্দোনেশীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন মিয়ানমার সফর করছেন; ঠিক তখনই সেখানে রোহিঙ্গা জঙ্গিগোষ্ঠী ‘এআরএসএ’র হামলার নিন্দা জানাতে সফর করছেন চীনের বিশেষ দূত সান গোসিয়াং। তিনি গতকাল নেপিডোতে দেখা করেছেন মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউ মিন্ট সুয়ের সঙ্গে। সে সময় তিনি রাখাইন রাজ্যে ‘এআরএসএ’র হামলার নিন্দা জানান।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে রাখাইন রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মিয়ানমারের উদ্যোগকে সমর্থন জানান।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গত বুধবার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পর ইয়াঙ্গুনভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম ইরাবতিডটকমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘মিয়ানমারের নেতাদের উদ্বিগ্ন হয়ে ঘাম ঝরানোর কোনো কারণ নেই। তাদের একটি শক্তিশালী বন্ধু চীন আছে। উর্দি পরাই হোক বা নির্বাচিত বেসামরিক সরকারই হোক—যার নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হোক না কেন চীন তার দক্ষিণের প্রতিবেশীর (মিয়ানমারের) প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ রাখাইন রাজ্যের সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে। তবে জাতিসংঘে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ম্যাথু রায়কর্টের ভাষ্য, নিরাপত্তা পরিষদ এখনো স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি’কেই সমর্থন করছে। ’

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, গত সপ্তাহে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি প্রস্তাব গ্রহণে বাধা দিয়েছে চীন। যুক্তরাজ্যের অনুরোধে রোহিঙ্গা ইস্যুতে রূদ্ধদ্বার বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে রাখাইন রাজ্যে ত্রাণকর্মীদের প্রবেশের অনুমতি দিতে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে চীন বাধা দেয়। এরপর জাতিসংঘ রাখাইনে ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

জানা গেছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য চীনের কোনো সাড়া পাচ্ছে না বাংলাদেশ। গত বুধবার ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশেদ আলমের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের সমর্থন চাওয়া হয়। জবাবে চীনা রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমেই বাংলাদেশকে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। চলতি বছরের শুরুতেও বাংলাদেশ মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন প্রত্যাশা করে। এর পর চীনা বিশেষ দূত সান গোসিয়াং ঢাকা সফরকালে যে বার্তা দেন তাহলো—রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যাক তা চীন চায় না।

এরই মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আজ মিয়ানমার যাচ্ছেন। এর প্রাক্কালে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন বলেছেন, ‘সম্প্রতি যে সহিসংতা চলছে, তখন আমাদের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে ও সঠিক তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, কফি আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নকে মিয়ানমার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে বলে ভারতকে তারা জানিয়েছে। এই সফরে রাখাইন রাজ্যের সমস্যা সমাধানে ভারত আরো কী কী সাহায্য করতে পারে, সে ব্যাপারে আলোচনা হবে। রঙ্গনাথন বলেন, রাখাইন রাজ্যে সমস্যার যেমন নিরাপত্তার দিক আছে, তেমনি আছে মানবিকতা ও সামাজিক উন্নয়নের ইস্যু। সেগুলোর কোনোটিকেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে মনে করে ভারত।

রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার দাবিতে ইন্দোনেশিয়ায় ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভের মধ্যে গত রবিবার জাকার্তায় মিয়ানমার দূতাবাসে হাতবোমা হামলা হয়। এর পর পরই ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মিয়ানমারে পাঠানোর ঘোষণা দেন। ইন্দোনেশীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে, রোহিঙ্গা নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ করতে ইন্দোনেশিয়া মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানাবে। একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া সেখানে ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর সুযোগ চাইবে। গত ডিসেম্বরেও ইন্দোনেশিয়া অনুরূপ উদ্যোগ নিয়েছিল এবং দৃশ্যত তা দীর্ঘমেয়াদি ফল আনেনি।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট গত বৃহস্পতিবার রাতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে বর্তমান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিরাজমান পরিস্থিতি ও সেখানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চলমান নিপীড়ন ও মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এ যাবৎকালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় এবং চলমান সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের প্রতি তুরস্কের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি রাষ্ট্রপতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এ বিষয়ে তুরস্কের নেওয়া পদক্ষেপগুলো অবহিত করেন। রোহিঙ্গা সমস্যাটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামের আলোচনায় উপস্থাপনে তুরস্কের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলেও এরদোয়ান আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে টেলিফোন আলাপ ও বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি অত্যাচার ও দমন-পীড়নের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের নেওয়া পদক্ষেপগুলো অবহিত করেন। তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি অনুযায়ী মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা মুসলিমদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দিচ্ছে। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অবস্থানের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পরিবেশগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ তাদের খাদ্য, বাসস্থান, ওষুধ, শিক্ষা ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। রাষ্ট্রপতি সহিংসতা থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে মিয়ানমারের সাধারণ নাগরিকদের জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জাতিসংঘ, ওআইসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তুরস্কের অব্যাহত সহায়তা কামনা করেন এবং তুরস্কের ভবিষ্যৎ সহায়তার অভিপ্রায়কে স্বাগত জানান।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ